
//পর্ব চার//
প্রায় দু সপ্তাহ কেটে গেছে আখরিগঞ্জ থেকে ফেরার পর। ম্যাডাম এর সাথে আলোচনা হয়েছে।এরমধ্যে ফোন এর মাধ্যমে যোগাযোগ করেছে আখরিগঞ্জ এর ও. সি এর সাথে । মিডিয়ার সাথেও কথা বলেছে , পেপারে অনেক লেখালেখি হয়েছে। প্রশাসন এর উপর চাপ সৃষ্টি করেছে সব দিক থেকে । ধরা না পড়লেও বর্ডার এলাকায় পাহারা শক্ত হবে এবং পুলিশ নজরদারি বাড়বে ।আশাকরি এসবের জন্য দলগুলি কিছুটা হলেও পিছপা হবে।এসব কাজ ও চাকরী দুটো সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলো ধ্রুব।অফিসের কলিগরা বেড়াতে যাবে পূজোর ছুটিতে ,সেই গল্প গুজব চলছে অফিসে।অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার রণদার একটা ট্যুর ইউনিট আছে ।এবার পুজোতে গ্যাংটক যাচ্ছে ,তাকে বার বার জোর করছে যাওয়ার জন্য ।আসলে রণদা তাকে খুব স্নেহ করেন।পূজো প্রায় চলে এলো ,কেউ কেউ ফ্যামিলি নিয়ে পূজোর মার্কেটিং এ ব্যস্ত ।বাড়িতেও জেঠিমা , কাকিমা ব্যস্ত পূজো শপিং এ।বড়দা বম্বে থেকে ছেলে , বউ নিয়ে আসবে তাই জেঠিমার উৎসাহ দ্বিগুণ বেড়ে গেছে ।রিমিও দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে গৌহাটি থেকে বাড়ি আসবে তাই কাকিমার আনন্দের সীমা নেই ।
সে এখনও জয়েন্ট ফ্যামিলিতেই থাকে। সতেরো বছর আগে বাবা ,মা কার অ্যাক্সিডেন্টে মারা যাবার পর ত্রিশ বছর বয়সী ধ্রুবর এটাই স্থায়ী ঠিকানা। তার বাবার ভাগের অংশটি তিন তলায় ।সামনে বারান্দা থেকে দিগন্ত বিস্তৃত নীল আকাশ দেখা যায় ।আকাশী নীল রঙটা তার খুব প্রিয়।মনের ক্যানভাস জুড়ে যেন শুধুই আকাশ। এই বাড়ির প্রতিটি কোণায় তার শৈশব, কৈশোর লেগে আছে , লেপ্টে আছে মা, বাবার স্মৃতি।তাছাড়াও পিতৃতুল্য জেঠু বাবা ,মা এর অভাব বুঝতে দেয়নি কোনোদিন তাই এই বাড়ি তার প্রাণ ভ্রমরা।
রাত্রি বারোটা বাজে। দোতলার পুরোনো আমলের দেওয়াল ঘড়িটা নিস্তব্ধ রাত্রির বুক চিরে ঢং ঢং শব্দে জানান দিলো।
ধ্রুব বারান্দার ইজি চেয়ারটায় বসে ভাবছিলো এবার পুজো টা একটু অন্যরকমভাবে কাটাবে । বেড়াতে গেলে মন্দ হয়না , একটু ব্রেক দরকার । শুধু কাজ আর কাজ , কাজের কথায় মনে পড়লো গ্রামের মানুষের সাথে কথা বলা উচিৎ, আর গ্রামের পুলিশ থানা গুলোতে একবার যেতে হবে । আখরিগঞ্জ এর ও.সি. লোক লাগিয়েছেন দল টার গতিবিধির খবর আনতে।এসব এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে লাভ নেই , কোথায় যেন ওরা উধাও হয়ে যায় । পুলিশ প্রশাসন এর নাকের ডগা দিয়ে এই দলগুলি গ্রামের মানুষের দারিদ্রতার সুযোগ নিচ্ছে। পলিটিক্যাল লেবেলের লোক জড়িত আছে সন্দেহ হচ্ছে তার ।ম্যাডাম আর বেশী ঘাঁটাতে চাইছেন না ,ওনার পলিটিক্যাল লেবেলে পরিচয় আছে,সেখানের কোনো সোর্স থেকে খবর পেয়েছেন।কিছুটা সে আঁচ করতে পেরেছে ।ধ্রুবকে আখরিগঞ্জ যেতে বারণ করেছেন কলকাতা থেকে উনি না ফেরা পর্যন্ত কিন্তু সে যাবে। এভাবে মাঝপথে পিছিয়ে আসবে না সে।এর আগেও তো অনেক ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে,সময়মত পুলিশের সাহায্য পেয়েছে, উপরমহলে কলকাঠি নেড়ে ম্যাডাম ঠিক ব্যবস্থা করে নেন ।এবারের ব্যাপারটা ছোটখাটো নয় এটুকু সে বুঝেছে তবুও তার মন যেতে চাইছে হয়তো কিছুটা অন্য টানে। নিজের মনের কাছে ধরা পড়ে গেছে।
কাল অফিসে রণদা কে বলে একটু ম্যানেজ করে একটু তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যাবে ঠিক করলো ।পরশু রবিবার ছুটি ,আর সোমবার ছুটি নেবে।হেড স্যার কে ফোন করে জানিয়ে রাখবে ।দুটো দিন স্যারের বাড়ি থেকে কাজগুলো সারতে হবে ।মনে মনে বেশ খুশী হল ধ্রুব ।
তৃষার কি তার কথা মনে পড়ে! চরকুঠি গ্রামের কথা , সেই খেয়ার কথা , বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যার কথা মনে পড়লো । একটা ফোন কিনবে কাল কিন্তু তৃষা যদি নিতে অস্বীকার করে ,যদি অপমান করে ! একবার বলে দেখবে না নিলে দেখা যাবে ।ওর দেখা পেতে হলে তো সেই সন্ধ্যের খেয়া কিন্তু কাল কলেজে আসবে তো তৃষা !!
রণদা একটু চাপে ছিলো তবুও ছেড়ে দিলো।ধ্রুব অফিস থেকে বেড়িয়ে স্যামসাঙ এর একটা মোবাইল এর দোকানে ঢুকলো ।শিশিরদাকে ফোন করে সব রেডি রাখতে বলেছিলো।স্যামসাঙ এর জে. সেভেন টা ব্যাগে ভরলো,বিল মিটিয়ে টাইম নষ্ট না করে সোজা বাসস্ট্যান্ড ।
আখরিগঞ্জ পৌঁছতে বিকেল গড়িয়ে গেলো।সূর্য তার শেষ আভা ঢেলে দিচ্ছে চরাচর ঘিরে।রক্তিম আলোয় পাখির ঝাঁকের পালক বাতাসে ভর দিয়ে বাসায় ফিরছে । এরকম বিকেলে আকাশে রঙের খেলা চলে , ছুটির দিনগুলোতে বহরমপুরের গঙ্গার ধার বরাবর বাঁধানো রাস্তায় চলে যায়। ওখানে বসে এই দৃশ্য উপভোগ করে ।ধ্রুব হাত ঘড়ির দিকে তাকালো,সাড়ে পাঁচটা বেজে গেছে। তৃষার দেখা এখন আর মিলবে না মনে হয় ,তাছাড়া সে কলেজে আজ এসেছে কিনা তাও জানা নেই ।অতএব একবার ও.সি.এর সাথে দেখা করেই যাবে ।বেশী দেরী হলে ফেরীর নৌকো পাওয়া যাবে না ।সে না হোক , যে কোনো জেলে মাঝির নৌকোয় চেপে পড়বে ।তার আগে একটু চা খাওয়া দরকার ।ধ্রুব বাসস্ট্যান্ড এর সামনের একটা চা এর দোকানে ঢুকলো ।চা আর ডিম টোস্ট খেয়ে নিলো।একটা রিক্সা নিয়ে থানার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো । কনস্টেবল কে বলে ও.সি. ঘরের সামনে দাঁড়ালো ।
পরবর্তী পর্ব (৫ম পর্ব) আগামী ২২/০৮/২০২৬(শনিবার) প্রকাশিত হবে।
সংশ্লিষ্ট পোস্ট

