২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
শিশিরে ভেজা বর্ণমালা
শিশিরে ভেজা বর্ণমালা

রাজপথ এখনো সম্পূর্ণ শুকোয়নি—

ফাগুন তার দহনময় কপালে

কৃষ্ণচূড়ার লাল অক্ষর এঁকে

শহরের ধমনিতে ছড়িয়ে দেয় রক্তিম স্পন্দন।

 

সেদিন

মায়ের মুখের ভাষা

কারও অনুমতির অপেক্ষায় ছিল না—

নীরবে জেগে উঠেছিল অ আ ক খ;

শিশুর অনুশীলনীতে নয়,

অন্ধকারের মুখোমুখি

দাঁড়িয়ে ছিল আলোকিত বর্ণমালা।

 

সালাম।

বরকত।

রফিক।

জব্বার।

এই নামগুলো পাথরে খোদাই নয়—

রক্তের অন্তঃসলিলা নদী,

যার স্রোতে ভেসে আসে

নিজের মতো করে বলার সাহস।

তাদের বুকে বিস্ফোরিত শব্দ

ভাষার প্রথম ছাপা অক্ষর—

কালি ছিল রক্ত,

কাগজ ছিল সময়।

 

সেদিন দেখা গিয়েছিল—

একটি ভাষা যখন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ায়,

অহংকারের প্রাসাদ কেঁপে ওঠে

নীরব কম্পনে।

 

মায়ের হাসি আজও প্রভাতের মতো নির্মল,

অ আ ক খ এখনো শিশির-ছোঁয়া ধ্বনি—

তবু প্রশ্ন থেকে যায়—

আমরা কি শোধ করেছি সেই ঋণ?

নাকি শব্দগুলোকে ফুলের তোড়ায় বেঁধে

ভুলে গেছি তাদের রক্তাক্ত জন্ম?

 

শহীদ মিনার—

শুধু স্থাপত্য নয়,

উঁচু হয়ে থাকা এক সামষ্টিক মেরুদণ্ড।

এখানে দাঁড়ালে

নত হয় না মাথা,

বরং সোজা হয়ে যায় সময়।

 

একুশ মানে,

নিজের কণ্ঠে দাঁড়িয়ে থাকা।

 

বাংলা—

কণ্ঠের ভেতর জ্বলা আগুন,

রক্তে জেগে থাকা

অনুবাদহীন স্বদেশ।

সংশ্লিষ্ট পোস্ট

কয়েকটি কবিতা
ওয়াহিদার হোসেন

কয়েকটি কবিতা

সকল দ্বিধা। ফেলে দিয়ে আস্তে আস্তে চলে আসি অন্ধকারে।এভাবেও ফেরা যায়।ফেরা কি সম্ভব?সাধুসঙ্গ টেনে আনে গার্হস্থের তুমুল আলোয়।দড়ি দড়া ছিড়ে ভেঙে পাখিও কি ফিরতে পারে পরিচিত শাখের জঠরে?

কবিতা৭ মে, ২০২৪
দুটি কবিতা
জ্যোতির্ময় বিশ্বাস

দুটি কবিতা

একা যে হাঁটছ যুবক এ বন পছন্দ বুঝি, ক'দিন এসেছ আগে শুনি বসো হেলান দিয়ে এই ফাল্গুনের ধ্বনি আর আগুনের পাশে বসে শুনি তোমার কথা সব

কবিতা৭ মে, ২০২৪
একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......
শ্রী সদ্যোজাত

একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......

ছেড়ে দেওয়ার পরেও কেমন যেন সে নয়ন আপন নয়ন হয়ে থাকে। কাছে থাকলে যদি অখিল স্রোতের বিড়ম্বনা আসে, একসময়ের পরিচিত একান্ত সংকেতগুলো হঠাৎ ঝড়ের মতন আবছা হয়ে আসে, ছেড়ে দেওয়ার পরেও সে কেমন একটা শিউলি শিউলি গন্ধ এই অবেলাতেও সারা গায়ে লেপ্টে রাখে,

কবিতা৭ মে, ২০২৪