
১. আমার হিয়ার মাঝে...
শরীর জুড়ে যাত্রাপালা,নাচ-গান,নাটক
দর্শক আমি
শ্রমের বিনিময়ে
মঞ্চ বলতে ঘর-বারান্দা
শ্রোতা বলতে আমি ও রবীন্দ্রনাথ
হঠাৎ চারপাশে অজস্র রবীন্দ্রনাথ
ভর করে শিল্পীর মাথায়
শিল্পী বেজে ওঠে প্রকৃতির খেয়ালে
আমার হিয়ার মাঝে...
___________
২. আমায় যে সব দিতে হবে
নিজের অন্তরে প্রত্যেকে ভিক্ষুক
ভিক্ষার হাহাকার নিয়ে
বেঁচে থাকে মানুষ
প্রত্যাশার ঝুলি নিয়ে
ভোর কাঁধে করে
বের হয় এক - একটি রাস্তা
আত্মদানে কেউ মুখর নয়
এক বাউল সকাল
মিথ্যে রঙের একতারা বাজিয়ে
গেয়ে ওঠে
আমায় যে সব দিতে হবে...
___________
৩.যদি জানতেম আমার কিসের ব্যথা
আকাশের চেয়ে উঁচু দু:খকে পার হতে
পাখিকে শিখতে হলো উড়ান
গাছেরাও শিখে নিলো বিবাহ সঙ্গীত
নামগান করতে করতে উড়ে গেলো প্রজাপতি
নদীর কাছে নতজানু হলো মানুষ
জেগে উঠলো নদী
বেজে উঠলো নদী
যদি জানতেম আমার কিসের ব্যথা
_____________
৪. প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে
রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে
চিৎকার করছে গাছেদের দল
দাও আরো সবুজ
দাও আরো প্রাণ
রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে নদী
বেরিয়ে এসেই সাপ হয়ে যাচ্ছে
শুরু করছে মৃত্যু রঙের খেলা
এই অবিরাম রক্ত খেলার মধ্যে দাঁড়িয়ে
গলা তুলে বলছে জিরাফের দল
প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে
মোরে আরো আরো আরো দাও প্রাণ
___________
৫. কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি
চোখের জল ক্লান্ত হলে
সেজে ওঠে শ্মশান
চৈতি রাতে চাঁদ জেগে গেলে
হেসে ওঠে মৃতদেহ
বেমানান পৃথিবী থেকে
আমাকে নিয়ে হেঁটে যায় শ্মশানবন্ধুর দল
অন্য কোনো গ্রহের খোঁজে
রাস্তার দু-পাশে দাঁড়িয়ে অলবিদা জানাচ্ছে
গাছের আত্মীয়স্বজন
তাঁদের অন্তরে লতিয়ে উঠছে সুর
কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি
___________
৬. আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে
বাপ- মা মরা গাছ সংসারে
হরেক রঙের ঝড়
মাঠভাঙা ঝড়ের মুখে
বুনো গন্ধের সুর
সুরের গন্ধে জেগে ওঠে নেশা
নেশার পিছু পিছু অনাথ বালক
বয়স ষোল হতে না হতেই
ষোল চাকার স্টিয়ারিং হাতে এক নতুন ঝড়
শিস দিতে দিতে তাড়িয়ে নিয়ে যায় রাস্তা
রাস্তার মুখে মুখে একটায় বুলি
আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে
____________
৭. দাঁড়িয়ে আছো তুমি আমার গানের ওপারে
সিলেবাসে ঘাম আর প্রতিযোগিতার গল্প
গল্পগুলোর গায়ে লোভ রঙের লোম
নিজের বিরুদ্ধে চালালাম চাবুক
ঘোড়া ছুটছে
দিনকে রাত করে রাতদিন ছুটছে
ভালোবাসা ছুঁয়ে দিলে
গল্পগুলোর রঙ বদলে যাবে
ছোঁয়ার অছিলায় এগোতেই দেখি
লাল ওড়না সীমান্তের কাঁটাতার হয়ে বলছে
দাঁড়িয়ে আছো তুমি আমার গানের ওপারে
_____________
৮. ভেঙে মোর ঘরের চাবি
নতুনের লোভে
ভাঙতে থাকি পুরানো যত সম্পর্ক
মায়া দিয়ে ঘেরা এই মানমন্দির
মোহ কেটে মোহিনী আনি ডেকে
বাঁধা পড়ে যায় কোনো এক অজানা গন্ধে
গন্ধের নেশা ঠেলে
যাবতীয় আগল ভেঙে
ভেঙে মোর ঘরের চাবি
নিয়ে যাবে কে আমাকে
নিয়ে যাবে নতুনের ঘরে
________
৯.ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে
যত্ন পেলে রাস্তাও হয়ে যায় পোষা
প্রেমের পিছু পিছু পাওনাদার রঙের কষ্ট
চোখের জল হয়ে যায় পরমাত্মীয়
কাশফুলের দরোজায় উপুড় করি হাসিসমগ্র
বসে থাকি কান্নাসংগ্রহ খুলে
পায়ের পাতায় দানাদার আবেগ আর উদ্বেগ
ঘুলঘুলি দিয়ে এক চিলতে সুখ আসে
আমার আড়াল আমার আবডাল
ডেকে ওঠে
ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে..
___________
১০. তোমায় গান শোনাবো
সেই ছোট্ট থেকে বড়ো হচ্ছে কান
গান শুনবে বলে
পাথরের অন্তরাত্মার গভীর থেকে
চিৎকার করছে নদী
তোমায় গান শোনাবো
গাছে গাছে ইস্তেহার ঝুলিয়ে
পাখি এসে বলছে গানে গানে
তোমায় গান শোনাবো
কান আর গান
গান আর কান
কানের লতিতে দুলছে
ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চা গান
আকুতি আর আবদারের সুরে বলছে
তোমায় গান শোনাবো
________
১১. পুরানো সেই দিনের কথা
কথা হাতবদল হতে হতে
ক্ষয়ে যায়
ক্ষয়ে ক্ষয়ে রয়ে যায়
অভিমান আর অনুযোগ হয়ে
ব্যথা বেদনা পুষ্ট হলে
রঙ ধরে
কান্না হয়ে ঝরে পড়ে অচেনা আঁচলে
মন এসব কথা মনে রাখেনা
যাবতীয় অনুরাগ আর অভিযোগের সাথে
দেয় পুড়িয়ে
পুড়তে পুড়তে পুড়ে যায়
পুরানো সেই দিনের কথা
_______
১২. কাঁদালে তুমি মোরে ভালোবাসারই ঘায়ে
একটা করে ঝড়ের জন্ম
একটা করে অজানা আঘাত
ত্যাগের উপর ত্যাগ সাজিয়ে
চলেছি এক অনাবিষ্কৃত হৃদয়ের দিকে
গন্ধহীন ছন্দহীন কা
ন্না জড়ানো
সেই রাস্তা
পরিচয়ের পিছল আলোয়
দেখেছিলেম সুগন্ধি এক মন
দ্বিধা দ্বন্দ্ব সরিয়ে
ভয় - ভাবনা না করেই
উপুড় করেছিলা সাহসী এক বিশ্বাস
উড়নচণ্ডী এক জোছনা রাতে
কাঁদালে তুমি মোরে ভালোবাসারই ঘায়ে।
সংশ্লিষ্ট পোস্ট

