অর্ঘ্য রায় চৌধুরীর দুটি কবিতা
অর্ঘ্য রায় চৌধুরীর দুটি কবিতা
করতলে জল

সমস্ত উৎসব ফুরিয়ে গেছে বলেই সন্ধ্যা নেমে এল
মেঠো পথ, বহুদূরে গাছেদের সারি
বিকেলের আলোটুকু ম্লান
এখন কোথায় যেতে পারো তুমি?
অন্ধকারে হাতড়ে বেরিয়েছো চেনা পথ 
পুরোনো দরজায় কড়া নেড়ে দেখেছো
বন্ধ হয়ে গেছে সমস্ত চিঠিদের চোখ
এখন এক চোরাবালি জেগে উঠেছে
ধূ ধূ চর, ওইপারে নিঃঝুম গ্রাম
 
এইখান থেকে আজ ফিরে যেতে পারো।


পোড়া দাগ
 
বৃষ্টি হলেই বাজ পড়েছে শুধু?
তাহলে যে দেখি অসংখ্য বাজে পোড়া দাগ বুকে নিয়ে বাজারে যায় মানুষ, সন্তানকে ভাত বেড়ে দেয়, অফিসের পথে দৌড়ায়?
 
তুমিও কি পোড়োনি বাজ পড়ে?
আমি কি পুড়িনি?

সংশ্লিষ্ট পোস্ট

আবীরলাল মন্ডলের দুটি কবিতা
আবীরলাল মন্ডল

আবীরলাল মন্ডলের দুটি কবিতা

মোবাইলটা ছুঁড়ে ফেলার মতো মাঝেমাঝেই মনে হয়, কয়েকটা সাজানো গোছানো নিয়ম ভেঙে ফেলি, সারাদিন যে মনুষ্যত্বের মুখোশ পরে ছদ্মবেশে থাকি সেটা খুলে রাস্তার ধুলোয় ফেলে দিই। যাদের কথায় মাথা নত করে পা চাটি, তাদের চোখে চোখ রেখে বলি, আজ আর মানছি না।

সাপ্তাহিক লেখালেখি১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ফালুটে বিড়ম্বনা (অন্তিম পর্ব)
সুরজিৎ ব্যানার্জি

ফালুটে বিড়ম্বনা (অন্তিম পর্ব)

সকালের প্রথমার্ধের রোদের মনোরম উষ্ণতার আবেশ শরীরে - মননে মেখে ছন্দে ছন্দে চলি আনন্দে। লাল তেকোনা ছাদবিশিষ্ট একাকী ছোট্ট বাড়িটার মাথার ওপর খাটানো নীল বিনি পয়সার তাঁবু আর তার পাশেই অতিক্ষুদ্র জলাশয়ে নীল আকাশের ছায়াকে উদ্বেলিত করে স্তব্ধতার গান। আনমনা মন এড়াতে পারেনা থুরি এড়াতে চায়না টুমলুর মায়াবী আকর্ষণ। "ভালবাসি বিশ্বের সুষমার ছবিটি"

সাপ্তাহিক লেখালেখি২৭ জুন, ২০২৬
ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ-৪)
ওয়াহিদার হোসেন

ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ-৪)

ভোর হয়ে আসছে। রাতে ভালো ঘুম হয়নি। ঘুমের ঘোরে মনে হচ্ছিল দম বন্ধ হয়ে আসছে। এরকম মাঝেমধ্যেই হয়। কেন হয় সে জানেনা। এই অসুখটা আগে ছিলনা। হার্টের ডাক্তার অনেক যুগ আগেই নেশা করতে মানা করে দিয়েছে। কখনো হঠাৎ সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছে হলে সে স্কুলের টয়লেটের পাশে টিচারদের একটা স্মোকিং জোন আছে সেটাতে যেত। ইদানীং স্কুলে স্মোকিং পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আজ হঠাৎ ঠান্ডা লাগছিল। লুঙ্গি পরে সে শুয়েছিল। যখন সে বিছানা থেকে উঠে পড়লো দেখে সাফিনা নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে। অনেকটা গুটিসুটি হয়ে আছে। তার গায়ে হালকা করে আলনায় রাখা একটা বিছানার চাদর দিয়ে ঢেকে দেয়। চাদরটাকে ঘুমের ঘোরের জড়িয়ে ধরে সাফিনা। আহা বেচারা। অনেক কষ্ট হয় এই মেয়েটাকে দেখে সঙ্গে নিজের ভাগ্যের কথা ভেবে নিজের ওপরেই করুণা আসে। কী ছিল সে। কী হল? দুরন্ত ক্রিকেটের সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে ইচ্ছে হয়।

সাপ্তাহিক লেখালেখি১০ অক্টোবর, ২০২৬