
কারণ আমি সংসারী
চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতেই পারি
রাজা তুমি বেইমান, রাজা তুমি মিথ্যেবাদী।
কিন্তু বলব না, কারণ আমি সংসারী।
সংসারের জন্য বাঁচতে হবে আরো কয়েক কুড়ি বছর
কার ধড়ে কটা মাথা যে চিৎকার করে বলবে
ধর্মতলার মোড়ে-
রাজা তুমি অত্যাচারী
রাজা তুমি হত্যাকারী
এত সাহস আমার নেই, কারণ আমি সংসারী।
বলতেই পারো আমাকে ভীতুর ডিম বা অমেরুদন্ডী
শুনতে শুনতে ঠিক অভ্যস্ত হয়ে যাব একদিন
কার মাথায় কটা শিং যে চিৎকার করে বলবে
যন্তর মন্তরে
রাজা তুমি অযোগ্যতম
রাজা তুমি উলঙ্গচারী
এত সাহস আমার নেই, কারণ আমি সংসারী।
___________
একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাকরণ
তোমাকে বলার মত কোনো কথা থাকতে পারে
ভাবিনি কোনদিন। যখন বলার মত কথাগুলো
অধরে এসে জমা হল, তোমার শোনার দিন
শেষ হয়েছে। ঠিক যাকে 'ভালবাসা' বলে তারা
পাড়ি দিয়েছে উদ্বাস্তু স্বপ্নের দেশে।
তোমাকে নিবিষ্ট চোখে দেখিনি কোনদিন বা নিবিষ্ট
হৃদয়ে অনুভব করিনি। উদাসী চোখের আশেপাশেই
ছিলে তুমি নিঃসঙ্গ ঘাসফড়িং। উড়ে যাওয়ার পরেই
তোমাকে দেখার পিপাসা পেল অন্তহীন। ভিখারি এ
চোখ, বেছে নিল বাউলের বেশ।
তোমাকে পাওয়ার কথা ভাবিনি কখনো বা সাহসে
কুলোয়নি হয়ত। ধান ক্ষেতে ঢেউ তুলে সবুজ আলপথে লতা-গুল্ম অবহেলে এগিয়ে গিয়েছে অনেকদূর। অবহেলার ভাঙাচোরা সংসারে তোমাকে আনার কথা
ভাবিনি কোনদিন। এ যেন আমার একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাকরণ।
_______
নরখাদকেরা
জাগতিক অরণ্যে নরখাদকদের দাপাদাপি
ওত পেতে আছে কোন অজুহাতে শিকারের
উপর ঝাঁপিয়ে পড়া যায় বন্য উল্লাসে।
বেদনা ও অশ্রুর সাগরে প্রেম খাবি খেতে খেতে
একসময় ডুবে যায়। লাশের পাড়ে বসে নরখাদকের
দল মেতে ওঠে হিংস্র উচ্ছ্বাসে।
ধ্বংসস্তুপের পাশ দিয়ে শিশুটি ছুটে আসে নির্বোধ,
শিশু বোঝেনা ভগ্ন অট্টালিকার ইঁট কাঠ পাথরই
তার নিরাপদ ঠাঁই।
সংসার এখন নীরবতা পালনে ব্যস্ত। হাতঘড়ির
দিকে মুহুর্মুহু তাকিয়ে ভাবছি, এই বুঝি মৌনতা
সমাপ্ত! এক অলৌকিক মৌনতা ।
নরখাদকেরা বাগান উজাড় করে নগরের দিকে
ধাবমান। ফসলের ক্ষেতে অদ্ভুত শূন্যতা।
চারপাশে মৃত্যুর পাহাড়, মাঝে রক্তাক্ত গিরিখাত অতিক্রম করছে বিদ্বেষ।
ক্ষমতার বিষাক্ত ফেনিল উন্মাদনা, নগ্নতার
পাশবিক উল্লাস । অন্ধকার নেমেছে আজ,
সূর্য অস্তগামী, বিশ্বময় প্রাণের আকাল।
কবর খুঁড়ে খুঁড়ে অনাদি গরল পান করছে
নরখাদকের দল। লক্ষ লক্ষ কবরে এখন
মৃত পুষ্পের সমাধি।
ক্লান্ত মৃত্তিকার ভিতরে অবরুদ্ধ বিদ্রোহ
প্রতীক্ষার এক সীমাহীন কাল, বন্ধ্যা পৃথিবীর গর্ভ।
সংশ্লিষ্ট পোস্ট

কয়েকটি কবিতা
সকল দ্বিধা। ফেলে দিয়ে আস্তে আস্তে চলে আসি অন্ধকারে।এভাবেও ফেরা যায়।ফেরা কি সম্ভব?সাধুসঙ্গ টেনে আনে গার্হস্থের তুমুল আলোয়।দড়ি দড়া ছিড়ে ভেঙে পাখিও কি ফিরতে পারে পরিচিত শাখের জঠরে?

দুটি কবিতা
একা যে হাঁটছ যুবক এ বন পছন্দ বুঝি, ক'দিন এসেছ আগে শুনি বসো হেলান দিয়ে এই ফাল্গুনের ধ্বনি আর আগুনের পাশে বসে শুনি তোমার কথা সব

একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......
ছেড়ে দেওয়ার পরেও কেমন যেন সে নয়ন আপন নয়ন হয়ে থাকে। কাছে থাকলে যদি অখিল স্রোতের বিড়ম্বনা আসে, একসময়ের পরিচিত একান্ত সংকেতগুলো হঠাৎ ঝড়ের মতন আবছা হয়ে আসে, ছেড়ে দেওয়ার পরেও সে কেমন একটা শিউলি শিউলি গন্ধ এই অবেলাতেও সারা গায়ে লেপ্টে রাখে,