ফালুটে বিড়ম্বনা (পর্ব এক)
ফালুটে বিড়ম্বনা (পর্ব এক)

প্রথম পর্ব

কদিনের মধ্যেই গোয়েচালা যাব ঠিক হয়েই আছে- এরইমধ্যে একদিন বাড়ি ফিরতেই মা বলল, " সান্দাকফু যাবি নাকি?" মুখে বললাম, "আআআবাআআর", কিন্তু মনে মনে তো, "স্যাকটা তাহলে গুছিয়ে ফেলি।"

মনে ইচ্ছে প্রবল তাই মা কে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে ফেললাম কে কে যাবে, কবে যাবে, কীভাবে যাবে...। আঠাশ - ত্রিশ জনের দলে সবাই অচেনা, ল্যান্ড রোভার হবে বাহন... এইসব শুনে একটু যেন দমে গেলাম।

রেশম পথ গাড়িতে গেলাম ঠিক আছে সান্দাকফু যাব গাড়িতে! তারমধ্যে শুনলাম টিকিট কাটা হয়ে গেছে, বাদবাকি ব্যবস্থাপনাও নাকি হয়ে গেছে।

পড়েছি মহা ফ্যাসাদে - অবশ্য খুশির খবর এলো যে সান্দাকফুর পরে ফালুট গোর্খের পথে এগারো নম্বর বাস করবে আমাদের বহন - বুঝলাম আমার বাড়ির লোকজন এই ফালুটের লোভেই এবার বাহনকে স্বীকার করেছে।

নানা দোলাচলের পর ঠিক গতবছর ২৯ মার্চ হাওড়া স্টেশন থেকে এককাড়ি অচেনা রুকস্যাকসহ অবয়বের সাথে দার্জিলিং মেলের দুলুনিতে গা ভাসিয়ে দিলাম।

ট্রেন মোটামুটি সময়মতোই চলেছে কিন্তু আকাশের মুখ ভার - আলুয়াবাড়ি রোড পার হতে না হতেই সে কী গর্জন আর চমকানি আর তারপরই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি।

নিউ জলপাইগুড়ির আকাশ এক অনন্য উপায়ে অভিনন্দন জানালো রেনকোটগুলো ব্যাগের ভার কমালেও, নিঃসন্দেহে আমাদের ওজন বৃদ্ধি করল।

আগে এক দল তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেসে এসে ইতিমধ্যে মানেভঞ্জনের কাছাকাছি পৌঁছেও গেছে।

আকাশ মেঘলা, চারচাকা গড়িয়ে চললো মহানন্দা অভয়ারণ্যের মধ্যে দিয়ে। গাড়ির ভিতর নানান তালে গান আর গাড়ির চালে বৃষ্টি করছে সঙ্গত - এক অনবদ্য জলসার শ্রোতা তখন দশ যাত্রী।

পথিমধ্যে একবার চা-মোমো বিরতি দিয়েই ড্রাইভার সাহেব আবার গাড়ির চাবিটা ডানদিকে পাক দিয়ে দিয়েছেন। কার্শিয়াং পেরিয়ে টয়ট্রেন লাইনের হাত ধরে ঘুম পৌঁছে গাড়ি চললো ভিন্ন পথে। সুখিয়াপোখরিতে আরেকবার বিরতি হয়েছিল বটে, তবে আমাদের না গাড়ির খুব ক্ষিদে পেয়েছিল। যাইহোক আমাদের হল পোয়াবারো আরে এতক্ষন টানা সবাই বসে আছে পা - কোমর একটু ছাড়াতেও তো হয়? এতক্ষনে অবশ্য আকাশের ভোলও বদলে গেছে, যদিও এ বদল যে সাময়িক তা বোধগম্য হল পরদিন। বলব... বলব সে সবই বলব।

