ফালুটে বিড়ম্বনা (পর্ব দুই)
ফালুটে বিড়ম্বনা (পর্ব দুই)
পর্ব দুই

গাড়িটা অনুভূমিক হতেই একসঙ্গে সবাই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। আজ কি পূর্ণিমা নাকি ? কই তেমন তো শুনিনি। সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের ফলকটা স্পষ্ট পড়া যাচ্ছে এই নিশীথে। স্মৃতির অ্যালবামের সাথে যে কোনো মিলই নেই। নিঃসন্দেহে আমরা পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ স্থানে আরোহন করেছি - তবে হঠাৎ এত আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যায়।

Img 20260509 W A0034

এরই নাম উন্নয়ন - প্রকৃতি-মা-এর সৌন্দর্যায়ন হয়েছে আধুনিকতার লম্ফ জ্বেলে। বোঝো ঠেলা এক শহর থেকে নিষ্কৃতি পেতে এলেম কিনা আরেক শহরে!

"কী আনন্দ, কী আনন্দ, কী আনন্দ

দিবারাত্রি নাচে মুক্তি নাচে বন্ধ ---"

গাড়ি এগিয়ে চলল শহর সান্দাকফু ছেড়ে, মাইলখানেক দূরে নেপালের অন্তর্গত আলদারার নির্জনতায় তাশি শেষপর্যন্ত চাবিটা বাঁদিকে পাক দিল।

পিঙ্কিদিদির কাঠের একলা বাড়ি তখন সরগরম। বাইরে সাদা কার্পেটের ওপর অনির্বাণ কাকু আর দিলীপ কাকু তাঁবু খাটাতে ব্যস্ত আর ডাইনিং হলটাতে টিমটিমে আলোতে এক ভৌতিক ছায়াছবির প্রেক্ষাপট রচিত হয়েছে। চারদিকে মালপত্রের পাহাড়, ছোট-বুড়ো সকলেই আগুনের পাশে একটুকু আরাম পেতে ভিড় করেছে। কয়লার আঁচে সকলের মুখেই লালচে আভা - চেনা দায় কোনটা যে কে!

সবাই জবুথবু, খানার নামে একটু নড়েচড়ে উঠলো। পূর্ণিমোেত্তর রাত, চাঁদের বাঁধ ভাঙা হাসির কোনো কমতি নেই, মায়াবী আলোয় মোহময়ী আলদারায় ক'জন মিলে নৈশ ভ্রমণে বেরোলাম। লুকোচুরি খেলছে ধূসর জ্যোৎস্না। নাঃ তারা দেখা যাচ্ছেনা। কুয়াশাচ্ছন্ন চারিধার, চন্দ্রালোকিত তুষারাবৃত প্রান্তরে রডোডেনড্রন গাছের মসীবর্ণ ছায়া-পরিলেখ রোমাঞ্চ আরও বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু কঙ্কনে ঠান্ডা হাওয়া এই স্বপ্নালু পরিবেশ থেকে মুক্তি নিতে একরকম বাধ্যই করে। মনে মনে পর্দার আড়ালে ঘুমন্ত বুদ্ধকে শুভরাত্রি জানিয়ে আমরাও নিদ্রাদেবীকে সাদরে অভ্যর্থনা করি।

ভোর ঠিক পাঁচটা, সেল্ফ অ্যালার্মটা আজ বিট্রে করেনি, তড়িঘড়ি লেপ - কম্বলের মায়া ত্যাগ করে বাড়ির পাশের টিলাটার ওপর টিকিটটা পাঞ্চ করিয়ে দেখলাম দর্শক আসন একদমই ফাঁকা। একদিকে তুষারাবৃত প্রান্তর শেষে সারিবদ্ধ পাহাড়ের ছায়া-পরিলেখ আর মেঘের চুম্বন, এরই মাঝে গগনতলে চাঁদ সূর্যের পালাবদলের পালা আরম্ভ হয়ে গেছে। না প্রাক্-কথনটা আর দীর্ঘায়িত করবনা, তবে ক্লাইম্যাক্সটা এই টানটান উত্তেজনাকে একটু স্তিমিত করে দিল। উত্তর-পূর্ব দিকে ফ্যাকাসে নীল ক্যানভাসে ছাইরঙা বিশাল এক অবয়ব হঠাৎ হাজির। পূর্বকোণটা ইতিমধ্যে রক্তিম বর্ণে রঙ্গিত হয়ে উঠেছে।