ভিনদেশী তারা (পর্ব-২)
ঘাটে যখন নৌকা পৌঁছলো তখন সন্ধ্যে ৬টা বেজে গেছে ! চারিদিকে অন্ধকার , বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছিলো অনেক আগে কিন্তু এখন বেগ বাড়তে শুরু করেছে।

ফালুটে বিড়ম্বনা (পর্ব এক)
কদিনের মধ্যেই গোয়েচালা যাব ঠিক হয়েই আছে- এরইমধ্যে একদিন বাড়ি ফিরতেই মা বলল, " সান্দাকফু যাবি নাকি?" মুখে বললাম, "আআআবাআআর", কিন্তু মনে মনে তো, "স্যাকটা তাহলে গুছিয়ে ফেলি।"

ফালুটে বিড়ম্বনা (অন্তিম পর্ব)
সকালের প্রথমার্ধের রোদের মনোরম উষ্ণতার আবেশ শরীরে - মননে মেখে ছন্দে ছন্দে চলি আনন্দে। লাল তেকোনা ছাদবিশিষ্ট একাকী ছোট্ট বাড়িটার মাথার ওপর খাটানো নীল বিনি পয়সার তাঁবু আর তার পাশেই অতিক্ষুদ্র জলাশয়ে নীল আকাশের ছায়াকে উদ্বেলিত করে স্তব্ধতার গান। আনমনা মন এড়াতে পারেনা থুরি এড়াতে চায়না টুমলুর মায়াবী আকর্ষণ। "ভালবাসি বিশ্বের সুষমার ছবিটি"