কবিতা
সকল পোস্টসমূহ

কয়েকটি কবিতা
সকল দ্বিধা। ফেলে দিয়ে আস্তে আস্তে চলে আসি অন্ধকারে।এভাবেও ফেরা যায়।ফেরা কি সম্ভব?সাধুসঙ্গ টেনে আনে গার্হস্থের তুমুল আলোয়।দড়ি দড়া ছিড়ে ভেঙে পাখিও কি ফিরতে পারে পরিচিত শাখের জঠরে?

দুটি কবিতা
একা যে হাঁটছ যুবক এ বন পছন্দ বুঝি, ক'দিন এসেছ আগে শুনি বসো হেলান দিয়ে এই ফাল্গুনের ধ্বনি আর আগুনের পাশে বসে শুনি তোমার কথা সব

একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......
ছেড়ে দেওয়ার পরেও কেমন যেন সে নয়ন আপন নয়ন হয়ে থাকে। কাছে থাকলে যদি অখিল স্রোতের বিড়ম্বনা আসে, একসময়ের পরিচিত একান্ত সংকেতগুলো হঠাৎ ঝড়ের মতন আবছা হয়ে আসে, ছেড়ে দেওয়ার পরেও সে কেমন একটা শিউলি শিউলি গন্ধ এই অবেলাতেও সারা গায়ে লেপ্টে রাখে,

দুটি কবিতা
কিছু কিছু বিষাদের সাথে আনন্দও বুক পকেটে রাখি ব্রহ্মপুত্রের মত একাকী বিবর্ণ হাওয়ায় সচকিত

দুধারে ঈশ্বর
একটি প্রাণবন্ত ফুঁয়ে একরাশ আঙুল এ কেমন বিমল ফুল নীল হাত নেড়ে বলে প্রজাপতি ছেলেবেলা তার ক্যাপশন

চিঠি
ফিরে আসা চাঁদের উসকানি ঢুকে যাচ্ছে মাথার ভেতর মেঘের হাত ধরে পাথর খুঁজতে যাব তোমার কিনারে।

গণিত, অথচ
অ্যাম্বুলেন্সের ডালা খোলা আছে গাছের শরীরে অন্য গাছের ছায়া তবু ওভারল্যাপ এইসব দৃশ্যভাবনার পাশে ঠোঁট, বরফ, বরফ কঠিন ঠোঁট গল্প বদলে যাচ্ছে

দুটি কবিতা
ব্যাপার তো নিশ্চই আছে। কাছে টানা নিদারুন নদী। সরল ঝরাচ্ছে তার চোখ।হাসি কান্নার চুলচেরা।বেখেয়াল শিশুসুলভ ।মোহনায় চিবুক নেমেছে।

মান্দার আগুন
কালো খাতার পাতার উপরে প্রলয় ঝড়, সেখানে যে বনান্ত, আমায় ডাকে, ছাইভস্ম আমায় ডাকে।

দুটি কবিতা
সম্মুখে আমিও ধূলিকনা- বন ও বনান্তরে গাছেদের আটপৌরে জীবন বেদ, কিংবা আলোকবর্ষ পেরিয়ে সন্ধানী কানাঘুষো এক শূন্য আকাশ আর শূন্যর ছয়লাপ খামেভরা মন কুয়োতে হাঁসফাঁস।

কাকন রেজার দুই কবিতা
একটা দুরন্ত নদী পুষে রাখি বুকের মধ্যখানে কবে জানি পাড় ভাঙে অভিমানে ২ উপচে পড়ছে পাড় ভেঙে পানি; মিমি বলে, জল পরিভাষা যা হোক, পড়ছে তো অবিরল

কিশোর কাহিনি
সেই বাড়ীটা কখনই ডিঙ্গানো হয়নি শুধু ফটকে দাড়িয়ে দেখেছি সুদৃশ্য স্বপ্নের দারুচিনি জানালার পর্দার সাথে উড়েছে ঈর্ষাকাতরতার ভেতর এক কিশোরের কাছে মায়াবী এক শহর

কয়েকটি কবিতা
প্রয়োজনে পাতা ঝরানোর নাম বৃক্ষ সে পাঁজরে আটকে রাখে পৃথিবী পৃথিবী বললে সমুদ্র না দেখি বৃক্ষ আর মাটির কাহিনী।