টেন্ট থেকেই সম্ভবত সুর ভেসে আসছে, " রাঙিয়ে দিয়ে যাও, যাও, যাও গো এবার যাবার আগে..."।

নবারুণের সোনালী আলোয় স্নাত পর্দানশীন ঘুমন্ত বুদ্ধ মঞ্চে হাজির, কিন্তু তবু যেন মন ভরে না, মেঘেদের কি আজ ছুটি নাকি, নেই যেন কোনো তাড়া, দেয় না কেন অন্য দেশে পাড়ি! রূপালী পাহাড়ের গায়ে সোনালী আলোর পরশ- দৃশ্যটা ঘোলাটে বটে কিন্তু সুন্দরী কাঞ্চনজঙ্ঘা হতাশ করেনি, স্বপরিবারে হাজিরা দিয়েছে ঠিক।

Img 20260509 W A0054

দৃশ্য তো হাজির কিন্তু দর্শক কই। ছবি শিকারের পর্বটাকে আরেকটু দীর্ঘায়িত করতে একটা টোপ দিলাম, " প্রাতঃভ্রমণে গেলে কেমন হয়?"। কয়েকজন টোপটা গিলে নিতেই ------- আর দেরি নয় পায়ে পায়ে সান্দাকফু। আমাদের আমন্ত্রণ করতেই পথে যেন শুভ্র গালিচা বিছানো, রডোডেনড্রন বৃক্ষরাজি ফুলের অভাবে শুকনো পাতা আর আতররূপী শিশির বর্ষণ করে চলেছে। ক্রমে পাহাড় কোলে রৌদ্র-ছায়া খেলা করছে, এদিকে নীলাম্বরের বহর জুড়ে সাদা-কালো মেঘ তাদের ভেলা ভাসিয়েছে। আবহে পন্ডিত আলি আকবর খানের রাগ সিন্ধু ভৈরবী মোহময়ী বাতায়নের মধুর মূর্ছনা মাখিয়ে দিয়েছে প্রকৃতির প্রতি রন্ধ্রে।

রোদ ঝলমলে খুশিভরা সুন্দর এক প্রভাত তো উপহার পাওয়া গেল, কিন্তু প্রকৃতি যে তার নিজের খেয়ালের নিজেই মালিক, তার মতিগতি বোঝে কার সাধ্যি। পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক প্রাতঃরাশের পর একটু দেরী করেই আধা কনাভয় যাত্রা শুরু করল ফালুটের উদ্দেশ্যে।

 বিস্তৃত মখমলের মতো মোলায়েম বুগিয়াল ঢেউ খেলে যায় আর তারই বুক চিরে চলেছে মোটরে পথ। পাহাড়ের শির ধরে খাঁ খাঁ রোদের মধ্যে পিকআপ ভ্যানকে সামনে রেখে ল্যান্ডরোভার সারিবদ্ধভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে চলেছে।

কোথাও কোথাও রডোডেনড্রন করিডোর, পথপ্রান্তে জুনিপারের ঝোপ, তারমধ্যে কঙ্কালসার দীর্ঘকায় সরলবর্গীয় বৃক্ষরাজি অতন্দ্র প্রহরীর মতো দন্ডায়মান - সব মিলিয়ে নিসর্গের রাজপাট এখানে জমজমাট। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিস্ফোরণে পনেরো-জোড়া চোখ যখন বিস্ফারিত প্রায় বেগতিকটা ঘটল ঠিক তখনই। একদম সামনের ল্যান্ড রোভারটা বিগড়েছে, ঢালের মুখে মহা কসরত করে পাথর ঠেকো দিয়ে তাকে দাঁড় করানো গেল। কিন্তু রাস্তা যে বড্ড সরু, পিকআপ ভ্যানটা শুধু সামনে তাছাড়া বাকি কনাভয়ের গতি রুদ্ধ হয়েছে।

