২৫শে বৈশাখ সংখ্যা, ১৪৩৩
"ভাঙো ভাঙো, উচ্চ করো ভগ্নস্তূপ, জীর্ণতার অন্তরালে জানি মোর আনন্দস্বরূপ রয়েছে উজ্জ্বল হয়ে।"

রবীন্দ্রনাথ রঙের দেবতা
শরীর জুড়ে যাত্রাপালা,নাচ-গান,নাটক দর্শক আমি শ্রমের বিনিময়ে মঞ্চ বলতে ঘর-বারান্দা শ্রোতা বলতে আমি ও রবীন্দ্রনাথ

কয়েকটি কবিতা
শহরের দেওয়ালে ধর্মের নাম লেখা আছে, কিন্তু অক্ষরগুলো ধোঁয়ায় গড়া— ছুঁলেই ছাই।

মূল্যবোধের অবক্ষয় ও বর্তমান প্রজন্ম
একটা সময় ছিল, যখন সন্ধ্যার অন্ধকার নামলেই উঠোনে জ্বলে উঠত আলো-প্রদীপ, আর মানুষের ভেতরে জ্বলে উঠত গল্পের আলো। নানি-দিদা-ঠাকুমার কণ্ঠে শোনা নীতিকথা, বাবার শাসনে লুকোনো মমতা, মায়ের চোখে নিঃশব্দ শিক্ষা- এসবই গড়ে তুলত মানুষের ভিত। আজও আলো জ্বলে, কিন্তু তা প্রদীপের নয়- মোবাইলের স্ক্রিনে; আজও শব্দ আছে, কিন্তু তা কথোপকথনের নয়- নোটিফিকেশনের। আলো বেড়েছে, অথচ অন্ধকারও গভীর হয়েছে- এটাই আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।

কিছু অলিখিত বুদবুদ
কার অঙ্গে কে যে ফুটে আছে কে যে আজ সকাম ফুলের সোনালিতা ! এই জংশনে ভালবাসার টোকেনগুলি রুহ্-রুহানির শবদেহে

অনিমেষ বসাকের তিনটি কবিতা
সম্পর্কের সান্নিধ্য চলে যায় আলোকবর্ষ দূরে, নীল-সবুজ লীন হয় কৃত্রিমতার নীরব গহ্বরে। অন্তরের ভাষা হারিয়ে যায় নিঃশব্দতার ভিড়ে, হৃদয় শুধু বেঁচে থাকে, অনুভূতি হারায় ধীরে।

অমৃত সন্ধানী
মহা ঋষি সেজে রবি সম তেজে ওড়ালে বিজয় ধ্বজা, প্রতি ক্ষণে ক্ষণে নিজে মনে প্রাণে মানবে করেছো পূজা।

পিয়াল রায়ের দুটি কবিতা
সাদা পাতায় একটা ডট মারাত্মক মারাত্মক একটা লাইন পাতা জোড়া বিষাদতোড়া বিষাদতোড়া

কবিগুরুর ভ্রমণ এবং একটি ব্যক্তিগত উপলব্ধি
দাঁড়িয়ে আছি। কেউ ডাকেনি। একা একাই উঠে রেডি হয়ে এসে দাঁড়িয়ে আছি। সকাল হচ্ছে চারিদিকে। আলো তার রঙ পাল্টাচ্ছে । নীলচে থেকে হলুদ হয়ে এরপর সে আস্তে আস্তে ফ্যাকাশে হয়ে যাবে।

রবীন্দ্রনাথ
তোমার ছবির সামনে দাঁড়ালে বুকটা গর্বে ফুলে ওঠে, মনটা ভরে যায় আনন্দে কিন্তু মাথা আপনিই নত হয়ে আসে তোমার কথা ভাবলে নিজেদের ক্ষুদ্রতা প্রকট হয়ে পড়ে। তুমি আমাদের প্রেম তুমি আমাদের মুক্তি তুমি আমাদের শান্তি

