৭ মে, ২০২৬
কবিতা
কবিতা

উলঙ্গ সবাই


শুধুমাত্র রাজা নয়, উলঙ্গ সবাই
রাজ-অনুগামীরা পোশাক ফেলে নেমেছে রাস্তায়।

বিরোধীরাও অর্ধনগ্ন—
তারাও আজ উন্মোচনের প্রতিযোগিতায় মগ্ন।

আদিমতা নেমে আসছে পৃথিবীর বুকে
আমির-ওমরাহ্ অনাবৃত, নেমেছে রাজপথে।

রাজদরবারে বিচারশালা নগ্ন নৃত্যরত
রাজসেনাদের নগ্নতাও অতীব শাশ্বত।

উলঙ্গ আস্ফালনের সিঁধকাটা ঘরে
আবৃত যারা, লজ্জা ও ভয়ে লুকিয়ে অন্ধকারে।

জিজ্ঞাসু চোখে শিশুটি আজো দাঁড়িয়ে সটান।
প্রত্যেকের প্রতীক্ষা সেই প্রতিশ্রুত উলঙ্গ উত্থান।

----

না-ভোটার


সাইকেলে যেতে যেতে
লোকটা থমকে দাঁড়ায়।
সামনে বিশাল লাইন—
মনটা খারাপ হয়ে যায়।

দু’জোড়া জলপাই দৃষ্টি
সন্দেহে তাকায় তার দিকে—
“কেয়া হুয়া? মত রুকো ইঁহা,
আগে বাড়ো, চলে যাও।”

চলে যেতেই হয়।
চলে যেতেই হবে তাকে।
ক্ষমতার কাটাকাটি খেলায়
অধিকার হারিয়েছে—
নাম নেই ভোটার তালিকায়।

পাড়া-প্রতিবেশী অনেকে এসেছে,
অন্য ভাইয়েরা দাঁড়িয়েছে লাইনে—
সে ছাড়া।

রাজনৈতিক ব্যবসায়ীরা
যায়নি তার কাছে একবারও
কেউ বলেনি, “বসো, চা খাও,
ভোটটা অমুক চিহ্নে দিয়ো।”

অন্যবার
সাধাসাধি করে কত!
এই লাইনে
সে দাঁড়িয়েছে চল্লিশ বছর—
আজ অপরিচিত।

অনেকটা দূরে গিয়ে
একটা চায়ের দোকানে বসে।

আলোচনা চলছে—
ভোট কোন দিকে?
কে জিতছে?

মোড়ে মোড়ে
জলপাই চোখের
কড়া নজরদারি।

হঠাৎ পাশ থেকে—
“কি রে, বাংলাদেশি?”
চমকে ওঠে লোকটা।
বক্তার মুখে
এক নিষ্ঠুর, সুখদ অট্টহাসি।

“দাদা, নামটা কি উঠবে আর?
কবে উঠবে?
কীভাবে?”

— “নাম আবার কী!
এবার সোজা বাংলাদেশ!
ক্ষমতায় আসি।”

ক্ষোভে
অশ্রুতে
বেরিয়ে আসে লোকটা।

বাড়িতে ফিরে আবারও
চল্লিশের দশকের দলিলপত্র খুলে বসে—
বাপ-দাদুর নাম
স্পষ্ট অক্ষরে লেখা।

সংশ্লিষ্ট পোস্ট

কয়েকটি কবিতা
ওয়াহিদার হোসেন

কয়েকটি কবিতা

সকল দ্বিধা। ফেলে দিয়ে আস্তে আস্তে চলে আসি অন্ধকারে।এভাবেও ফেরা যায়।ফেরা কি সম্ভব?সাধুসঙ্গ টেনে আনে গার্হস্থের তুমুল আলোয়।দড়ি দড়া ছিড়ে ভেঙে পাখিও কি ফিরতে পারে পরিচিত শাখের জঠরে?

কবিতা৭ মে, ২০২৪
দুটি কবিতা
জ্যোতির্ময় বিশ্বাস

দুটি কবিতা

একা যে হাঁটছ যুবক এ বন পছন্দ বুঝি, ক'দিন এসেছ আগে শুনি বসো হেলান দিয়ে এই ফাল্গুনের ধ্বনি আর আগুনের পাশে বসে শুনি তোমার কথা সব

কবিতা৭ মে, ২০২৪
একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......
শ্রী সদ্যোজাত

একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......

ছেড়ে দেওয়ার পরেও কেমন যেন সে নয়ন আপন নয়ন হয়ে থাকে। কাছে থাকলে যদি অখিল স্রোতের বিড়ম্বনা আসে, একসময়ের পরিচিত একান্ত সংকেতগুলো হঠাৎ ঝড়ের মতন আবছা হয়ে আসে, ছেড়ে দেওয়ার পরেও সে কেমন একটা শিউলি শিউলি গন্ধ এই অবেলাতেও সারা গায়ে লেপ্টে রাখে,

কবিতা৭ মে, ২০২৪