ছবি আঁকার স্কুল
পাড়ার প্রাইমারি স্কুলে ছুটির দিনে ছবি আঁকা শেখায় নবকাকা সবাই ছেলে মেয়েকে আঁকা,কম্পিউটার, গান,নাচ,তবলা,ক্যারাটে পন্ডিত করতে চায় ছত্রাক রঙের সারি সারি হরেক রকমের পাঠশালা

দুটি কবিতা
যেভাবে বিরল থাকে আর আত্মহত্যার ছোট ছোট রাস্তা তৈরী হয় আমি জানি সমান্তরাল শুধুমাত্র পাশাপাশি বয়ে চলা নয়

বন্ধু
আমি তো বন্ধু নই - কোন বন্ধুর জন্য হাতড়ে বেড়াও ঘুমঘোরে এপাশ ওপাশ সারারাত গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে

দুটি কবিতা
প্রশ্নের আড়াল থেকে অল্প আলোতে তাকে বেরিয়ে যেতে দেখেছি কিছু নীচ অক্ষর মিলিয়ে গান বাঁধতে দেখেছি... তারপর থেকেই কালো রঙের ঘাস খায় বিবর্ণ বেড়ালটা জেগে ওঠে যাবতীয় ভুল পথ...

নতুনভাবে শিখে নাও
যাদেরকে তালুতে তুলে রেখেছি তাদের দেখলে তুমি শিউরে উঠবে, শুধু তাদের কথা বলব কেন এই সাক্ষাৎকারে, তুমিও বলো ভালো-মন্দ বা যা যা অন্যায় হয়েছে তোমার সাথে, বাড়িতে সবাই কেমন আছে,

শরীর
যে শরীর কামনা করি এখন পাগলাগারদের যৌনকেশ না কামানো পাগলের স্মৃতির মতো সেই শরীরও একদিন নাই হয়ে যায়।

কিছু অলিখিত বুদবুদ
মর্মরে আঁকা আলো মর্মে কুসুম করি আর বাঁচার তুমুলে-- মাঠে রুই মেঠো কারু-লতা !

দুটি কবিতা
পরিযায়ী কাকলির ভেতর থেকে এই সুমেরীয় গুঞ্জন বারবার এসে ফিরে ফিরে যায়

ওয়াহিদার হোসেনের তিনটি কবিতা
অস্ত্বিত্বের সবটুকু কিংবা অস্থির সবটুকু ঝাপ্সা ভাসিয়ে দিতে চাই পবিত্র স্রোতে

জ্যোতির্ময় বিশ্বাসের দুটি কবিতা
একা যে হাঁটছ যুবক এ বন পছন্দ বুঝি, ক'দিন এসেছ আগে শুনি বসো হেলান দিয়ে এই ফাল্গুনের ধ্বনি আর আগুনের পাশে বসে শুনি তোমার কথা সব চলচ্চিত্রের মতো, তখন আমাদের দেখানো হোক একটি মানুষের নিবিড়

দ্রাঘিমালণ্ঠন
নদীতে পলির ধ্বনি, সারারাত স্রোতের আঁচড় মেঘেরা শিথিল ঘুমে, উপকূলে হাওয়া মন্থর; যেখানে থেমেছি আজ, কতকাল সেখানে ছিলাম? মাটির গহনা দেশ, করেছিলো বেনিয়া 'নিলাম'!

বাতাসের স্পর্শে
এসো ছুঁয়ে যাও জল হয়ে দাগ হয়ে আমার যা কিছু আমার

গ্রীগ্রীঢংদয়ালদন্ডসং
মানুষ দেখি ... ভালোবাসতে পারার সক্ষমতা হারাচ্ছে মানুষ হারাচ্ছে মায়াময় উর্বরতা। জীবিত হৃদয়ে সময়ের প্রতিধ্বনি, প্রাপ্তির ব্যাকুলতা আকাঙ্খার আলোড়ন

আমার শহর
অহংকার ক্ষয়ে ঝরছে মূর্হুমূহু বিস্ফোরণে ব্যাকরণ ভেঙে চেতনা দ্যোতক রাত্রি কুকুরের মতো পায়ে পায়ে ঘুরছে কেবল