সূর্যদেব কিছুক্ষণমাত্র হয়েছে নব্বই ডিগ্রীর সীমারেখা অতিক্রম করেছেন আর ড্রাইভার ভাইরা সকলে মিলেই প্রাণপণ চেষ্টা করে চলেছে কোমায় থাকা রোগীর দেহে পুনরায় প্রাণের সঞ্চার করতে। ইচ্ছে থাকলেই কি আর উপায় হয়! প্রবীন কলিজা, কত আর ধকল সয়!

 ট্রেক টিম কিন্তু দমার নয়। এক পাহাড় শেষে আরেক পাহাড় চরার মাঝে পাহাড়ঢালে একফালি চারনভূমি অতিক্রম করে তারা পৌঁছে গেছে শেষ দৃশ্যমান বাঁকটার মুখে। হিসাব করা হয়ে গেছে - মাইলফলক বলছে সবরগ্রাম আর কিলোমিটার খানেক বাকি, সুতরাং ফালুট মাত্র আট কিমি- ওইটুকু হেঁটে চলে যাব। ততক্ষণে হাওয়ার তার-এ খবর গেছে রটে, বৃদ্ধ গাড়িকে কোমা থেকে ফেরানো "না মুমকিন" তাকে শুধুমাত্র যেকোনো উপায়ে স্থানান্তরিত করতে হবে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে।

আমাদের ট্রেক টিমের অংশগ্রহণকারীরা ইতিমধ্যে স্টার্ট লাইনে প্রস্তুত, সবুজ বাতি জ্বলার অপেক্ষা মাত্র। এরই মধ্যে প্রকৃতিদেবী আশীর্বাদস্বরূপ কয়েক ফোঁটা শান্তির জল ছিটিয়ে দিলেন কিনা জানা নেই, সিগন্যাল-এর তত্ত্বাবধায়কদের কাছে যদিও তা নঞর্থক রূপেই ধার্য হল। দেবীও প্রাণপনে তাঁর ইচ্ছা প্রকাশ করার চেষ্টা করে নিরুপায় হয়ে হাল ছেড়ে দেন।

অগত্যা বাকি গাড়িগুলোতে সবাই গাদাগাদি করে, পিকআপ ভ্যানে মালপত্রের সাথে তোলপাড় হতে হতে তেরো কিমি মহাকর্ষের বিপরীতে যাত্রা করতে বাধ্য হলাম। যে রাস্তায় ল্যান্ড রোভারে চড়ে যাত্রা করাই সহজ নয় সেখানে পিকআপ ভ্যানে সওয়ার হওয়ার অভিজ্ঞতাটা না বললে যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তেরো কিলোমিটার পথ, সুকোমল তো নয়ই, আমরা মানুষ নাকি ক্যারমের ঘুঁটি সেটাই গুলিয়ে যাচ্ছিলো। সে যেন আরেক বলশক্তির পরীক্ষা। ড্রাইভার ডানদিকে স্টিয়ারিংটা ঘোরালেই মনে হয় এই বুঝি পৌঁছে গেলাম কিন্তু না ঢ্যাকর ঢ্যাকর চলতেই থাকে। সবারই সন্দেহের দৃষ্টি তখন.... বক্ষ পেটের যন্ত্রাংশ একে অপরের স্থান ওলটপালট করে ফেলেছে নিশ্চই।

আজ আলদারার এই একলা বাড়ির সম্মুখ ঘরের আবহাওয়ায় অনেক রদবদল; রাঙা কয়লার উষ্ণতাকেও ছাপিয়ে গেছে গাম্ভীর্যের উত্তাপ। আবারও যে নতুন করে ছক কষতে হবে - স্বভাবতই নানা মুনির নানা মত। এদিকে প্রায় সকলেই যখন ফিরতি দলে নাম লেখাচ্ছে, ট্রেক টিম তখন কট্টর বিরোধী - " কথা ছিল হেঁটে যাব, গাড়ি এবার নইব নইব চ।"

