
১)
আত্মীয়
রক্তারক্তি অগ্নিকাণ্ড
খেলে যারা চলে গেছে আলো পরবর্তী গ্রহে
ভালোমনে আজ তাদের ছুটি উদযাপন করো
স্মৃতিভঞ্জন হোক
আঁটো করে বসে থাকা গরিবিয়ানার
কত আর পণ্য বানিয়ে বিক্রি হবে সভামণ্ডলে?
একদিন পাহাড়ে গিয়ে সারারাত
কথা বলো
যদি সম্ভব হয় পৃথিবী ডিঙিয়ে এসো
নিশিগন্ধা শরীর...ব্রহ্মপলাশ...
বেড়া ধরে দোল খেতে খেতে হলুদ কবিতার কলিই
গুনগুন করে গাইলে নাহয়
বিরল এই ফাল্গুনের হাওয়ায়
শালবনীর মৃদু মাটি সঁপে দিয়েছি লক্ষ চাঁদের পায়ে
ভরদ্বিপ্রহরের ছায়া নামা চিকচিকে রোদে
পূর্বাপেক্ষা খিদে জেগে উঠেছে সুদূরপ্রসার
জানলার গ্রীবায় আদুর
ফনা তুলে দেখো হে আমার মূর্তিমান পাপ
আমি তোমার বিশেষ আত্মীয়
__________
২)
বড়লোকের ঈশ্বর
মানুষের তালিকায় যার নাম পেটে-ভাতে লেখা
মায়াবনে অন্ধ বিহারিণী যে
শিকার হচ্ছে রোজ অজস্র মিথ্যের ফুলে
সে যদি জিতে যায় আজ
তাহলে তোমার মৃত্যুত্তীর্ণ পদচারণ একটু কি খাপছাড়া হবে?
একটু কি চমকে উঠবে তোমার বিস্তারিত অন্ধকার?
লোকে ঠিকই বলে ঈশ্বর বড়লোক
গরীবকুটিরে তার লাস্যবেশ আঁটে না, আঁটে না
এতদিন যা দেখেছে লোকে তাই তো বলবে
সেভাবেই তো বন্দী করবে নাচার বাতাস
যেভাবে এতকাল নিজেরা দমবন্ধ বসে আছে শিরায় শিরায়
মামলা আর লহমা একই ঘুমে নড়েচড়ে ওঠে যার
তার ঈশ্বর পচনশীল, পাঁড়মাতাল হলে চলে?
এতদূর এসে আমি নিস্পৃহ হই, একা হই
তুমি মজা নাও আমার দুঃখের
নেপথ্যে দীর্ঘজীভি করো খসখসে দিন
সব মামলাই কি তুমি জিতবে বড়লোকের ঈশ্বর?
___________
৩)
ইচ্ছানুসারে
ভাষা বলতে তোমাকেই বুঝি
বন্ধু বলো, প্রেমিক বলো, রচিত অন্তর্ঘাত
সমস্তেই উৎকীর্ণ তোমার প্রেরণা
বারবার পাঠ নাও সংকেতশরীরের
পাঠভাস্যে জলজ ময়ূর
অবাক পাখায় দুলতে দুলতে ঢেউ হয়ে ওঠে
অবাক পাখায় দুলতে দুলতে মঙ্গলময়
কোন্ যুগে একবার হেসেছিলে মায়ারূপিনী
এযুগেও এই পৃথিবীর
সলজ্জ চোখ নত হয়ে আছে
আজও বিরহী তুলনা আগাগোড়া জেগে আছে
কদমছায়ার
তবু কেন দেখতে পেলে না বলো তো?
তবু কেন বাড়ালে না লোভনীয় হাত?
চিহ্নগুলো একবার
অদলবদল করে দেখো তো
সর্বকনিষ্ঠ রোদের দিন চিনতে পারো কিনা?
___________
৪)
আধপোড়া
এই শীতে নিঃস্ব হয়ে আছি...
সব পাতা ঝরে গেছে
সব অভিমান
সামনে কেউ নেই তবু
মৃত্যুদেবতার নাম রাস্তায় রাস্তায়
সহজ আদর হয়ে আছে
অনেক তো কথা হল মানুষের সঙ্গে
এখনও কি ইন্দ্রত্ব চাও?
এখনও কি সেজদা কর শব্দহীন আয়ুর?
আমার বাড়ির দেওয়ালে
নৈঃশব্দ্যের আলফাজ ফুটে আছে বহুকাল হল
এ বছরও রংমিস্ত্রি এক পোঁচ
শাদা বুলিয়ে গেছে তার ওপর
_________
৫)
প্রেতপুরী
যখন 'না' বলেছিলাম
তখন বিশ্বাস করেছিলে সত্য জলের মতো সহজ
যখন 'হ্যাঁ' বললাম
তখন বুঝে নিলে মিথ্যের মতো চতুর আমার প্রেম
আমি আসলে হিমকালের অনন্ত হলুদ পাতা
মানুষের পায়ে পায়ে ভেঙেচুরে যাই
সংশ্লিষ্ট পোস্ট

কয়েকটি কবিতা
সকল দ্বিধা। ফেলে দিয়ে আস্তে আস্তে চলে আসি অন্ধকারে।এভাবেও ফেরা যায়।ফেরা কি সম্ভব?সাধুসঙ্গ টেনে আনে গার্হস্থের তুমুল আলোয়।দড়ি দড়া ছিড়ে ভেঙে পাখিও কি ফিরতে পারে পরিচিত শাখের জঠরে?

দুটি কবিতা
একা যে হাঁটছ যুবক এ বন পছন্দ বুঝি, ক'দিন এসেছ আগে শুনি বসো হেলান দিয়ে এই ফাল্গুনের ধ্বনি আর আগুনের পাশে বসে শুনি তোমার কথা সব

একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......
ছেড়ে দেওয়ার পরেও কেমন যেন সে নয়ন আপন নয়ন হয়ে থাকে। কাছে থাকলে যদি অখিল স্রোতের বিড়ম্বনা আসে, একসময়ের পরিচিত একান্ত সংকেতগুলো হঠাৎ ঝড়ের মতন আবছা হয়ে আসে, ছেড়ে দেওয়ার পরেও সে কেমন একটা শিউলি শিউলি গন্ধ এই অবেলাতেও সারা গায়ে লেপ্টে রাখে,