তৃতীয় সে পুরুষ জানে
আবহমান কাল তোমাকে দূরে সরিয়ে দিতে পারেনি, সে কোন তৃতীয় পুরুষ! সে কোন দেবতার মুখশ্রী যে আমার কল্পনার সমীরণ ভাঙাবে? ওষ্টাগ্রে বিষন্নতা নিয়ে ঘুরি, তোমার পাড়ায় চায়ের দোকানে আড্ডা দেই, হাহাকার মিশিয়ে দেই বাতাসের শব্দে

রঙ্গমঞ্চ
পাড়ায় রক্তকরবী নাটক হচ্ছে। বলল সবাই

নাফিসা মিদ্যার দুটি কবিতা
সাবধানতায় অভাব ছিল না জোগাড় ছিল বাছাই করা নামি দামি সুগন্ধির তবুও অকাঙ্খিত গন্ধটাই ছড়িয়ে পড়ল জলজ্যান্ত কলের পুতুল গুলো হঠাৎ নড়ে গেল বাঁধা পথ ছেড়ে দলে দলে মিশে গেল ভীড়ে

ফেরী হাতে তাকে ডাকি
ফেরী হাতে তাকে ডাকি সেই ছেড়ে আসছি আয়না, ধুলোয় আঁকো সাদা পথ হেটলাইটে চাপা পড়া বৃষ্টি বাকল অন্ধকার ভোর, পা-ধোয়া নরঘাট চর আমি ফেরী হাতে তাকে ডাকি পুরোনো ঠিকানায়।

রঞ্জন মৈত্রের দুটি কবিতা
প্রশ্ন উত্তর সব ঝ'রে গেলে ফাঁকা ফাঁকা স্কুল নো ম্যানস ল্যাণ্ডের গাছ শীত বসন্তের বিএসএফ কি যেন পাচার হবে নির্ধারিত আলোয় গুলি ছুটবে দ্রুত আর স্কুল হওলে হওলে ধরা পড়ার পথে পথে ছড়ানো লুজ শিট

কয়েকটি কবিতা
খতম তালিকার বাইরে যে দরবেশ গুচ্ছ বাতাস আমায় অক্ষর দেবে দেবে সোহাগচিহ্নের ছটফটে ঘর নাদানে ঝকঝকে টিউকল বসেছে সে পোশাক চেনায় সে সামন্ততান্ত্রিক

শিশির আজমের কবিতা
কোন মাইয়ালোক তোমার লগে নাই তো!' -কইলাম ওরে। 'আছিল একটা, ইয়াং আর কালো হাই-হিল জুতার। (এক আফ্রো-আমেরিকান গিটারিস্ট জুতাটা ওরে গিফ্ট করছে, কইলো তো তাই!) মিষ্টি কইরা তিনডা চুমা দিছি ওরে তারপর ঐ যে ব্রিজ দেখতাছ ধইরা নাও ওইটার নাম হাতিরঝিল হ্যা অর ওপর থিকা ধাক্কাইয়া ফাইলা দিছি

হেমন্তের পথ
মাছের প্রাণ, সন্ধ্যার জমাট ধোঁয়া, এটুকু আমাদের নিয়তির মধ্যে ধরা থাকবে, আর যে উঁচু অট্টালিকা আমাদের মিথ্যে বলতে শেখায় আমরা কোনোদিন তার মধ্যে থেকে বেরোতে পারি না, আমরা সবাই ভবিষ্যতের মাছের মতো লেজ ঝাপটাই, টোপ দিলেই গিলে খাই বিচার-বুদ্ধি ছাড়া

আবহ
যে পথ রোজকার দেখা,তার সামান্য দূরত্ব থেকে হাঁটু মুড়ে,চুপচাপ এই তাকিয়ে থাকা এ যেন নিজের ভেতর থেকে নিজেকে খুলে ফেলা

সাজ্জাদ সাঈফের তিনটি কবিতা
১. নিঃসঙ্গ : অচেনা পাখির শিস তাড়া করে বৈচিত্র্যে। বেড়ে উঠি তত্সম বোধে, মেঘের আদরে, মাতৃভাষায়! তারপর ঘাস ডুমুর ছড়ানো ঘাস ভিটার মাচানে ঘাস সমুদ্র সম্ভ্রমে কারো হৃদয় অংকন করে!