নির্জনে নৈশভ্রমণ কালে প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধ-শীতল পবনের স্পর্শে নিজেকে তর তাজা মনে হলো। তখন দিগন্তে সিঙ্গালিলা রেঞ্জের মাথার ওপর মেঘ কুয়াশার খেলা চলছে নিরবধি। রাত কাটে আধো ঘুমে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।

" হেঁটে যাব... ছায়াপথ...

আজও আছে গোপন ফেরারী মন..."

আলদারার সেই বিস্তৃত প্রেক্ষাগৃহে আজ আরেকবার একই ছায়াছবি -

" সেই কবে থেকে আমি রক্তিম,

আমি সব ভেঙে চুরে রাত্রির পরে চাপা হাসি হাসি বঙ্কিম।"

শুষ্ক হাওয়ার দাপটকে উপেক্ষা করে দর্শক সংখ্যা একটু হলেও বেশি। চারিরিদিকে রোমাঞ্চকর সিঙ্গালিলার জঙ্গল, সম্মুখে গেরুয়া বসনা শায়িত বুদ্ধ, মধ্যে মেঘমালা স্তরে স্তরে মায়াজাল বুনে রেখেছে-এ যেন এক রূপকথার দেশ।

থ্রি সিস্টারস শৃঙ্গ সহ মহোদয় এভারেস্ট - কেউই বাদ নেই এই রংমহলের অন্তঃপুরে। যদিও এমন স্বর্গীয় মুহূর্তের ধারাবিবরণী দেওয়ার চেষ্টাটাও বাহুলতা মাত্র।

"আনন্দ ওই এল দ্বারে, এল এল এল গো..."

কী ভাবছেন, হঠাৎ এর কী হল? এত পুলক কিসের? আরে ট্রেক টিম যে হাঁটার সুযোগ পেয়ে গেছে গন্তব্য টুমলিং। শুধুই কি আর দিক বদল! পথের ভোল আমূল বদলেছে। বিদায়কালে নিষ্পলকে ব্যাকুল চোখে তাকিয়ে দেখি- বারে বারে পিছু ডাকে ওই একলা বাড়ি, এককোণের ওই ছোট্ট টিলা। পটচিত্রে সবুজ-হলুদ রঙের আধিক্য, সেই হরিৎক্ষেত্রে রোদ্র-ছায়ার লুকোচুরি খেলা।

"পথে এবার নামো সাথী, পথে হবে এ পথ চেনা"

আলো-ছায়ার নকশা কাটা রডোডেনড্রন বৃক্ষের সুরঙ্গ ভেদ করে পথ চলা।পথের নৈঃশব্দের ছন্দে তাল মেলানোই আমাদের কাজ।

কিলোমিটার খানেক হেঁটেছি মনে হয়, "নাঃ একটা বিরতি না হলে হাঁটা যাবেনা"। না না ক্লান্তি নয়, আসলে একটু মোমো না হলে এত চড়াই উৎরাইতে ঠিক এনার্জি পাওয়া যায় না। সান্দাকফু এখন যতই সৌখিন, ঝাঁ চকচকে হোক না কেন, স্থান মাহাত্ম্য ছাড়াও সৌন্দর্যের ঝরনায় সিক্ত আরশিনগরে পৌঁছে ছবি শিকারীদের নাগাল পাওয়া বড়ই মুশকিল। উৎরাই এর সঙ্গে প্রকৃতি ও আপন হোলি খেলায় মত্ত। " বসন্ত এসে গেছে ..."

