৩০ নভেম্বর, ২০২৫
যারা শুধু দিয়ে গেল
যারা শুধু দিয়ে গেল

কথা বলত না৷ শুধু আপন মনে আওড়ে যেত … “তুমি যদি চলেই যাবে তবে এ বন্ধন কিসের তরে!" রাতকে রাত জেগেই কাটাত৷ কাছে গেলে বিরক্ত হোত৷ তবুও ওর সঙ্গে আমি সারারাত জেগে থাকতাম৷ এভাবে অন্ধকারে বসে থাকা, ঘুমে ঢলে পড়া বা সারারাত জেগে থাকা দেখে হয়তো ওনার করুণা হোত৷ তাই কোনো কোনো দিন বারণ করলেও আমি শুনতাম না৷ এভাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তোর বাবার সাথে আমার দূরত্বটাও কমতে থাকে৷ ধীরে ধীরে তোর বাবাও স্বাভাবিক হয়ে উঠল। সংসার জীবনেও জড়িয়ে পড়ল৷ কিন্তু তোর জন্মের ঠিক চার বছরের মাথায় হঠাৎ শহর ছেড়ে অনেকটা দূরে তোর বাবা আর আমি ওঁকে আবিষ্কার করলাম!... মেদিনীপুরের এক অখ্যাত স্টেশানে ফেলে দেওয়া জঞ্জালের মাঝে প্রায় অর্ধ উলঙ্গ মিলি পিসি কী যেন খুঁজে চলেছেন! ওই অবস্থায় উনি কিন্তু তোর বাবাকে ঠিক চিনতে পেরেছিলেন, 'তুমি নিলয় না! খবরদার তোমার বউ আমার বোনের মতো... ওর ক্ষতি আমি করতে দেব না! যাও যাও এখান থেকে চলে যাও৷' পিসিকে এই অবস্থায় দেখে তোর বাবা ভীষণ ভেঙে পড়ল, আমারও মায়া হল৷ অনেকের সাহায্য নিয়ে ওঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনলাম৷ ততদিন তোর দাদু দিদাও মারা গেছেন৷ ডাক্তার দেখিয়ে সুস্থ করার পর উনি যখন জানতে পারলেন.… আমাদের বাড়িতে এসে উঠেছেন তখন কিন্তু উনি ফিরে যেতেই চেয়েছিলেন৷ শুধু আমার একান্ত অনুরোধে তোর মিলিপিসি সেদিন থেকে গিয়েছিলেন৷ তারপর একান্ত নির্জনে ওই বাগান বাড়ির ছোট্ট কুঠুরিতে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন আমৃত্যুI কখনো তোর বাবার মুখের দিকেও তাকাননি৷ হয়তো অনেক অভিমান ওর বুকের মধ্যে মেঘ হয়ে জমে ছিল৷ যে মেঘ কখনো বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ার সুযোগ পায় নি! আর সুযোগ পায় নি বলেই তাকে এমন অভিমানী মেঘ হয়েই চিরকালের মতো বিদায় নিতে হল!…. বলতে বলতে সুমনার দু'চোখ বেয়ে কয়েক ফোঁটা অশ্রুবিন্দু শীতের শিশিরের মতো টুপটুপ করে ঝরে পড়ল। সদ্য যৌবনে পা দেওয়া ঋজুও বুঝল, কেন বাবার এমন নীরব অশ্রু মোচন, এমন আকুল হয়ে ভেঙে পড়া!

সংশ্লিষ্ট পোস্ট

সোয়েটার
অবিন সেন

সোয়েটার

গন গনে নীল শিখা মেলে গ্যাসের উনুন জ্বলছে। কেটলিতে জল সেই কখন থেকে ফুটে চলেছে। বাষ্প হয়ে অর্ধেক জল মরে গেছে। সেই দিকে কোনও খেয়াল নেই নীলার। সে একটা বেতের গদি মোড়া আরাম চেয়ারে বসে আছে। কিচেনটা ঢের বড়। প্রায় প্রমাণ সাইজ একটা ঘরের মতো। এখানে বসে উলের কাঁটায় শব্দ তুলে সোয়েটার বুনে যাওয়া তার একমাত্র বিলাসিতা। শীতের দিনে আগুনের এই উত্তাপটা কী যে আরামের, নীলা তা কাউকে বোঝাতে পারবে না। গ্যাসটা কতক্ষণ জ্বলছে সে দিকে তার কোনও খেয়াল নেই। চায়ের জল বসানোটা আসলে একটা ছুতো। শীতের রাতে আগুনের উষ্ণতাকে সে প্রাণ ভরে উপভোগ করে নিচ্ছে। গ্যাস পুড়ছে পুড়ুক। সেই নিয়ে সে মাথা ঘামায় না। তার স্বামী বিপুলের টাকার অভাব নেই। তারা বিশাল ধনী না হতে পারে কিন্তু এই সব সামান্য বে-হিসেবী খরচ করার মতো তাদের ঢের পয়সা আছে।

গল্প৭ মে, ২০২৪
এখানে আসবে না কেউ
রঙ্গন রায়

এখানে আসবে না কেউ

চেক - হ্যালো টেস্টিং - শুনতে পাচ্ছেন? শুনুন – জানালা দিয়ে হাওয়া ঢুকে গেল। ক্যালেন্ডারটা উড়ছে। দেওয়ালে ঘষটানির একটা শব্দ। পুরোনো বছর উড়ছে। আমি ৩১শে ডিসেম্বরে এসেই থমকে গেছি। বাইরে নতুন বছর চলছে, আমি পুরোনো বছরে। কীরকম অদ্ভুত লাগে। কাকতালীয় ভাবে দেওয়াল ঘড়িটাও বন্ধ। ব্যাটারি শেষ।

গল্প৭ মে, ২০২৪
অবনী বাড়ি আছো
পার্থসারথী লাহিড়ী

অবনী বাড়ি আছো

“আধেকলীন হৃদয়ে দূরগামী ব্যথার মাঝে ঘুমিয় পড়ি আমি সহসা শুনি রাতের কড়ানাড়া ‘অবনী বাড়ি আছ?”

গল্প৭ মে, ২০২৪