কোলাহল রঙের সংসার
কাঁপা কাঁপা হাতে কেউ যেন লিখে রাখে আমি ভালো নেই, মোটারাম এই দু:সময়ে কেউ ভালো নেই লাল

যে সময় স্থির হতে জানে না
ধন্যযোগ আপনাকে, আমাদের এভাবে সাহসী করে তোলার জন্য নইলে তো ভেবে নিয়েছিল সকলে ফসিল আমরা, সবেতেই বড় বেশি প্রসন্ন সিংহাসনে বসলে রাজা একবার পুজো দিই, পাদ্যঅর্ঘ, যেন ভগবান স্বর্গ থেকে নির্বাচিত, নেমেছেন দয়া করে

ভাত ঘুম ও শব্দ
(১) যেন সে সমবয়সি মাথা গুঁজে রাখে শিশুর ঘুমন্ত দরজার বন্ধ ঈশ্বরে । তাদের কাছেই হাজারও পাকস্হলী লুপ্ত হয়ে ফিরে আসে ।কি নিষ্ঠুরতায়? দুশো আড়াইশো বছর সুখী করে উনুন । তুষের আগুনে সেই বৃদ্ধ হাত পা গুটিয়ে বসেছিলো ।

কয়েকটি কবিতা
ঠিক একদিন উড়ে যাবে মায়া ফেলে,ছায়া ও খাঁচা ফেলে দূরে,বহুদুর যতটা বলে চিনিয়ে ছিল আকাশ বাতাস পৃথিবী মা মাতৃভূমি

দুটি কবিতা
একটানা কুয়াশার শব্দে জ্বলে ওঠে বাতিঘর আমরা অন্ধকার বিছিয়ে জড়ো করি কিছু বোবামুখ।

চারটি কবিতা
বিশ্বাসের প্রশাখায় ধোঁকার নীলাভ ফুল নিজস্ব মণিকর্ণিকায় হেরে যাই তোমার প্রথম দিন আর তোমার শেষ দিনের মাঝে সাতটি গিরগিটি

কয়েকটি কবিতা
নাভিতে ভীষন শীত।তোমার স্তনে আঙুল রাখি। ঘাড়ে হাত বোলাই ভাঁজ করা রুমালের মত। ক্লিভেজে ঘাম জমলে দেখতে পাই সক্রিয় তিল সঙ্গম অনেকটাই ডুবসাঁতার। বিবাহ মানে আংটি ও আঙুল। মধ্যরাতের সঙ্গম শেষ হলে হেমন্তের মাঠে বেজে ওঠে সা রে গা মা

এক শীতের সকাল ও আমার মা
এই মধ্য বয়সে শীতের সকাল এলে কুয়াশায় মোড়া মনের বারান্দায় শৈশবের বহু স্মৃতি এসে ভিড় করে। যে স্মৃতির অনেকটা অংশ জুড়ে ঢেকে আছে বেদনার ধূসরতাl একা হয়ে যাওয়ার বিপন্নতাI ভাবতে গেলে সবকিছু কেমন যেন দুঃস্বপ্নের মতোই মনে হয়। এখনকার মতো তখনকার সকাল তো আর দেরিতে আসতো না! সূর্য ওঠার আগেই তার ঘুম ভেঙে যেত। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা এর কোন ব্যত্যয় ঘটতো না। তখন ছোট বড় সবাই পাখি ডাকার সাথে সাথে জেগে উঠতো। শিশির স্নাত দুর্বাঘাস মাড়িয়ে মেঠো পথ ধরে তারা ছড়িয়ে পড়তো নানান কাজে। সেই শৈশবের সকালে আমরা যখন লেপের তলায় আধো জেগে আধো ঘুমে, মা তখন চুপিসাড়ে আমাদের উষ্ণ আরামকে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে সকালের শীত মেখে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন গৃহস্থালির কাজে । অন্যদিকে বাবা ছিলেন সম্পূর্ণ উদাসীন মানুষ। কচ্চিত কদাচিৎ তাঁর সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হতো। তবে সাক্ষাৎ হলে তিনি হাজার বছরের সুখ যেন একদিনেই মিটিয়ে দিতেনI সারাদিন আমাদের মতো হয়ে আমাদের সঙ্গে মিশে যেতেন। বোঝাই যেত না এই মানুষটাকে আমরা আমাদের জীবনে খুব কম পেয়েছি। তিনি কখন ফিরতেন কখন ঘুমাতেন, তা আমরা কেউ জানতেই পারতাম না।

