সাপ্তাহিক লেখালেখি
সকল পোস্টসমূহ

ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ - ৫)
আকাশে এখন আর মেঘ নেই। হাওয়া হচ্ছে। কদিন পরেই বর্ষা নামবে। একদিন হাসপাতাল থেকে ফিরতে গিয়ে বহুত ঝামেলা হয়ে গেছে। মইদুল ফিরছিল ডিউটি থেকে রাত আটটার দিকে তখুনি ঘটনাটা ঘটে। সেদিন ঝোঁকের মাথায় একটু খেয়ে ফেলেছিলো। রাস্তা পার হতে গিয়ে একটা টোটো পায়ে মেরে দেয়। সচকিত হয়ে সে যখন তাকায় ততক্ষণে টোটো পায়ের ওপর এসে মেরে দিয়েছে। ব্লিডিং হচ্ছিল। পুলিশ দৌড়ে আসে। চার পাঁচজন লোকাল ছেলে হাকিমপাড়া রোড থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।

ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ-৪)
ভোর হয়ে আসছে। রাতে ভালো ঘুম হয়নি। ঘুমের ঘোরে মনে হচ্ছিল দম বন্ধ হয়ে আসছে। এরকম মাঝেমধ্যেই হয়। কেন হয় সে জানেনা। এই অসুখটা আগে ছিলনা। হার্টের ডাক্তার অনেক যুগ আগেই নেশা করতে মানা করে দিয়েছে। কখনো হঠাৎ সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছে হলে সে স্কুলের টয়লেটের পাশে টিচারদের একটা স্মোকিং জোন আছে সেটাতে যেত। ইদানীং স্কুলে স্মোকিং পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আজ হঠাৎ ঠান্ডা লাগছিল। লুঙ্গি পরে সে শুয়েছিল। যখন সে বিছানা থেকে উঠে পড়লো দেখে সাফিনা নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে। অনেকটা গুটিসুটি হয়ে আছে। তার গায়ে হালকা করে আলনায় রাখা একটা বিছানার চাদর দিয়ে ঢেকে দেয়। চাদরটাকে ঘুমের ঘোরের জড়িয়ে ধরে সাফিনা। আহা বেচারা। অনেক কষ্ট হয় এই মেয়েটাকে দেখে সঙ্গে নিজের ভাগ্যের কথা ভেবে নিজের ওপরেই করুণা আসে। কী ছিল সে। কী হল? দুরন্ত ক্রিকেটের সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে ইচ্ছে হয়।

ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ - ৩)
শীত শেষ হয়ে আসছে। রাঙ্গালীবাজনা ঢোকার মুখের রাস্তাগুলো পলাশ ফুলে ভরে গেছে। অথচ ঠান্ডাই। আজ রবিবার। তাই আজকে তেমন তাড়া ছিলনা মোনালিসার। কাওসার এসেই গাড়ি ঘ্যাঁ করে ব্রেক কষলো। একহাতে হেলমেট নিয়ে ঢুকতে গিয়ে টেবিলের ওপর কাগজটাতে চোখ পড়লো। পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন মেম্বার মোনালিসার দলবদল। সিপিএম থেকে তৃণমুলে দলবদলের খবর। মুখটা ঝুলে গেল কাওসারের। এরা খবর পায় কি করে?

ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ ২)
মইদুল সারারাত এপাশ ওপাশ করেছে। রাতে মনে হয়েছিল প্রেসার বেড়েছে। হাইপ্রেসার আছে ওর বাবারও। বাড়ি থেকে দূরে আছে বলে মাঝেমধ্যে প্রেসার চেকও করে। কিছুদিন আগে ডাক্তার দেখানোও হয়েছে। এখন হঠাৎ প্রেসার বাড়ছে। আবার হয়তো ওষুধ চালু করতে হবে। এক বোতল জল রাখা থাকে বিছানার পাশে।সে জল খায়।জলের বোতল রাখে।লাইট জ্বালায়। চপ্পল পরে বাথরুমে ঢোকে। পায়খানা চাপ দিচ্ছে। আবার বেরিয়ে এসে সিগারেট লাইটার নেয়। সিগারেট ধরিয়ে বাথরুমে ঢুকে বসে পড়ে।

ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ -১)
সুবীরেশ সেন। কবি। সদ্য নর্থবেঙ্গল এসেছে। এখানেই শহীদুলের সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা। শহীদুল বিএ পাশ ছেলে। রিসেন্টলি গাড়ি নিয়েছে।ট্যুরিস্টদের ঘুরিয়ে নিয়ে আসবে বিন্দু ঝালং লাভা এবং পরেরদিন রিশপ পৌঁছে দেবে। মালবাজার স্টেশনে নেমে বাসে করে চালসা এসেছে সে। এখান থেকে শহীদুল তাকে পিক করবে। জলপাইগুড়ি থেকে আসার কথা ইউনিভার্সিটির পুরোনো বন্ধু দেবত্তোম এর। এবারে সুবীরেশ এর কলিগ জহির রায়হানের আসার কথা ছিলো। ইচ্ছে ছিলো জহির নিজের মতো ঘুরবে। অথচ শেষ সময়ে ওর মেয়ের জ্বর বমি থাকায় কলিগ আসতে পারেনি। দেবোত্তমকেই কোম্পানি দিতে হবে। সুবীরেশ সেন দক্ষিণ বঙ্গে একটি কলেজে বেশ কিছুদিন হল জয়েন করেছেন ক্লার্ক হিসেবে।