রাত্রি কালীন
রোজ রাতে হৃদয় জুড়ে মৃত্যু আসে না বলা সব পূর্ণবাক্য শুধুই ভাসে। একটার পর একটা সূক্ষ্ম আলপনা। শুধু স্মৃতি, না কি বাধ্যতার জল্পনা।

কবিগুরুর স্মরণে
হিয়ার মাঝে ধরী তাঁরে, কখনও বা প্রতীক্ষায়। একরাত্রি কেটে যায়– রাজপথের কথায়।।

শিশির আজমের কয়েকটি কবিতা
টেবিলের পাশে জানালা জানালার পাশে শরতের উড়ু উড়ু মেঘ মেঘ ঘুরে ঘুরে বেড়ায় টেবিলে এসে বসে

কবিতা
ভোটের আগে নিমাই কাকার শরীর গাছে ঝোলানো হলো দেদারের শিস দিয়ে চলছে মিছিল বিবর্ণ পতাকার মিহিসুর চড়াও করে সমস্ত তল্লাট আর কোন ঘুম নয় -অশান্ত জানোয়ারের ঢাল বিদ্ধ করে আছে জাতির এপিঠ- ওপিঠ আমাদের ভেতরকার লম্পট নিমাইকাকার শরীরে আঁকছে রেখাচিত্র

কবিতা
পাখি জন্ম দাও। ডানা থেকে ঝরে পড়ুক অনাদি বরফের কাল। পায়ের নখরে আগলে থাকুক তুষারের হিম

কবিতা
জারজ লোকটি অতীতে যাচ্ছে; তার মা'কে ধর্ষকের হাত থেকে বাঁচাতে।

কিছু কবিতা
নিস্তেজ দেহ পড়ে থাকলো ঘন নিঃশ্বাস আর হৃদ-পেয়ালার স্পন্দন। আমার অগ্রজেরা কেউ থাকলেন না, একা,ঘোর কাটছে না আর। প্রাণের দহন ভুলে ভালোবাসতে পারছি না।

কবিতা
যুবকদের যে গম-বিলাস যে হরিণগল্প স্থানান্তরের পর গোড়া খুঁজছে মালিকের মেয়ে ব্যালকনিতে বাড়ছে বেলা আসলে ওই গম ও বিলাস আর হাতেনাতে ধরা পড়ছে যুবকের দল হরিণীর গল্পে

কাশেম কোনও গল্প নয় কবিতা
উপেক্ষা আমাকে নৈঃশব্দ্যে নিয়ে গেছে মুখে কারণহীন হাসি চোখে আছে নির্দিষ্ট ভাষা বৃষ্টিরা নিজেরা ভেজে আমাদের ভেজায়

কয়েকটি লিমেরিক
শ্যাওড়াতলার তিন রাজ্যের, ভূতের রাণী কটকটি মোটের উপর শান্ত কিনা, শুধু হঠাৎ হঠাৎ ছটফটি রাণীর ছিল একশো বাদী সবাই নাক গলাতে ওস্তাদী কাজের বেলায় ঠনঠনা ঠন, কথার বেলায় ফটফটি।

কবিতা
সাইকেলে যেতে যেতে লোকটা থমকে দাঁড়ায়। সামনে বিশাল লাইন— মনটা খারাপ হয়ে যায়।

শোকসভা
মুঠো ছুরি খুলছে। পর্দার নানা ব্যবহার। ততো স্বচ্ছ নয় জেনে শিকারীরা ক্ষমা থামিয়ে দেয়। এক লুপ্তপ্রায় গান তোমায় আগুন চেনায়। উঠোনরঙা চাঁদ আকাশে অথচ তোমার কোনও স্বেচ্চাসেবক নেই।

যে মানুষ হারিয়ে গেছে
যে মানুষ হারিয়ে গেছে তাকে খুঁজে আনা যায় বার্তালাপ করা যায় এমন স্মৃতির সঙ্গে জঙ্গলের ভেতর হরিণের মতো লাফিয়ে আসা জুম শটে

