২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
শিশির আজমের ৫টি কবিতা
শিশির আজমের ৫টি কবিতা

আমার আগ্নেয়গিরি আপনি কিনে নিতে পারবেন না

 

 

শস্যের বাজারে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসি

চাটবো শুকনো ঠোঁট

তার আগে ঘরের দেয়াল ঘেসে

তেতো সূর্য খিকখিক হাসে

 

সব ঋতুকেই আমি দেখতে পারি সমান চোখে

তবে কোন একজনের কথা যদি বলতেই হয়

তা বর্ষা

কেন না ও তোমাকে আমাকে সবাইকে স্নান করিয়ে দেয়

একই হাতে

একই জলে

কিন্তু আমাদের ও বলে না ওক্লাহোমায় নিগ্রো মেয়েটির

কনুই ও কপালের রক্ত

ও ধুয়ে দিয়ে এসেছে

 

আসি আমার সব রক্ত আর কষ ধুই না

আগ্নেয়গিরির পাশে

তেল নুন কেনার দরকার ছিল সেটা কিনে

থলে ফেলে

বেড়াতে বেরোই

 

জানি

পাখিরা এবার বোকা কাকতাড়ুয়াটিকে

ভোটে পাশ করিয়ে দেবে

 

নির্দিষ্ট কোন বইয়ের প্রতি

কোন জায়গার প্রতি

কোন টেবিলের প্রতি

আমার মোহ নেই

 

কেবল আমি দেখে রাখি আমার আগ্নেয়গিরি

হ্যা নিজেই ও বুঝে নিক ওর রক্ত

আর আগুন

কোথায় রাখবে ও

কার কাছে

 

________

 

 

 

কবিতা চায় অর লগে আমি থাকি

 

 

 

কবিতা আমার লগে থাকতে চাইছে এইটা তো আমি ভাবি নাই

তারপর কবিতারে আমি পাইছি

কবিতারে নিছি নিজের কইরা

হ এইটা ঠিক হোয়াইট হাউস আর ক্রেমলিনের মধ্যে মানঅভিমান চলতেছে

গরুর মাংসের কিলো ৭০০ টাকা

ছাগলের মাংস ১১০০ টাকা

দেশি মুরগি ৫০০ টাকা

মেয়েমানুষের মাংস কিন্তু অবস্থানভেদে দামে হেরফের হইতে পারে

আর এজ 15 না 25

না কি 35

অর 50

টি শার্ট না সালোয়ার-কামিজ

না শাড়ি

এগুলা কাস্টোমারের চাহিদায় তেমন ইফেক্ট করে না

 

যা হোক কবিতা ছাড়া মানুষ আরও কিছু তো চাইতে পারে

আরও কিছু

অথবা

এবজন মানুষ কবিতারে চায়

চায়ই

এবং আরও কিছু চায়

কবিতার লগে যেগুলার আরতি নাই কন্ট্রোভার্সি নাই

নাই হয় তো

 

_______

 

 

কিছু বিষয় তোমার জানা দরকার

 

 

আমিই বিদ্যুৎ আবিষ্কার করেছি আর কলমদানি আর ব্রহ্মপুত্র নদ

এটা তোমার স্বীকার করা উচিৎ

আমিই আইফেল টাওয়ারের মূল নকশাকার

তুমি তো জানো

আর তোমার ভেতরের কোমল অন্ধকার

ওখানে ছিলাম আমি

এখন

চুপ করে আছ তুমি অথবা নিজেকে খুঁজে পেতে চাইছো

এটা ভাল

হ্যা

তোমার জন্য

তোমার জন্য আর আমার জন্য

 

 

________

 

 

 

রিকশা

 

 

বাগানের রাস্তা দিয়ে রিকশা আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল

তারপর সন্ধ্যায় ক্যাপিটালিস্ট বায়োগ্রাফি

জোনাকিরা আত্মহত্যার পূর্বে গান সুরু করলো

তারপর বায়ুনৌকোর মূর্খামী

মাতৃজোনাকির ছায়ায় আমিও বড় হয়েছি

রিকশা আমাকে নিয়ে উড়তে শুরু করলো

অসাবধানতাবসত তার ডানার দুটো নাট খুলে পড়েছিল

সেগুলো ছাড়াই

কেউ হয় তো একদিন সেই নৈশজীবাশ্মময় নাটদুটো

পেয়ে যাবে জোনাকিদের বনে

 

 

__________

 

 

মহাজাগতিক চ্যূতি

 

এতো ঘৃণা নিয়ে কেউ বাঁচে? নিজের প্রতি, আপন প্রতিবেশের প্রতি আর মহাজাগতিক সমভূমিকায় এতো ঘৃণা এতো এতো ঘৃণা, ব্যকটেরিওলোজি, রেডিয়াম, ডার্ক হারমোনি -- পৃথিবী পুড়ে ছাই হয়ে যাবে!

সংশ্লিষ্ট পোস্ট

কয়েকটি কবিতা
ওয়াহিদার হোসেন

কয়েকটি কবিতা

সকল দ্বিধা। ফেলে দিয়ে আস্তে আস্তে চলে আসি অন্ধকারে।এভাবেও ফেরা যায়।ফেরা কি সম্ভব?সাধুসঙ্গ টেনে আনে গার্হস্থের তুমুল আলোয়।দড়ি দড়া ছিড়ে ভেঙে পাখিও কি ফিরতে পারে পরিচিত শাখের জঠরে?

কবিতা৭ মে, ২০২৪
দুটি কবিতা
জ্যোতির্ময় বিশ্বাস

দুটি কবিতা

একা যে হাঁটছ যুবক এ বন পছন্দ বুঝি, ক'দিন এসেছ আগে শুনি বসো হেলান দিয়ে এই ফাল্গুনের ধ্বনি আর আগুনের পাশে বসে শুনি তোমার কথা সব

কবিতা৭ মে, ২০২৪
একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......
শ্রী সদ্যোজাত

একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......

ছেড়ে দেওয়ার পরেও কেমন যেন সে নয়ন আপন নয়ন হয়ে থাকে। কাছে থাকলে যদি অখিল স্রোতের বিড়ম্বনা আসে, একসময়ের পরিচিত একান্ত সংকেতগুলো হঠাৎ ঝড়ের মতন আবছা হয়ে আসে, ছেড়ে দেওয়ার পরেও সে কেমন একটা শিউলি শিউলি গন্ধ এই অবেলাতেও সারা গায়ে লেপ্টে রাখে,

কবিতা৭ মে, ২০২৪