কয়েকটি কবিতা
বহুদূরে একটা গাছের শরীরে ঘুমিয়ে পড়েছে চড়ুই তার দেহ জুড়ে ক্লান্ত অবস্বাদ ঘুমিয়ে পড়বার আগে কী ভেবেছিল পাখি? হয়তো তার মা অপেক্ষা করছে, অথচ ভাইয়েরা নবী ইউসুফের মতো তাড়িয়ে দিয়েছিল ঘর থেকে, গহীনে।

রেড রেইন (২)
“Art is not made to decorate rooms. It is an offensive and defensive weapon against the enemy.” পাবলো পিকাসো

দুটি কবিতা
তুমি সুদীর্ঘ মৌনতা নিয়ে / বিরান প্রান্তে একাকী ময়ূরী / ঘোর বরষায় / ভেঙে ভেঙে যায় ভরা বিকেল / খসে খসে পড়ে ফলবতী চাঁদ আর / সূর্য দহনে আমার জ্বালা পোড়া হয়/

দুটি কবিতা
পিকনিক বসেছে আলু কপির আই ডি ঘষে ঘষে পরীক্ষা এদিকটা কনভয় শুধু বালি বা বরফেই যুদ্ধ আটকে থাকে না আমার খিচুড়ির বালতিও ফুঁসে উঠছে অভিমান

দুটি কবিতা
আমার চোখে দেখো, গভীর চোখে- করুণ বনাঞ্চলে এক ফুল ফুটে আছে। উন্মুখ তবু চুপ,নৈঃশব্দে বনানীর বাড়ন তাই,ফুল ফুটার সুখেও সুর গান বারণ।

কয়েকটি কবিতা
এতটা নিখুঁত হলে চলে না কিছুটা খুঁত নিয়ে দিব্যি বেঁচে থাকা যায়। কখনো হাসির গমকে ব্যথার বাদ্য বেজে উঠলে কখনো সুরের গভীরে আরেক সুরের বোঝাপড়া হলে সহজেই মুছে ফেলা যায়- দৃশ্যবাহিত দিন।

কবিতা
এখনো সোনার মোহড়ায় জিতে যায় খাদ মুঠো ভর্তি অপহরণ।গণিকার আকাশ উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে আয়না ও আকাশের চোখের ঘর-দোড় এবং সোপার পেট ভর্তি হিরণ্ময় রক্তাক্ত ছুরি—মায়াবী চাহনি বিক্রি হচ্ছে। টেবিল জোড়া আত্মার চিৎকার,হাতের তালুতে ইচ্ছে হয়ে যাচ্ছে — কি অদ্ভুত ঈশ্বর...

বোবা অভিমান
পরিত্যক্ত প্ল্যাটফর্ম, কান্নাগুলো ঝুলে আছে খাদের কিনারে ।

ডিসেম্বর
ঘুড়ি বাজিয়ে এলো দোলনায় অভিমান ওড়ে

সৌভিক দত্তের দুটি কবিতা
গান ভাঙছো নদীর অথচ নদীর কোনও কৌতূহল নেই গান ভাবছো নদীর অথচ নদী চুপ করে আছে এসব ছড়াতে ছড়াতে

নীলাব্জ চক্রবর্তীর দুটি কবিতা
শরীরের ভেতর জমে যাচ্ছে কথা-অমনিবাস এই ক্রিয়া ক্রমে ঘ্রাণ হয়ে স্নায়ুতে বারবার রাবারছাপ ফ্রিজ হচ্ছে স্বাদু লংশট স্লো মোশানে আঙুল পড়ে নি

শূণ্য থেকে শুরু
মিথ্যে বুজরুকি আর অতিনাটকীয় এজলাস জিএসটি তে নাক উঁচু তবু কবজকুণ্ডলে গর্ব। পাবলিক খাচ্ছে ভালো দু টাকায় পেটে লাথ বোঝা কি বড়ই দায় শ্রী না হতশ্রী ?

