১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আবীরলাল মন্ডলের দুটি কবিতা
আবীরলাল মন্ডলের দুটি কবিতা

চুপ 

 

মোবাইলটা ছুঁড়ে ফেলার মতো মাঝেমাঝেই মনে হয়,

কয়েকটা সাজানো গোছানো নিয়ম ভেঙে ফেলি,

সারাদিন যে মনুষ্যত্বের মুখোশ পরে ছদ্মবেশে থাকি

সেটা খুলে রাস্তার ধুলোয় ফেলে দিই।

যাদের কথায় মাথা নত করে পা চাটি,

তাদের চোখে চোখ রেখে বলি,

আজ আর মানছি না।

মোবাইলটা ছুঁড়ে ফেলার মতোই মনে হয় অবহেলায়,

বড় বড় অট্টালিকার নিচে দাঁড়িয়ে

জোরে হেসে উঠি।

মনে হয় সন্ধেবেলায়,

সব মিথ্যে প্রচারের বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিই,

মনে হয় প্রতিশ্রুতির পাহাড় গড়া রাজনীতিকদের

আয়নার সামনে দাঁড় করাই।

মন বলে , পর্দা জুড়ে ভেসে থাকা

সফলতার গল্পগুলোতে

একটু সত্যি লিখে দিই।

মন চায়,অফিস যাওয়ার পথে

ঘুরে যাই নদীর ধারে,

সাথে লাভ-ক্ষতির হিসাবগুলো

পুরোনো কাগজের মতো উড়িয়ে দিই।

মন বলে ,ভাঙা ফুটপাত, ক্ষুধার্ত শিশু,

ধোঁয়ায় ঢাকা সকাল,

চাকরির লাইনে দাঁড়ানো মুখগুলো

নিয়ে প্রশ্ন করি। 

কিন্তু আমার একার প্রশ্ন করাতে 

কিছু যায় আসে কি?

তাই চুপ করে যাই, 

সবকিছু চলতে থাকে আপনগতিতে ।

 

___________________________

 

এই গল্প থামে না 

 

এই গল্প থামে না, এই বসতি, এই ভেজা মাটির গন্ধ,

এই গভীর রাতে বৃষ্টি, এই জল উঠতে থাকা উঠোন,

এই আধভাঙা ঘরে পাশাপাশি ঘুমিয়ে থাকা মানুষ,

এই হাত বাড়িয়ে দেওয়া, কিছু না থাকলেও পাশে থাকা।

এই গল্প থামে না, তোমাদের এই আসা-যাওয়া,

ভোরের ট্রেন, সন্ধ্যার ফেরি, কাজের খোঁজে দূরে যাওয়া,

এক মুঠো আশার ভিতর আগামীকাল লুকিয়ে আছে ভেবে

আবার উঠে দাঁড়ানো, আবার দিন শুরু করা।

 

এই গল্প থামে না, এই বেঁচে থাকা অল্প আলোয়,

চুপচাপ বসে থাকা চায়ের দোকান, ধোঁয়া ওঠা আকাশ,

ক্লান্ত চোখে জমে থাকা ঘুম, তবু কাজে বেরিয়ে পড়া,

ভাঙা স্বপ্নের উপর নতুন স্বপ্ন সাজানো।

 

এই গল্প থামে না, সবুজ মাঠ ঢেকে যাওয়া জলে,

দুই ধারে নুয়ে পড়া গ্রাম, দূরে হারিয়ে যাওয়া রাস্তা,

ঠোঁটে লেগে থাকা সামান্য হাসি,

বুকের ভিতর চলতে থাকা অদৃশ্য ব্যথা।

ব্যথার উপর জীবন,

জীবনের উপর অনন্ত অপেক্ষা।

এই গল্প তবুও থামে না, কুয়াশা মাখা ভোরের ভিতরে

দেশের ভিতর আরেক দেশ,

মানুষের ভিতর আরেক মানুষ,

নিঃশব্দে জেগে থাকে,

নিঃশব্দে ঘুমায়,

তবু তাঁরা বেঁচে থাকে।

 

এই গল্প মোটেই থামে না।

 

 

সংশ্লিষ্ট পোস্ট

ফালুটে বিড়ম্বনা (অন্তিম পর্ব)
সুরজিৎ ব্যানার্জি

ফালুটে বিড়ম্বনা (অন্তিম পর্ব)

সকালের প্রথমার্ধের রোদের মনোরম উষ্ণতার আবেশ শরীরে - মননে মেখে ছন্দে ছন্দে চলি আনন্দে। লাল তেকোনা ছাদবিশিষ্ট একাকী ছোট্ট বাড়িটার মাথার ওপর খাটানো নীল বিনি পয়সার তাঁবু আর তার পাশেই অতিক্ষুদ্র জলাশয়ে নীল আকাশের ছায়াকে উদ্বেলিত করে স্তব্ধতার গান। আনমনা মন এড়াতে পারেনা থুরি এড়াতে চায়না টুমলুর মায়াবী আকর্ষণ। "ভালবাসি বিশ্বের সুষমার ছবিটি"

সাপ্তাহিক লেখালেখি২৭ জুন, ২০২৬
ভিনদেশী তারা (পর্ব-২)
মন্দিরা পাল

ভিনদেশী তারা (পর্ব-২)

ঘাটে যখন নৌকা পৌঁছলো তখন সন্ধ্যে ৬টা বেজে গেছে ! চারিদিকে অন্ধকার , বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছিলো অনেক আগে কিন্তু এখন বেগ বাড়তে শুরু করেছে।

সাপ্তাহিক লেখালেখি১ আগস্ট, ২০২৬
অর্ঘ্য রায় চৌধুরীর দুটি কবিতা
অর্ঘ্য রায় চৌধুরী

অর্ঘ্য রায় চৌধুরীর দুটি কবিতা

যে সম্পর্ক মুছে গেছে, সেখানে ফিরি না আর কী হবে সে'সব কথা ভেবে? নতুন বাসার দিকে উড়ে গেছে পাখি শূন্য শিশিতে যেন সুগন্ধটুকু লেগে আছে

সাপ্তাহিক লেখালেখি৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