সিংগালিলা জাতীয় উদ্যানের তোরণ মানেভঞ্জন পৌঁছতে দুপুর গড়ালো - রাস্তা কি কম নাকি, প্রায় ৮৫ কিমি। গাড়ি থেকে নেমেই মনে হল এসে গেছি, যেন আমার আরেকটা পাড়া, চেনা রাস্তা, চেনা বাড়িঘর, চেনা লোকজন, অদল বদল অনেক হয়েছে তবে চেনা অনুভূতির কোনো বদল নেই। প্রধান হোটেলের থুতনি সমান উঁচু সিঁড়ি বেয়ে তিনতলার উপরে উঠেই আরও একদল অচেনা মুখের ভিড়।‌ ইতিমধ্যে মনের দোলাচল সাদা পতাকা উত্তোলন করেছে। তখন ভাবছি যাব কি যাব না ভেবে ভেবে শেষে আসা হল, এত অচেনার ভিড়ে কিছুটা ভেসেও গেছি।

পেটের ভিতর গন্ধমূষিকগুলো এমন উৎপাত আরম্ভ করেছে এরমধ্যে, পারলে তো তখন ওই তিনতলা থেকে একলাফে রসুইঘরে গিয়ে ঢুকি। এখানে আবার আরেক চমক, খেতে বসেছি সবে, দেখি রবীন ভাই সেখানে হাজির- সেও খুব খুশি আমাদের দেখে, হবেনা কেন তিন বছর পর আবার দেখা হল যে। খবরাখবর আদান-প্রদান করে আমরা লেগে পড়লাম মধ্যপ্রদেশকে শান্ত করার প্রকল্পে আর রবীন ভাইও খাবার বিতরণে হাত লাগালো।

রেলকর্তৃপক্ষকে মাথাপিছু ভাড়া গুনে দিতে একটুও কার্পণ্য আমরা না করলেও মাথাপিছু গোটা একটা শোওয়ার স্থান আমাদের কপালে জোটেনি, তারপর আবার এত ঘন্টা টানা গাড়ি চড়া , কিন্তু বিন্দুমাত্র ক্লান্তির আভাস পর্যন্ত নেই বরং পড়ন্ত বেলায় একদল আমরা বেরিয়ে পড়লাম পদব্রজে ভ্রমণে।

অ্যাসফল্টের পথে দু-তিনটে বাঁক পেরিয়েই পাথুরে এক বাইপাস নজরে পরতেই পদযুগল ভাসিয়ে নিল পথ যেদিকে ধায়।

পথপ্রান্তে এ যে এক মুক্তাঙ্গন, কিন্তু ওটা কি! ছাইভষ্ম মাঝে উদীয়মান ধূম্র। তখন সকলে মজার ছলে চিতাভষ্ম বলে আখ্যা দিলেও পরে পরে জানা যায় তা সত্যই মনুষ্য ভষ্ম। সে এক রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা।

আলো আঁধারির মধ্যে প্রধান লজের তিনতলায় ব্যাগের জটের পাশাপাশি প্রবল জনজট, এক ঘর থেকে আরেক ঘর যাতায়াত করাও দুরূহ প্রায়। এরই মাঝে স্টোভ তান ধরেছে পূরবী রাগে। বাইরে পবনদেবের দাপট আর সম তালে সঙ্গত করে চলেছে সুমধুর স্টোভের কলতান। সাত তাড়াতাড়ি বাসমতি আর কষা মুরগি সহযোগে সান্ধ্যভোজটা জমলো বেশ। সম্ভবত এর ফলস্বরূপই পরদিন জানা গেল নাসিকাগর্জনকারীরা যেন একটু বেশিই জোরে হাঁকডাক করেছে।

Img 20260509 W A0052

সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই মানেভঞ্জনেরও যেন মান ভঞ্জন হল, এক চিলতে জনপদ একটুও কাহিল না হয়ে কী সুন্দরভাবে যে যান ও জনজটকে সামাল দিচ্ছে এ অবশ্যই শিক্ষনীয়।

এমন ঝকঝকে চকচকে একটা সকাল যখন পাওয়া গেছে তখন ঘরে তো কোনোমতেই বসে থাকা যায়না! প্রবল হাওয়ায় পাইন বনের তরঙ্গদলও হাতছানি দিয়ে ডাকছে আয়... আয়... আয়। অলি - গলি, আনাচে কানাচে একবার করে উঁকি না দিলে অস্থির মনটা বড্ড উৎপাত করে। তারপর এখানে ওখানে ছোট বড় সারমেয়দের একদিন অন্তত প্রাতঃরাশ করানোর সুযোগটা কি হাতছাড়া করা যায় নাকি?