ভীড় ভেঙে গেছে
ভীড় ভেঙে গেছে, আজ আর সেই ভীড় নেই। ময়দান শুধু থাকে থাকে ভরেছে শূন্যতা, আনাচে কানাচে থাবা মারছে বিষন্নতা, সবাই উত্তম বোঝেগেছে; লাভ নেই , শুধুই ফাও।

কয়েকটি কবিতা
শহরের দেওয়ালে ধর্মের নাম লেখা আছে, কিন্তু অক্ষরগুলো ধোঁয়ায় গড়া— ছুঁলেই ছাই।

মূল্যবোধের অবক্ষয় ও বর্তমান প্রজন্ম
একটা সময় ছিল, যখন সন্ধ্যার অন্ধকার নামলেই উঠোনে জ্বলে উঠত আলো-প্রদীপ, আর মানুষের ভেতরে জ্বলে উঠত গল্পের আলো। নানি-দিদা-ঠাকুমার কণ্ঠে শোনা নীতিকথা, বাবার শাসনে লুকোনো মমতা, মায়ের চোখে নিঃশব্দ শিক্ষা- এসবই গড়ে তুলত মানুষের ভিত। আজও আলো জ্বলে, কিন্তু তা প্রদীপের নয়- মোবাইলের স্ক্রিনে; আজও শব্দ আছে, কিন্তু তা কথোপকথনের নয়- নোটিফিকেশনের। আলো বেড়েছে, অথচ অন্ধকারও গভীর হয়েছে- এটাই আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।

কিছু অলিখিত বুদবুদ
কার অঙ্গে কে যে ফুটে আছে কে যে আজ সকাম ফুলের সোনালিতা ! এই জংশনে ভালবাসার টোকেনগুলি রুহ্-রুহানির শবদেহে

অনিমেষ বসাকের তিনটি কবিতা
সম্পর্কের সান্নিধ্য চলে যায় আলোকবর্ষ দূরে, নীল-সবুজ লীন হয় কৃত্রিমতার নীরব গহ্বরে। অন্তরের ভাষা হারিয়ে যায় নিঃশব্দতার ভিড়ে, হৃদয় শুধু বেঁচে থাকে, অনুভূতি হারায় ধীরে।

অমৃত সন্ধানী
মহা ঋষি সেজে রবি সম তেজে ওড়ালে বিজয় ধ্বজা, প্রতি ক্ষণে ক্ষণে নিজে মনে প্রাণে মানবে করেছো পূজা।

পিয়াল রায়ের দুটি কবিতা
সাদা পাতায় একটা ডট মারাত্মক মারাত্মক একটা লাইন পাতা জোড়া বিষাদতোড়া বিষাদতোড়া

কবিগুরুর ভ্রমণ এবং একটি ব্যক্তিগত উপলব্ধি
দাঁড়িয়ে আছি। কেউ ডাকেনি। একা একাই উঠে রেডি হয়ে এসে দাঁড়িয়ে আছি। সকাল হচ্ছে চারিদিকে। আলো তার রঙ পাল্টাচ্ছে । নীলচে থেকে হলুদ হয়ে এরপর সে আস্তে আস্তে ফ্যাকাশে হয়ে যাবে।

রবীন্দ্রনাথ
তোমার ছবির সামনে দাঁড়ালে বুকটা গর্বে ফুলে ওঠে, মনটা ভরে যায় আনন্দে কিন্তু মাথা আপনিই নত হয়ে আসে তোমার কথা ভাবলে নিজেদের ক্ষুদ্রতা প্রকট হয়ে পড়ে। তুমি আমাদের প্রেম তুমি আমাদের মুক্তি তুমি আমাদের শান্তি