আবীরলাল মন্ডলের দুটি কবিতা
মোবাইলটা ছুঁড়ে ফেলার মতো মাঝেমাঝেই মনে হয়, কয়েকটা সাজানো গোছানো নিয়ম ভেঙে ফেলি, সারাদিন যে মনুষ্যত্বের মুখোশ পরে ছদ্মবেশে থাকি সেটা খুলে রাস্তার ধুলোয় ফেলে দিই। যাদের কথায় মাথা নত করে পা চাটি, তাদের চোখে চোখ রেখে বলি, আজ আর মানছি না।

অর্ঘ্য রায় চৌধুরীর দুটি কবিতা
যে সম্পর্ক মুছে গেছে, সেখানে ফিরি না আর কী হবে সে'সব কথা ভেবে? নতুন বাসার দিকে উড়ে গেছে পাখি শূন্য শিশিতে যেন সুগন্ধটুকু লেগে আছে

ভিনদেশী তারা - অন্তিম পর্ব
তৃষার বাড়ি থেকে ফেরার পর ধ্রুব গ্রামের ঘাটে গিয়ে বসে রইলো অনেকক্ষণ।পদ্মা যেন আরো ফুঁসে উঠেছে , ঘোলা জলের ঢেউ ভাঙতে ভাঙতে বয়ে চলেছে, ভাবটা যেন তাকে আটকায় কার সাধ্য।পৃথিবীর সব কিছুই পরিবর্তনশীল, এই চক্র ছকে প্রকৃতি নিয়ন্ত্রিত হয়।প্রকৃতির নিয়মেই ভালোলাগা ,আবেগ তৈরি হয়। কাওকে না দেখলে নিজের বুকের ভেতরটা অন্ধকার খনির গুহার রূপ নেয় সেখানে চেনা গলার স্বর পাথরের দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে বেড়ায়।ধ্রুবর মনের ভেতরে প্রবল আলোড়নে সবকিছু দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে ।

ভিনদেশী তারা (পর্ব-৫)
ধ্রুব দরজার সামনে গিয়ে দেখলো ও. সি. চেয়ারের পেছনে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে বুকের উপর হাত দুটো জড়ো করে বসে প্রায় তন্দ্রাচ্ছন্ন।ধ্রুব আশ্চর্য হলনা মোটেও সে বিরক্ত হল খানিকটা কারণএই মফস্বল শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অনৈতিক কাজকর্ম ঘটে চলেছে আর এদের কোনো হেলদোল নেই ।ধ্রুব দরজায় টোকা দিলো।

ভিনদেশী তারা (পর্ব-৪)
প্রায় দু সপ্তাহ কেটে গেছে আখরিগঞ্জ থেকে ফেরার পর। ম্যাডাম এর সাথে আলোচনা হয়েছে।এরমধ্যে ফোন এর মাধ্যমে যোগাযোগ করেছে আখরিগঞ্জ এর ও. সি এর সাথে । মিডিয়ার সাথেও কথা বলেছে , পেপারে অনেক লেখালেখি হয়েছে। প্রশাসন এর উপর চাপ সৃষ্টি করেছে সব দিক থেকে । ধরা না পড়লেও বর্ডার এলাকায় পাহারা শক্ত হবে এবং পুলিশ নজরদারি বাড়বে ।

ভিনদেশী তারা পর্ব-৩
পদ্মার বুকে জেলে মাঝিদের নৌকোগুলো দুলছে ,টিমটিম বিন্দু বিন্দু নৌকোর আলোগুলি গুঁড়ো বৃষ্টি আর ঠান্ডা হওয়ায় দোদুল্যমান।এই সময় রূপোলি মাছ পদ্মার বুকে চলে ফিরে বেড়ায়, সারা বছর জেলে মাঝিরা এই ইলিশ এর মরসুমের জন্য মুখিয়ে থাকে।গাঢ় আঁশটে গন্ধ বাতাসময়। দুজনে বালির চরের উপর দিয়ে হেঁটে চলেছে ,অন্ধকারে চোখ সয়ে এসেছে ।

ভিনদেশী তারা (পর্ব-২)
ঘাটে যখন নৌকা পৌঁছলো তখন সন্ধ্যে ৬টা বেজে গেছে ! চারিদিকে অন্ধকার , বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছিলো অনেক আগে কিন্তু এখন বেগ বাড়তে শুরু করেছে।