দূরে যেতে পারিনি
দূরে যেতে পারিনি, তাই এই মানুষ আমি, কতো সহজে নীরবতা হেসে উড়িয়েছি একাই, বুঝে ওঠার বেশ আগে। আর এভাবে দিন-রাত শুধু আড্ডাতে কাটলো,

অর্ঘ্য রায় চৌধুরীর দুটি কবিতা
বিকেলের আলো পড়ে এলে আমাকে পাবে না আর বালকের দল যেখানে খেলতে গেছে সেইসব মাঠে আমিও তাদের সঙ্গে সামিল হবো

স্পর্শময়ী
তুমি এসে আচানক স্পর্শ দিলে ঠোঁট প্রদেশে, দেহ মানচিত্রের অলিতে-গলিতে...! তারপর ঝড় বইলো পা থেকে মাথা অবধি। প্রতিটি রোমকূপের গোড়ায়, শিরা-উপশিরায়, রন্ধ্রে রন্ধ্রে স্পর্শের নান্দনিক ছোঁয়ায় যেন দাউদাউ করে জ্বলে উঠল অদাহ্য আগুনের লেলিহান শিখা পিপাসায় কাতরাতে কাতরাতে লবণ সমুদ্রে ডুব দিলাম... ডুব দিতেই থাকলাম... দিতেই থাকলাম!

সঙ্গীতা মাইতির দুটি কবিতা
তোমার কানে দিলাম নপূরের নিক্কণ, কণ্ঠে কবিগানের ধুয়া তারপর হারিয়ে গেলাম মেঠো পথের ঘ্রাণে

মহাজাগতিক মৃত্যু
অভ্যাসের হাত প্রথম প্রথম খোঁজ খবর নিয়ে যায় ভালো মন্দের সৌজন্য আলাপ পরিচিত গল্পের স্বাদ

কাশফুল
কাশবনেতে কাশ ফুটেছে - তুমি সত্যিই মনোরম! কে যে তোমার পিতামাতা? তারাই বা কেমন?

শুধু একটা ভাষার জন্য
শুধু একটা ভাষার জন্য অচিন ওষ্ঠে অধর রাখা যায় শুধু একটা ভাষার জন্য অজ্ঞাত হাত ছুঁয়ে নিঃশঙ্ক থাকা যায়

দুটি কবিতা
দুপুরের বিপরীত মেঘের হুইসেল বেজেছে আজ স্মৃতি জমেছে—পাখি ও প্রার্থনার মতো। নিঃসঙ্গ কেবিন আর শাদা আলোর ভেতরে নিয়তির অন্ধকার ঘন হয়ে এলো আরও কোথাও জীবন অবমাননা করেছে নিজেকে।

শিশিরে ভেজা বর্ণমালা
রাজপথ এখনো সম্পূর্ণ শুকোয়নি— ফাগুন তার দহনময় কপালে কৃষ্ণচূড়ার লাল অক্ষর এঁকে শহরের ধমনিতে ছড়িয়ে দেয় রক্তিম স্পন্দন।

সঙ্গীতা মাইতির দুটি কবিতা
অকালসন্ধ্যা যেন লেগেছে ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে অজস্র নক্ষত্রের চোখ ঝুলে আছে তবু আমরা সেজেছি অন্ধ বাউল

অভিজিৎ সরকারের কবিতা
দূর থেকে তাকিয়ে আছো প্রিয় মানুষেরা হেসে যাচ্ছো দীর্ঘ প্রহর হেসে যাও, হাসতে হাসতে উপহাস করো আমায় নিয়ে,

পিয়াল রায়ের ৫টি কবিতা
রক্তারক্তি অগ্নিকাণ্ড খেলে যারা চলে গেছে আলো পরবর্তী গ্রহে ভালোমনে আজ তাদের ছুটি উদযাপন করো স্মৃতিভঞ্জন হোক

বাঘিনীর ডানা
এই জ্বলন্ত ঘরে আমি আর থাকতে চাই না, অথচ যারা ভালোবাসে আমায়, তারা এই আগুন দেখতে চাইছে না। পথের ধারে একটা বেঞ্চ, ওখানেই সবাই বিশ্রাম করে।

অভিযোগ
তারপর কি হয়? দু'কদম লজ্জা পায় ইতস্তত রাস্তা খোঁজে বেপাড়ারার এতিম বাচ্চারা

বাস্তব
মনে পড়ছে তোমাকে। ভূমিকম্পের শেষে ধ্বংসস্তূপ থেকে --- যে হাত টা বাড়িয়ে ছিলে। সেটা চাপা পড়ে গেছে , জরাজীর্ণ পুরোনো সভ্যতার অবশেষে।

তৃপ্তি
তুমি যতই কাছে আসো -- ততই সরতে থাকে একটু একটু করে, পাশে বসতে চাওয়াও এক ধরনের বিলাসিতা।