রাত্রি কালীন
রোজ রাতে হৃদয় জুড়ে মৃত্যু আসে না বলা সব পূর্ণবাক্য শুধুই ভাসে। একটার পর একটা সূক্ষ্ম আলপনা। শুধু স্মৃতি, না কি বাধ্যতার জল্পনা।

রবীন্দ্রনাথ রঙের দেবতা
শরীর জুড়ে যাত্রাপালা,নাচ-গান,নাটক দর্শক আমি শ্রমের বিনিময়ে মঞ্চ বলতে ঘর-বারান্দা শ্রোতা বলতে আমি ও রবীন্দ্রনাথ

গাছ
চুপ করে বসে থাক আর শোন। গাছেরাও কথা বলে জানলাম কাল। সকালে হাই তোলার মত করে গাছেরাও শব্দ করে শুকনো,ভেজা পাতাগুলোকে ঝেড়ে ফ্যালে সকালের প্রথম হাওয়ায়। তারপর একটু হাত পা নাড়িয়ে ব্যায়াম করে, সকালের রোদে। শুকনো ডালগুলোর মড়মড় আওয়াজ শুনলে বুঝবি।

দুধারে ঈশ্বর
একটি প্রাণবন্ত ফুঁয়ে একরাশ আঙুল এ কেমন বিমল ফুল নীল হাত নেড়ে বলে প্রজাপতি ছেলেবেলা তার ক্যাপশন

চিঠি
ফিরে আসা চাঁদের উসকানি ঢুকে যাচ্ছে মাথার ভেতর মেঘের হাত ধরে পাথর খুঁজতে যাব তোমার কিনারে।

সম্পাদকীয়
মড়ক লেগেছে নাকি খরা ! বাঙালি মনন বাঙালির ভাষা, বিস্মৃত তার ঐতিহ্য ও অস্তিত্ব । সংখ্যা দিয়ে বিচার করলে এই ধারণা ভীষণ রকম ভুল বলে প্রমাণিত হবে। বছরে বছরে যেভাবে গজিয়ে উঠছে অগণন লিটিল ম্যাগাজিন , সামাজিক মাধ্যমে অবিরত বয়ে যাচ্ছে সাহিত্যের বহতা ধারা ।

গণিত, অথচ
অ্যাম্বুলেন্সের ডালা খোলা আছে গাছের শরীরে অন্য গাছের ছায়া তবু ওভারল্যাপ এইসব দৃশ্যভাবনার পাশে ঠোঁট, বরফ, বরফ কঠিন ঠোঁট গল্প বদলে যাচ্ছে

সোয়েটার
গন গনে নীল শিখা মেলে গ্যাসের উনুন জ্বলছে। কেটলিতে জল সেই কখন থেকে ফুটে চলেছে। বাষ্প হয়ে অর্ধেক জল মরে গেছে। সেই দিকে কোনও খেয়াল নেই নীলার। সে একটা বেতের গদি মোড়া আরাম চেয়ারে বসে আছে। কিচেনটা ঢের বড়। প্রায় প্রমাণ সাইজ একটা ঘরের মতো। এখানে বসে উলের কাঁটায় শব্দ তুলে সোয়েটার বুনে যাওয়া তার একমাত্র বিলাসিতা। শীতের দিনে আগুনের এই উত্তাপটা কী যে আরামের, নীলা তা কাউকে বোঝাতে পারবে না। গ্যাসটা কতক্ষণ জ্বলছে সে দিকে তার কোনও খেয়াল নেই। চায়ের জল বসানোটা আসলে একটা ছুতো। শীতের রাতে আগুনের উষ্ণতাকে সে প্রাণ ভরে উপভোগ করে নিচ্ছে। গ্যাস পুড়ছে পুড়ুক। সেই নিয়ে সে মাথা ঘামায় না। তার স্বামী বিপুলের টাকার অভাব নেই। তারা বিশাল ধনী না হতে পারে কিন্তু এই সব সামান্য বে-হিসেবী খরচ করার মতো তাদের ঢের পয়সা আছে।