ভিনদেশী তারা (পর্ব-১)
জল গড়িয়ে পড়ছে নরম গাল বেয়ে, ছলাৎ ছলাৎ পাড় ভাঙার একটানা লয় বর্ষার উচ্ছ্বল নদীর গর্জনে মিশে যাচ্ছে ; কাজল কালো আসমানী চোখ বেয়ে শ্রাবণধারায় বুক ভিজছে । তৃষার খেয়াল নেই কখন আকাশের পশ্চিম কোণ কালো হয়ে গেছে ।

সবুজ শ্যাওলা
বিভাস মূর্খ, পকেটে টাকাপয়সা আছে, জামাটা ইস্ত্রি করা হয়নি, জামার কোথাও কোথাও হলুদ ছোপ ছোপ, তরকারি মেখে ওই অবস্থা হয়েছে হয়তো, হাফপ্যান্ট এবং একটি হাওয়াই চটি, গ্রীষ্মের সকাল সাড়ে দশটার সময় একটি মিষ্টির দোকানের বেঞ্চের উপর বসে আছে। কয়েকটা মাছি ছাড়া এই মুহূর্তে মিষ্টির দোকানটায় কেউ ঢুকছে না, আবার বেরোচ্ছেও না।

নিজের ঠিকানা কিছু নাই
নিজের ঠিকানা খোঁজা জন্ম থেকেই শুরু আজীবন চলে সেই খোঁজা – কতো আসে কতো যায় জন্ম মৃত্যু ‘কাল’ পায় বয়ে চলা কতো শত বোঝা!

ব্রাত্য ঈশ্বর ও সৃষ্টির সংলাপ
মানুষ শূন্য পৃথিবীর পায়ুপথে একটা আপেল গাছ রোপন করার পর আমি সোজা হাঁটা ধরলাম নরকের দিকে। পথে দেখা হলো ক্রশবিদ্ধ যিশুখ্রিষ্টের সঙ্গে। পথে দেখা হলো নূহের পুত্র কেনানে'র সঙ্গে। প্রত্যেকে তাঁদের নিজের পিতার বিরুদ্ধে কথা বলছেন।

ফালুটে বিড়ম্বনা (অন্তিম পর্ব)
সকালের প্রথমার্ধের রোদের মনোরম উষ্ণতার আবেশ শরীরে - মননে মেখে ছন্দে ছন্দে চলি আনন্দে। লাল তেকোনা ছাদবিশিষ্ট একাকী ছোট্ট বাড়িটার মাথার ওপর খাটানো নীল বিনি পয়সার তাঁবু আর তার পাশেই অতিক্ষুদ্র জলাশয়ে নীল আকাশের ছায়াকে উদ্বেলিত করে স্তব্ধতার গান। আনমনা মন এড়াতে পারেনা থুরি এড়াতে চায়না টুমলুর মায়াবী আকর্ষণ। "ভালবাসি বিশ্বের সুষমার ছবিটি"

ফালুটে বিড়ম্বনা (পর্ব দুই)
গাড়িটা অনুভূমিক হতেই একসঙ্গে সবাই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। আজ কি পূর্ণিমা নাকি ? কই তেমন তো শুনিনি। সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের ফলকটা স্পষ্ট পড়া যাচ্ছে এই নিশীথে। স্মৃতির অ্যালবামের সাথে যে কোনো মিলই নেই। নিঃসন্দেহে আমরা পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ স্থানে আরোহন করেছি - তবে হঠাৎ এত আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যায়। এরই নাম উন্নয়ন - প্রকৃতি-মা-এর সৌন্দর্যায়ন হয়েছে আধুনিকতার লম্ফ জ্বেলে। বোঝো ঠেলা এক শহর থেকে নিষ্কৃতি পেতে এলেম কিনা আরেক শহরে!

ফালুটে বিড়ম্বনা (পর্ব এক)
কদিনের মধ্যেই গোয়েচালা যাব ঠিক হয়েই আছে- এরইমধ্যে একদিন বাড়ি ফিরতেই মা বলল, " সান্দাকফু যাবি নাকি?" মুখে বললাম, "আআআবাআআর", কিন্তু মনে মনে তো, "স্যাকটা তাহলে গুছিয়ে ফেলি।"

অর্ঘ্য রায় চৌধুরীর দুটি কবিতা
সমস্ত উৎসব ফুরিয়ে গেছে বলেই সন্ধ্যা নেমে এল মেঠো পথ, বহুদূরে গাছেদের সারি বিকেলের আলোটুকু ম্লান এখন কোথায় যেতে পারো তুমি? অন্ধকারে হাতড়ে বেরিয়েছো চেনা পথ পুরোনো দরজায় কড়া নেড়ে দেখেছো বন্ধ হয়ে গেছে সমস্ত চিঠিদের চোখ এখন এক চোরাবালি জেগে উঠেছে ধূ ধূ চর, ওইপারে নিঃঝুম গ্রাম এইখান থেকে আজ ফিরে যেতে পারো।