কয়েকটি কবিতা
সকল দ্বিধা। ফেলে দিয়ে আস্তে আস্তে চলে আসি অন্ধকারে।এভাবেও ফেরা যায়।ফেরা কি সম্ভব?সাধুসঙ্গ টেনে আনে গার্হস্থের তুমুল আলোয়।দড়ি দড়া ছিড়ে ভেঙে পাখিও কি ফিরতে পারে পরিচিত শাখের জঠরে?

দুটি কবিতা
একা যে হাঁটছ যুবক এ বন পছন্দ বুঝি, ক'দিন এসেছ আগে শুনি বসো হেলান দিয়ে এই ফাল্গুনের ধ্বনি আর আগুনের পাশে বসে শুনি তোমার কথা সব

একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......
ছেড়ে দেওয়ার পরেও কেমন যেন সে নয়ন আপন নয়ন হয়ে থাকে। কাছে থাকলে যদি অখিল স্রোতের বিড়ম্বনা আসে, একসময়ের পরিচিত একান্ত সংকেতগুলো হঠাৎ ঝড়ের মতন আবছা হয়ে আসে, ছেড়ে দেওয়ার পরেও সে কেমন একটা শিউলি শিউলি গন্ধ এই অবেলাতেও সারা গায়ে লেপ্টে রাখে,