বাজারে কিছু কেনার তো নেই, তবে যাই একবার ঘুরেই আসি- এ বাজার আবার নেপাল সীমান্তে, রাইফেলধারী সীমারক্ষী একটু উষ্ণতার হদিস পেতেই তন্দ্রার অতলে যাত্রা করেছেন। রাস্তা মানে পদযাত্রার নিশানা কেবল। সেই পথেরই বুক চেরা সুতিকার ন্যায় এক নিকাশি নালা দুই দেশের বিভাজিকা মাত্র। নর্মদা নয় নর্দমা পার করে অনায়াসেই প্রতিবেশী দেশের সাথে জিনিসপত্রের আদান-প্রদান হয়।

এদিকে সাজুগুজু করে সবাই প্রায় তৈরি, বেরিয়ে পড়ার অপেক্ষা মাত্র কিন্তু সাজুগুজু তো হল, যাবে যে? গাড়ি কোথায়! ফলক মতে এখান থেকে পশ্চিমবঙ্গের উচ্চতম স্থানের দূরত্ব ৩১ কিমি, সে পথে আরোহন করতে সক্ষম ল্যান্ডরোভার এখন বিলুপ্তির পথে, তবে গুটিকয়েক বৃদ্ধ গাড়িকে ক্রমাগত ওষুধ পত্র দিয়ে, সেবা শুশ্রুষা করে চালানো হয়। ভাগ্যিস আমরা নিলেশ ভাইয়ের হোটেলে ছিলাম। ভাবছেন তো এ আবার কে রে বাবা, হ্যাঁ ভূমিকা ছাড়া হুট করে একটা চরিত্রের প্রবেশ ঘটলে আমারও এই কথাই মনে হত। নিলেশ ভাই তার মুঠোফোনের সাহায্যে এই গাড়িগুলির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আমরা তো গতকাল থেকে এদের বাড়িতেই আস্তানা নিয়েছি, আর আমাদের দলও বেশ ভারী, স্বভাবতই অগ্রাধিকার পেতে নেহাত কাঠখড় পোড়াতে হলনা - আর তারসঙ্গে দিলীপ কাকুও লক্ষ্যে অটল, নিলেশ ভাইকে চোখের আড়াল হতেই দেয়না। যাইহোক শেষে সাফল্য এলো, দুখানা গাড়ি মিলল। লোেক বোঝাই করে সে গাড়িও গর্জন করে বলে উঠলো যেন, "চল বুড়ো হাড়ে আজ ভেলকি দেখাই তোদের!"

Img 20260509 W A0055

সূর্যদেব তখন মধ্যগগন পেরিয়ে দিগন্ত পানে পাড়ি দিয়েছেন আর হঠাৎ কোথা থেকে একদল কালো মেঘ এসে পাহাড় টাকে জাপটে ধরেছে। পরক্ষনেই আরম্ভ হল মানভঞ্জনের পালা, শৈত্যপ্রবাহের সাথে শিলাবৃষ্টির উদ্দাম তান্ডব। মুহুর্তের মধ্যে কেউ যেন কালো রাস্তাকে ভারি সাদা কার্পেটে মুড়ে দিল, বিশিষ্ট কাউকে স্বাগত জানাবে বলে। মনে তখন হেব্বি ফুর্তি, মুঠোফোন, ক্যামেরা নিয়ে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছি বটে তবে হালকা একটা ভয়ও তার সঙ্গে সামিল, "বুড়ো হাড় পাঙ্গা তো নিয়েছে এই অবস্থায় যেখানে সেখানে দেহত্যাগ না করে!"

