৭ মে, ২০২৬
কবিতা
কবিতা

ভ্রুণ


পাখি জন্ম দাও।
ডানা থেকে ঝরে পড়ুক অনাদি বরফের কাল।
পায়ের নখরে আগলে থাকুক তুষারের হিম।

মাতাল মৃত্যুর ঘ্রাণ সরিয়েছো দূরত্বে কোথাও
সাঁতারের ঘুম-স্নান শেষে
চিরায়ত অক্ষরে হারিয়ে যাওয়া এ সময়— অন্ধ

অহেতুক বৃত্তীয় হিসেবে ব্যস্ত যারা,
হত্যার বিবৃতি মেনেছে যাযাবর ছায়ায়
হিরন্ময় দাবা-চালের ঘোরে
আপ্লুত স্নেহের কণ্ঠে জড়ানো
সরল অংকের বেকুব সূত্রে বন্দী জন্ম-জন্মান্তর।

নদী কিংবা সভ্যতার শরীর পেয়েছে কে আর?
মানব প্রানের আলোক-নগর?

চোখে তুলে শ্রী ভোরের গৌরব
মরে যাচ্ছে চেনা মুখরতার হাজারো কৈশোর

রক্তে মিছছে হাবিয়া দোজখের সুর।
চেতনার দম্ভে মরে যাচ্ছে সমস্ত গ্রন্থস্থ পাপ।




মাউরি


যথোপযুক্ত সুর।
কেমন একটা আড়াল আড়াল সবদিক

কারুকা'য় লেপ্টে থাকা এক পাহাড়ি গানে
কোথা যায়? কোথা নিয়ে যায় কারে প্রাণ জাগানিয়া হে....

দূরত্ব বাড়ে না। দূরবর্তী বাতাস সে আশায় ব্যাকুল কেমন!
প্রাণ চাওয়া একটুকু ভুলের আশায়...

কারে চায়?ও পাহাড়? পাহাড়িয়া মন?কারে যেন চায়
বিরহ ব্যকুল পথের ডানায় দু' হাত বাড়ায়।

জানে না তো কেউ কোথাও
চলে যাওয়া  প্রেম কতোটুকু ধীর!
ধরিত্রীর সবচেয়ে দূরে
থেকে যাওয়া স্পর্শ এ প্রাণেশ্বরীর

পায় তারে কেউ?
নিশ্চুপে জন্মানো ছায়ায় নাচে বিপন্ন বহু ভুল।
একাকী সারোদ বাজানিয়া বিকেল
থেকে যায় ভালো থাকা চিঠির সৌরভে।

পুরোনো না যেন হয় এ সৃষ্টি তবু।
জগতে ঘুম পাড়ানিয়া এক আদিম বিস্ময়!



ত্রেতা


ছাইরঙা আকাশ নাচে বেহায়া ডানায়
উড়ে যায় শোনো—
পাথুরে জলাভূমিতে শিশিরের ভোর
মিহি শীতের রোদ ভেসেছে আলোয়
নর্তকীর মতোন দোলায় দেহ চোখের আয়ত রেখা
দুলে ওঠে নিমরাত্রি
কল্পলোক পেরুনো মায়াবিভ্রমের এ অবাক সংসারে!

মৃত শকুনের কোলে
নামে নৈরাশ্যের ঘুম।

এটুকুই নেশা—
করতলে জাপটে ধরে পাহাড়ের সোঁদা ঘ্রাণ
ঊন-সম্প্রদায়ের কেবল মৃত্যু মৃত্যু খেলা।



মাতম


ছেঁড়া পায়রা।
মুর্তি ঘিরে পৌষ।

মাদকতার  আড়ালভাঙা জলরঙে অবাক দাঁড়কাক।
বাদামি পুরোনো নায়ে ডুবেছে শৈশব— ধলেশ্বরীর তীর।

চিত্রিত মঞ্চে আসে না কেউ একজন্ম পরে
মনে হয় তালপুকুরে ভেসে ওঠা গল্পকথা... মণি মালা।
ডাকিনীবিদ্যে আওড়ানো নির্মল দুপুর কোথাও।

এক দীঘী জল টলমল
এক আকাশ চোখ ছলছল

কে যেন খুঁজে যায় শরীরী শস্যের পোড়ামুখ?
নিখাঁদ জন্মের টানে উড়ুক্কু এক দস্যি বাউল...

করুণামাখা যে চোখে নিভেছে আলো
হাওয়ায় শুধু ছেঁড়া ঘুড়ির মৃত হাতছানি

সুতো পড়ে থাকে।
পড়ে থাকে পৌষ
দেবীমুর্তির অমৃত আরাধনা...

কিম্ভুত চারপাশে শুধু জল,টলমল!




প্রলয়


ভুলেছো কী?
এইভাবে ভুলে যাওয়া ক্ষণ— স্মরণীয়।

বৃষ্টি যেমন—
ভুলের আঁচলে ঢেকে রাখে দুরন্ত ধুলোপনা রোদ।
স্বপ্নে তুলে রাখা সেইসব কর্পূর দানা
মৃত্যুর গান ঝরাতে ঝরাতে গেল শুধু অন্ধকার।

পাহারায় বিব্রত হতে হতে ক্লান্ত চোখের মতো
চারপাশের বিব্রত যত পাপ,অনুতাপ,শোক  কিংবা জরা
সমস্ত আড়ালে দেখেছে ওই ক্লান্ত মায়া মুখ
যে শৈশবের নৃত্যরত বেশ্যার গালে দিয়েছে  চুমুর ধূসরিমা
জানে কে বা তার আর্তি ভয়ংকর কতোটা আর!

জঙরঙা রাতগুচ্ছ দেখায় এমন নিত্য আড়াল
শুকে শুকে কেবলই ভ্রান্ত তবু কাঙাল বকুল।

মেখেছো কী ভয়ের আবছায়ায় মায়া-তন্দ্রারূপ
পথ আর অতল অভয়ে জড়ানো গুল্মে  যেমন!

 

সংশ্লিষ্ট পোস্ট

কয়েকটি কবিতা
ওয়াহিদার হোসেন

কয়েকটি কবিতা

সকল দ্বিধা। ফেলে দিয়ে আস্তে আস্তে চলে আসি অন্ধকারে।এভাবেও ফেরা যায়।ফেরা কি সম্ভব?সাধুসঙ্গ টেনে আনে গার্হস্থের তুমুল আলোয়।দড়ি দড়া ছিড়ে ভেঙে পাখিও কি ফিরতে পারে পরিচিত শাখের জঠরে?

কবিতা৭ মে, ২০২৪
দুটি কবিতা
জ্যোতির্ময় বিশ্বাস

দুটি কবিতা

একা যে হাঁটছ যুবক এ বন পছন্দ বুঝি, ক'দিন এসেছ আগে শুনি বসো হেলান দিয়ে এই ফাল্গুনের ধ্বনি আর আগুনের পাশে বসে শুনি তোমার কথা সব

কবিতা৭ মে, ২০২৪
একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......
শ্রী সদ্যোজাত

একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......

ছেড়ে দেওয়ার পরেও কেমন যেন সে নয়ন আপন নয়ন হয়ে থাকে। কাছে থাকলে যদি অখিল স্রোতের বিড়ম্বনা আসে, একসময়ের পরিচিত একান্ত সংকেতগুলো হঠাৎ ঝড়ের মতন আবছা হয়ে আসে, ছেড়ে দেওয়ার পরেও সে কেমন একটা শিউলি শিউলি গন্ধ এই অবেলাতেও সারা গায়ে লেপ্টে রাখে,

কবিতা৭ মে, ২০২৪