শীতের সকালে
এই যেমন মাগরিব আর কলমিলতারা একই রেখায় নক করে জানালায়, সেই সাথে কাটা মুণ্ডঅলা ষাড়ের তড়পড়ানি চোখ মনে জাগে কারো, এমনই সমাজ গড়েছো মানুষ বিশ্বাস করে না আর নিজেদেরই বুক ধড়ফড়;

আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস
দিনটি একুশে ফেব্রুয়ারী নত মস্তকে প্রাণের আবেগে আজ তাদের স্মরি করি বাঁচাতে সেদিন বাংলা ভাষার মান অকাতরে যারা সঁপে দিয়েছিল প্রাণ

ঘূর্ণিবাতাসের কোরাস
নাভির ওপর দিয়ে হেঁটে যায় অদৃশ্য ঘূর্ণিবাতাস— তার পায়ের শব্দে হঠাৎ পিপীলিকার বুক উজাড় হয়, দু’একটা অণু হিম হয়ে পড়ে।

কাঠবিড়ালী জীবন
ফটক পেরিয়ে একটা কাঠবিড়ালী দারুন কৌশলী ঝুলে থাকে সময়ের দড়িতে, তার নিচে ছায়া—

আবছায়া, যে শহর
যে ধীবর আমাকে পরিশ্রম শিখিয়েছিল, পাথরের খাঁজ থেকে তুলে এনেছিল স্ফীত ও কম্পিত শরীর, তার নগ্নতার প্রতি কোনো অভিযোগ নেই।

অনিমেষ বসাকের তিনটি কবিতা
সম্পর্কের সান্নিধ্য চলে যায় আলোকবর্ষ দূরে, নীল-সবুজ লীন হয় কৃত্রিমতার নীরব গহ্বরে। অন্তরের ভাষা হারিয়ে যায় নিঃশব্দতার ভিড়ে, হৃদয় শুধু বেঁচে থাকে, অনুভূতি হারায় ধীরে।

আগমন
একটা বিকেল, অনেক না বলা কথার পাহাড় -- বারংবার। ঝকমকে রোদ্দুর,

দেওয়াল
দ্রুততম বর্বরতার জীবন - জনশূন্য! অসম্ভব ব্যস্ততা; অজগরের মত লম্বা সোশ্যাল মিডিয়ার ওয়াল - জনহীন,

আমিত্বহীন মানব
বহু বছর পর এসেছি পৃথিবীতে, দেখা হয়নি কিছু- ডাইনোসর লুপ্ত হয়েছে;মনুষ্যত্বও!

নুরুল হাসানের তিনটি কবিতা
চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতেই পারি রাজা তুমি বেইমান, রাজা তুমি মিথ্যেবাদী। কিন্তু বলব না, কারণ আমি সংসারী। সংসারের জন্য বাঁচতে হবে আরো কয়েক কুড়ি বছর

পিয়াল রায়ের দুটি কবিতা
সাদা পাতায় একটা ডট মারাত্মক মারাত্মক একটা লাইন পাতা জোড়া বিষাদতোড়া বিষাদতোড়া

শৌভিক দত্তের দুটি কবিতা
ইদানীং রঙ থেকে চিলতে সাবানখোদাই। ভাবনাকে পুষতে পুষতে জামদানী কাঠের চেয়ার। এলো। ছয় ছয়কারী গুলিয়ে ফেলছি অনেকদিন।

বেণু সরকারের দুটি কবিতা
আরণ্যক জলধারায় সজীবতা পেয়ে যায় ওরা।বাইসন হাতি হরিণ চিতা আর পাখপাখালির দল--গাছেদের ডেকে কথা বলে নিরন্তর।বন্য মোরগ আর হিংস্র শুয়োর--কেউ বাদ যায় না। আমলকী হরিতকী বহেরা সেগুন শালের সাথেই শিরীষ গামার আর সবুজ চায়ের দেশ,

ভুল দিনের কাব্য
এখন কি ফিরে যাব? কোর্ট মোড় পর্যন্ত এসেছি এদিকে আজ রবিবার, পাখি নেই দীনবন্ধুতে নাটক আছে কিনা খতিয়ে দেখা হল না

স্মৃতি রায়ের দুটি কবিতা
ঘুরছি এক ভ্রমে হলদে সাদার কদম হবো বলে । হাওয়ার খিলখিল থেকে নরকের বন্ধ দরজার কাছাকাছি গিয়েও তুমি ফিরে এলে ঈশ্বর হাতে ।