মালপত্র সব পিক-আপ ভ্যান এ তুলে দিয়ে, সকলের নাম নথিভুক্ত করে সাদা রাস্তা ধরে মোট পাঁচটা ল্যান্ড রোভার এর কনভয় চললো আঠাশ জনকে সওয়ার করে। দুলকি চালে মানে মানে চিত্রে পেরিয়ে গেলাম। "দুলকি চাল" শুনে যতটা ব্যাপারটা আরামদায়ক মনে হয়, মোটেও তা নয়। উফ্ শরীরের ভিতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্থান বদল হয়ে যাবে মনে হয়। তুষারাবৃত পথ দৃশ্য নিঃসন্দেহে মনোহরা কিন্তু এই বিপদসংকুল পথ তা একটু উপভোগ করতে দিলে তবে না! তবে বারবার গাড়ির চাকা পিছলে যাওয়া, আলো আঁধারির লুকোচুরি খেলা, সহযাত্রীদের মুখ চুন, কেউ কেউ আবার ইষ্টদেবতাকেও প্রকৃতির এমন অসামান্য রূপ দেখতে আমন্ত্রণ জানায়, পি.এফ, গ্র্যাচুইটির হিসাব নিকাশ শুরু করা - সব মিলিয়ে বেশ একটা থ্রিল জাগছে কিন্তু। প্রতিটা বাঁক যেন নতুন রূপে অপেক্ষা করছে, পুরু বরফের চাদরে ল্যান্ড রোভারের চাকা যতবারই হার মানে - নিস্তেজ হয়ে যায়, ততবারই তাশি ভাই (ড্রাইভার) নতুন নতুন কৌশল প্রয়োগে তাকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলে।

এতক্ষণ তো নানা কৌশলে চাকাকে গড়ানো গেল কিন্তু এবার যে কেলেঙ্কারির একশেষ, চড়াই - এর মুখে চাকা গেছে ফেঁসে, বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে তারওপর অজুহাতটাও বেশ শক্তপোক্ত, তাই চাকা বাবাজি উঠতে নারাজ। তাশিও ছাড়বার পাত্র নয়। ইতিমধ্যে নিম্নগামী কিছু গাড়িও দাঁড়িয়ে পড়েছে। শেষমেশ গাড়ির ভার খানিকটা কমিয়ে দিয়ে, সকলের প্রচেষ্টায় গাড়িটা নিস্তার পেল। যেন সকলের বলশক্তির পরীক্ষা নিতেই এমন কূট কৌশল ফেঁদে বসেছিল। বরফের চাদরের ওপর কিছুটা হেঁটে এগিয়ে গিয়ে গাড়িতে উঠতে সে আবার তেড়ে - ফুঁড়ে চলতে আরম্ভ করলো, মনে হল যেন বলছে, "কিরে কেমন খেল্ দেখালাম?"

সূর্য তখন প্রায় অস্তাচলে, শ্বেতশুভ্র পটচিত্রে হঠাৎ হঠাৎ লাল গুরাসের ঝলকানি ... চলেছি দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরে।

প্রকৃতির খেয়ালে মেঘমা তখন কেবলই সাদা-কালো ছবি আর সেই ফ্রেমে পূর্ববর্তী গোটা তিনেক ল্যান্ড রোভার বিশ্রামরত আর তার যাত্রীরা কেউ কেউ লালমোহনবাবুর মত পা ছাড়াচ্ছেন আবার কেউবা ছবি শিকারে মগ্ন। বিশ্রামরত গাড়িগুলোর একখানা বিগড়েছে তাই বিকল্প গাড়ির জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া গতি নেই। মেঘমার নামেই তো অর্কবাবু গা ঢাকা দেন, ফলতঃ হিমেল হাওয়া অন্তরে কাঁপন ধরিয়ে দেয়। তার চেয়ে বাপু একটু দেহটাকে সচল রাখি সেই ভালো।

মিনিটের হিসাব যখন ঘন্টার মত লাগছে তখন হঠাৎ কে যেন বলে ওঠে, "ওইতো গাড়ি আসছে।" পরিবর্তিত গাড়িতে আবার যাত্রা শুরু। সন্ধ্যার প্রারম্ভে আকাশজুড়ে কে যেন কমলালেবুর রস ছিটিয়ে দিয়েছে। স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে টুমলিং পেরিয়ে যেতেই প্রকৃতিও এমন শীতকাতুরে যে কালো একটা চাদর জড়িয়ে নিল গায়ে।

ক্রমে অন্ধকার গিলে খাচ্ছে, হেডলাইটের আলোয় খানিক নিদ্রায় ব্যাঘাত ঘটছে সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের।

গাড়ির গতি রুদ্ধ হতে সকলের মধ্যেই উত্তেজনার সঞ্চার হল, " আবার কি হল?"

