
সমাজবোধ ও মানবিকতার সংকট-
অনলাইন আসক্তি শুধু ব্যক্তি নয়, সমাজকেও ভেতর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আজ পরিবারে সবাই একসঙ্গে বসে খায়, কিন্তু কেউ কারও সঙ্গে কথা বলে না। সবাই নিজের স্ক্রিনে ব্যস্ত। বন্ধুত্ব এখন ‘ফলো রিকোয়েস্ট’-এর সীমায় আবদ্ধ, ভালোবাসা হয়ে গেছে ‘চ্যাট হিস্ট্রি’।
মানুষের সহানুভূতি, সংবেদনশীলতা, মানবিক যোগাযোগ- সবই কমছে। দুর্ঘটনার স্থানে মানুষ এখন সাহায্যের হাত বাড়ায় না; বরং প্রথমে ভিডিও তোলে। এই দৃশ্যটাই প্রমাণ করে আমরা ধীরে ধীরে রক্তমাংসের মানুষ থেকে যন্ত্রচালিত দর্শকে পরিণত হচ্ছি।
সমাধানের পথ- প্রযুক্তি নয়, সচেতনতা-
প্রযুক্তি নিজে শত্রু নয়, শত্রু হলো আমাদের অচেতন ব্যবহার। স্মার্টফোনের ব্যবহারকে “স্মার্ট” করতে হবে।
পরিবারে নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা, স্ক্রিন টাইম সীমিত করা, বাস্তব জীবনে আড্ডা ও বই পড়াকে ফিরিয়ে আনা- এই ছোট পরিবর্তনগুলোই হতে পারে বড় বিপ্লবের সূচনা।
স্কুল, কলেজ ও পরিবারে 'ডিজিটাল লিটারেসি' শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত- যেখানে শিশুরা শিখবে কিভাবে সত্য ও মিথ্যা তথ্য আলাদা করা যায়, কিভাবে অনলাইনে নিরাপদ থাকা যায়, এবং কিভাবে প্রযুক্তিকে নিজের জীবনের সহায়ক করা যায়, প্রভু নয়।
মানুষকে ফিরিয়ে আনতে হবে নিজের মাটিত
আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে মানুষ সারাক্ষণ সংযুক্ত, তবুও সবচেয়ে একা। আমরা জানি পৃথিবীর খবর, কিন্তু জানি না পাশের বাড়ির মানুষের কষ্ট। আমরা হাজার “লাইক” পাই, কিন্তু একটিও সত্যিকারের ভালোবাসা হারিয়ে ফেলেছি। সময় এসেছে এই ভার্চুয়াল ঘূর্ণিপাক থেকে একটু বাইরে এসে শ্বাস নেওয়ার। স্মার্টফোন যেন আমাদের হাতে থাকে, আমরা তার হাতে না। মানবিক সম্পর্ক, প্রকৃতি, বাস্তবতার ঘ্রাণ- এসবই আমাদের প্রকৃত সম্পদ, যা কোনো রিচার্জ প্যাক বা অ্যাপে মেলে না। পরিশেষে বলা যায়,
"প্রযুক্তি তখনই আশীর্বাদ, যখন মানুষ সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করে আর প্রযুক্তি তখনই অভিশাপ, যখন মানুষ তার দাসে পরিণত হয়।"
সংশ্লিষ্ট পোস্ট

আমার রবীন্দ্রনাথ
রবীন্দ্রনাথ হলেন জ্ঞান ও বোধ। তোমাদের আঁচলে কি ? কি বাঁধা আছে ? জ্ঞান ও বোধ বেঁধে রেখেছো কেন ? আঁচলে চাবি গোছা।তার সাথে রবীন্দ্রনাথ।সকল মায়ের আঁচলে বাঁধা।সন্তান ছুটতে ছুটতে চলে এল।চোখে ঘাম।মুখে ঘাম।পায়ে ধুলা।ছেলে মেয়ের পৃথক গামছা।গামছায় ছেলে মেয়ে পরিস্কার হল। মা ওদের তো রবীন্দ্রনাথ দিলে না ? রবীন্দ্রনাথ গামছায় নেই।রবী আছেন আঁচলে।

রঞ্জিত কথা - শঙ্খ ঘোষ
রবীন্দ্রনাথের ‘জীবনস্মৃতি-র সেই কথা মনে পড়ে –‘আমাদের ভিতরের এই চিত্রপটের দিকে ভালো করিয়া তাকাইবার আমাদের অবসর থাকে না। ক্ষণে ক্ষণে ইহার এক-একটা অংশের দিকে আমরা দৃষ্টিপাত করি। কিন্তু ইহার অধিকাংশই অন্ধকারে অগোচরে পড়িয়া থাকে’। সেই অন্ধকারে এঁকে রাখা ছবিগুলো যা রঞ্জিত সিংহ’র ভেতরে একান্ত ব্যক্তিগত হয়ে থেকে গিয়েছিলো, আমি সেগুলোকেই আলোয় আনতে চেয়েছি। ‘রঞ্জিতকথা’ তাই।

গাছ
চুপ করে বসে থাক আর শোন। গাছেরাও কথা বলে জানলাম কাল। সকালে হাই তোলার মত করে গাছেরাও শব্দ করে শুকনো,ভেজা পাতাগুলোকে ঝেড়ে ফ্যালে সকালের প্রথম হাওয়ায়। তারপর একটু হাত পা নাড়িয়ে ব্যায়াম করে, সকালের রোদে। শুকনো ডালগুলোর মড়মড় আওয়াজ শুনলে বুঝবি।