না না শিরিশ, বকুল কিংবা আমের মুকুল নয় নীল আকাশের নিচে সবুজের সমারোহে লাল - সাদা - গোলাপি অনুপমা রডোডেনড্রন এর রঙিন উচ্ছাস। পাহাড়-ঢাল সেজেছে আজ সম্রাজ্ঞীর বেশে। নাতিদীর্ঘ উৎরাই পেরিয়ে বিকেভঞ্জন, শুষ্ক পাহাড়ি পথে কালিপোখরির পবিত্র জলে রম্য ভূদৃশ্যের কম্পমান প্রতিবিম্ব; ভূলোক কে দেবলোকে অবতীর্ণ করে।

Img 20260509 W A0030

বিরতির পর বিরতি, "মনটা বড্ড চা চা করছে" অজুহাতের ঝাঁপি যেন খুলে গেছে। পাঠকদের মনে বিরক্তির সঞ্চার হচ্ছে না তো? ভাবতেই পারেন, এত জিরোনোর থাকলে হাঁটার শখ কেন বাপু। আসলে তা না, ক্লান্তির চেয়েও বড় কারন পাহাড়ের আনাচ কানাচ উপভোগ করা সময় নষ্ট করলে তবেই না প্রকৃতির অন্তর থেকে অন্তরে পৌঁছনো যায়।

গৈরিবাসে বিশ্রাম দীর্ঘায়িত হয়ে যাওয়ায় পরের চড়াইটা চলতে একটু বেগই পেতে হল।অস্তগামী সূর্যের নিস্তেজ আলো মেঘের লুই ভেদ করে ক্যানভাসে ছোপ ছোপ রঙ মাখিয়েছে। অসম্পূর্ণতাতেও কেমন লুকিয়ে আছে লাবন্যময় মায়াবী রূপ। এ যেন এক মন চুরির কারখানা। দূরদূরান্তে ওই পাহাড় চূড়ে দিনমানের শেষ বাতিটা কেউ ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিতেই গুরাস গাছের পদতলেই ক্ষণিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে।

নিঃশব্দের রোমাঞ্চকর মায়াজাল বেয়ে টুমলিঙের সেনা ছাউনি পার করেই উল্টোদিকে দুটি চলমান আলো নজরে আসে। চাঁদের ঝাপসা আলোয় মনে হল কেউ যেন এগিয়ে আসছে এপথেই। সামান্য হলেও গতি বৃদ্ধি পেল আমাদের। রবিন ভাই যতই অলীক গল্প ফাঁদুক না কেন সাড়া-শব্দে বুঝলাম যে দলের বাকিরা আমাদের এই নানা ছুতোয় বিরতির চোটে অস্থির হয়ে পড়েছে। আমাদের দর্শন পেয়ে সকলের কপালেই এখন সরলরেখা ধাবমান। 

"খানা তৈয়ার" ডাকে সদস্যগণ হড়কা বানের মত ভোজনশালায় হাজির। সে যেন এক রাজকীয় ব্যবস্থা... না না এখানেই শেষ নয় - নিদ্রার বন্দোবস্তও কম রাজকীয় নয়। ইংরেজি ভি - আকৃতির অ্যান্টিক শয্যা, ধুলোর মোড়কে পার্সিয়ান কার্পেটের সে কি জৌলুস।

ওহ্ বলা হয়নি আধো জ্যোৎস্নায় নৈশভ্রমণের নিয়ম কিন্তু ভঙ্গ হয়নি। মেঘপুঞ্জের ঘনঘটা আগামীকাল রাজ-দর্শনের আশায় শতাধিক প্রশ্নচিহ্ন স্থাপন করেছে...

কাঠের ঘরের ফাঁকফোকর দিয়ে মোলায়েম সূর্যরশ্মি নিজেই হাজির, আলতো ছোঁয়ায় বলে যায় - " ভোর হল দোর খোলো"। ঠান্ডার প্রকটতা নেই বলে নির্দ্বিধায় অনেকেই রাস্তার এ মাথা থেকে ও মাথা পায়চারি করছে। সোনাঝরা মিষ্টি সকালে আশেপাশের অনেকেরই চোখে হতাশা, মুখে আক্ষেপের স্বর। আমার দর্শণেন্দ্রিয়টির আজ আবার সকাল সকাল বন্ধুবিয়োগ হয়েছে। খানিক অপেক্ষার পর বোধ হল অরুণকুমার মেঘ রাজ্যের বেড়াজাল পেরিয়ে আজ রাজকুমারীর মাথায় সোনার কাঠির পরশ দিতে অপারক হয়েছেন। অগত্যা শেষ অধ্যায়ের সাজগোজ আরম্ভ হয়েছে জোর কদমে।