তাশি আশ্বস্ত করল, " গৈরিবাস আ গিয়া, ইহাপে হাম থোরি দেড় রোকেঙ্গে।"

ক্ষনিকের বিরতির পর ভরসন্ধ্যাবেলা একদল গাড়ি হরিণ ছানার মত লাফিয়ে লাফিয়ে ছুটছে কালিপোখরি, বিকেভঞ্জন পেরিয়ে কঙ্কালসার গতিপথ ধরে।

শেষ চড়াই, দিনের আলোয় শেরপা শ্যালেট স্পষ্ট দেখা যায়, অসুরীয় শক্তিতে গাড়ি ছুটছে আর তার ভিতরের লোকগুলোর " ছেড়ে দে মা, হেঁটে বাঁচি" অবস্থা। .....

                                              পরবর্তী পর্ব আগামী শনিবার ২০/০৬/২০২৬ এ প্রকাশিত হবে

সংশ্লিষ্ট পোস্ট

ফালুটে বিড়ম্বনা (অন্তিম পর্ব)
সুরজিৎ ব্যানার্জি

ফালুটে বিড়ম্বনা (অন্তিম পর্ব)

সকালের প্রথমার্ধের রোদের মনোরম উষ্ণতার আবেশ শরীরে - মননে মেখে ছন্দে ছন্দে চলি আনন্দে। লাল তেকোনা ছাদবিশিষ্ট একাকী ছোট্ট বাড়িটার মাথার ওপর খাটানো নীল বিনি পয়সার তাঁবু আর তার পাশেই অতিক্ষুদ্র জলাশয়ে নীল আকাশের ছায়াকে উদ্বেলিত করে স্তব্ধতার গান। আনমনা মন এড়াতে পারেনা থুরি এড়াতে চায়না টুমলুর মায়াবী আকর্ষণ। "ভালবাসি বিশ্বের সুষমার ছবিটি"

সাপ্তাহিক লেখালেখি২৭ জুন, ২০২৬
অর্ঘ্য রায় চৌধুরীর দুটি কবিতা
অর্ঘ্য রায় চৌধুরী

অর্ঘ্য রায় চৌধুরীর দুটি কবিতা

সমস্ত উৎসব ফুরিয়ে গেছে বলেই সন্ধ্যা নেমে এল মেঠো পথ, বহুদূরে গাছেদের সারি বিকেলের আলোটুকু ম্লান এখন কোথায় যেতে পারো তুমি? অন্ধকারে হাতড়ে বেরিয়েছো চেনা পথ পুরোনো দরজায় কড়া নেড়ে দেখেছো বন্ধ হয়ে গেছে সমস্ত চিঠিদের চোখ এখন এক চোরাবালি জেগে উঠেছে ধূ ধূ চর, ওইপারে নিঃঝুম গ্রাম এইখান থেকে আজ ফিরে যেতে পারো।

সাপ্তাহিক লেখালেখি৬ জুন, ২০২৬
ব্রাত্য ঈশ্বর ও সৃষ্টির সংলাপ
এম এ ওয়াহিদ

ব্রাত্য ঈশ্বর ও সৃষ্টির সংলাপ

মানুষ শূন্য পৃথিবীর পায়ুপথে একটা আপেল গাছ রোপন করার পর আমি সোজা হাঁটা ধরলাম নরকের দিকে। পথে দেখা হলো ক্রশবিদ্ধ যিশুখ্রিষ্টের সঙ্গে। পথে দেখা হলো নূহের পুত্র কেনানে'র সঙ্গে। প্রত্যেকে তাঁদের নিজের পিতার বিরুদ্ধে কথা বলছেন।

সাপ্তাহিক লেখালেখি৪ জুলাই, ২০২৬