শাহিদ আনোয়ারের দুটি কবিতা
পূর্ণিমার আলোয় ঝলমল এক রহস্য, আকাশ যেন নুয়ে পড়েছে তার কাছে। নক্ষত্ররা কাঁপছে অদ্ভুত উত্তেজনায়, গভীর রাত পুড়ে যাচ্ছে তার তাপে।

দেবাশীষ সাহার চারটি কবিতা
প্রতিদিন সকাল-বিকাল ঝাড়পোঁছ ছাই দিয়ে ভিমসাবান দিয়ে ঘস্টে ঘস্টে ঝকঝকে তকতকে রাখতে হয় কাঁচ

মিরাতুন নিসা ও কালনবিশ
কেউ গেয়ে ওঠে না হৃদয়ের গান। বৃষ্টি থামে, ছাতা নিয়ে বাড়ি ফেরে চরম সুবিধা ও জননেতা

প্রস্থান
বিকেল হয়ে এলে সন্ধ্যার আগে আগে একদিন— বাসনা নিয়ে, অনন্ত উপেক্ষা নিয়ে হাসতে হাসতে ঘুমিয়ে যাবো। সারা রাত জেগে থাকবো দুঃস্বপ্নের ভেতর।

ফয়জল অমির তিনটি কবিতা
সূর্যের ফাঁসির পর সব বিদঘুটে অন্ধকার। চেয়ে থাকি জানালার প্রতিটা ভাঁজে কখন পুড়ছে সকাল কখন পুড়ছে রাত

শ্রীমন্ত দাসের দুটি কবিতা
একমাত্র তুমিই সেদিন বলেছিলে, এতটা শয়তান আমি কাউকে দেখিনি। আমি বলেছিলাম সত্যি!! মাসখানেক পর তোমার কথা রেখে, ফিরে এলাম যখন তুমি বললে- তুমি এতটা ভয়ঙ্কর?

ওয়াহিদার হোসেনের দুটি কবিতা
গতজন্মের কথা মনে পড়ে বালতি থেকে জল তুলে বাবা গায়ে ঢালছেন মা দূরে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ তাকিয়ে আছে। আমি স্বপ্নে যতবার এরকম দৃশ্য আঁকি

নষ্ট প্রলাপ
আসলে যে কোন কেস গুবলেট করে দিতে গেলে যে কৌশল প্রয়োজন বুক চিতিয়ে বলবো না সব আমার ডিকশেনারিতে ডিজাইন করা ব্যাপার হলো ঝুপ করে মাঝ বরাবর চালকুমড়ো বলি দিয়ে দুফাঁক করার কায়দা যেমন রপ্ত হতে অপেক্ষারা চাদর বুনে ফ্যালে তেমন বিনা চষে আপন করতে পারাটা একটা আর্ট

রাত্রি কালীন
রোজ রাতে হৃদয় জুড়ে মৃত্যু আসে না বলা সব পূর্ণবাক্য শুধুই ভাসে। একটার পর একটা সূক্ষ্ম আলপনা। শুধু স্মৃতি, না কি বাধ্যতার জল্পনা।

আত্মমৈথুনিক স্বভাবে
অথচ এই ঘনানো অন্ধকার হয়তোবা থেকে যাবে রয়েছে তো সুদীর্ঘকাল ফুল হয়ে হয়তোবা গেলাসের জলে স্ফূর্তি ও সঙ্গম বিলাপের বন্দিশ আরবার

রবীন্দ্রনাথ
তোমার ছবির সামনে দাঁড়ালে বুকটা গর্বে ফুলে ওঠে, মনটা ভরে যায় আনন্দে কিন্তু মাথা আপনিই নত হয়ে আসে তোমার কথা ভাবলে নিজেদের ক্ষুদ্রতা প্রকট হয়ে পড়ে। তুমি আমাদের প্রেম তুমি আমাদের মুক্তি তুমি আমাদের শান্তি

নাফিসা মিদ্যার দুটি কবিতা
যে ভাষায় পাহাড় চোখ মেলে তাকিয়ে থাকে মেঘাচ্ছন্ন আকাশের দিকে যে ভাষায় জননীর গর্ভে শিশু প্রথম নাড়ীর টান চেনে যে ভাষায় নগ্ন মনের সব অন্ধকার উন্মুক্ত হয় ঈশ্বরের আগে