পালার শেষ দৃশ্য, মঞ্চসজ্জা ঝলমল করছে। নব অরুনের আহ্বানে জনা বারোর রঙিন শোভাযাত্রার সূচনা হয়েছে, চলেছে টুমলিগামী শৈলশিরা বরাবর প্রশস্ত রাজপথ ধরে, লাস্য মধুর তরঙ্গায়িত কি বিভক্ত অঙ্গ তার। সবুজের বিপুল সমারোহে মনের চপলতা যখন পদযুগলকে ছন্দবদ্ধ করেছে, বাঙালি মননে ঠাকুরগন্ধী ফুলের বর্ণময় উচ্ছলতা ছন্দপতন ঘটায়।

"হেথায় হোথায় যেথা পানে চাই

ফুল-ভারে দর্পিত রডোডেনড্রন পাই।"

পরবর্তী পর্ব আগামী ২৭/০৬/২০২৬ শনিবার প্রকাশিত হবে।

সংশ্লিষ্ট পোস্ট

ফালুটে বিড়ম্বনা (পর্ব এক)
সুরজিৎ ব্যানার্জি

ফালুটে বিড়ম্বনা (পর্ব এক)

কদিনের মধ্যেই গোয়েচালা যাব ঠিক হয়েই আছে- এরইমধ্যে একদিন বাড়ি ফিরতেই মা বলল, " সান্দাকফু যাবি নাকি?" মুখে বললাম, "আআআবাআআর", কিন্তু মনে মনে তো, "স্যাকটা তাহলে গুছিয়ে ফেলি।"

সাপ্তাহিক লেখালেখি১৩ জুন, ২০২৬
ফালুটে বিড়ম্বনা (অন্তিম পর্ব)
সুরজিৎ ব্যানার্জি

ফালুটে বিড়ম্বনা (অন্তিম পর্ব)

সকালের প্রথমার্ধের রোদের মনোরম উষ্ণতার আবেশ শরীরে - মননে মেখে ছন্দে ছন্দে চলি আনন্দে। লাল তেকোনা ছাদবিশিষ্ট একাকী ছোট্ট বাড়িটার মাথার ওপর খাটানো নীল বিনি পয়সার তাঁবু আর তার পাশেই অতিক্ষুদ্র জলাশয়ে নীল আকাশের ছায়াকে উদ্বেলিত করে স্তব্ধতার গান। আনমনা মন এড়াতে পারেনা থুরি এড়াতে চায়না টুমলুর মায়াবী আকর্ষণ। "ভালবাসি বিশ্বের সুষমার ছবিটি"

সাপ্তাহিক লেখালেখি২৭ জুন, ২০২৬
অর্ঘ্য রায় চৌধুরীর দুটি কবিতা
অর্ঘ্য রায় চৌধুরী

অর্ঘ্য রায় চৌধুরীর দুটি কবিতা

সমস্ত উৎসব ফুরিয়ে গেছে বলেই সন্ধ্যা নেমে এল মেঠো পথ, বহুদূরে গাছেদের সারি বিকেলের আলোটুকু ম্লান এখন কোথায় যেতে পারো তুমি? অন্ধকারে হাতড়ে বেরিয়েছো চেনা পথ পুরোনো দরজায় কড়া নেড়ে দেখেছো বন্ধ হয়ে গেছে সমস্ত চিঠিদের চোখ এখন এক চোরাবালি জেগে উঠেছে ধূ ধূ চর, ওইপারে নিঃঝুম গ্রাম এইখান থেকে আজ ফিরে যেতে পারো।

সাপ্তাহিক লেখালেখি৬ জুন, ২০২৬