২৭ জুলাই, ২০২৬
চারটি কবিতা
চারটি কবিতা

হাঁসের পায়ের ছাপ

 

ছায়া দিয়ে মুড়িয়ে দিয়েছি বন, একটা টলটলে পুকুর, আর তিনটা হাঁস। শৈশবে আমি ভাবতাম একটা প্রজাপতির ভেতর হলুদ ডানার বিস্তার ছাড়া আর কিছু নেই। ভাবতাম প্রজাপতির জন্ম রাইখেতে। এখনো তাইই ভাবি। প্রজাপতি মন্ত্র পড়বার পর একবার মনে হল ভুলে যাই শৈশব। কিন্তু মানুষ এমনই বিপন্ন প্রাণী, শৈশব ছাড়া সবকিছুই ভুলে যায়।

যাদের অ্যালঝাইমার হয় তাদেরও শৈশব মনে থাকে শেষের আগ পর্যন্ত। আর যখন শৈশবও ভুলে যায় তখন তারা শিশু হয়ে যায়। আর ছায়া দিয়ে মুড়িয়ে রাখে বুড়ো আঙুলের নখ, যদি নখের আয়নায় আলো লেগে দৃশ্যমান হয় ফুরিয়ে যাওয়া জীবনের ঘ্রাণ।

ছায়ার ভেতর দেখি পৃথিবীতে হাঁসের পায়ের ছাপ ছাড়া আর কিছু নেই।

 

০৮-০৩-২৬

 

 

রাস্তা পার হবার ভয়

 

আমি রাস্তা পার হতে ভয় পাই। এই জেনে তুমি বহুদিন আগে একদিন আমাকে হাত ধরে রাস্তা পার করে দিয়েছিলে। এই কথা আমি ভুলে গিয়েছি বলে যে তুমিও ভুলেছ, তা আমি বলতে পারি না।

সেই রাস্তার মোড়ে একাকী দাঁড়িয়ে এখন দেখি জেব্রাক্রসিং থেকে বের হয়ে ছুটে যাচ্ছে চব্বিশটা জেব্রা। রাস্তায় আর থাকছে না কোনো শাদা দাগ। জেব্রার পিছে ছুটে যাচ্ছে ধূসর বাস, ট্রাক আর টকটকে লাল নয়টা গাড়ি। আমার হাত কাঁপছে ধীরে, লোকের আগোচরে। আমার হাতের চারপাশে উষ্ণ হাওয়ার চিৎকার।

আজ আমার কিছুতেই মনে পড়ছে না, তোমার পায়ে কী রঙের স্যান্ডেল ছিল। কেবল মনে পড়ছে, একই কথা তুমি আমাকে বলবার ঠিক আগেই আমি তোমার কানের কাছ মুখ টেনে বলেছিলাম অস্ফূটে, আমি রাস্তা পার হতে ভয় পাই।

 

২৮-০১-২৬

 

 

প্রতারক পথ

পথ কুড়িয়ে এনে ঘরে রেখে দিই। ধূলি ঝাড়ি। দুয়েকটা পথ বারান্দায় বিছিয়ে দিই আড়া-আড়ি করে। সাড়ে তিন হাত বারান্দা দীর্ঘ হয়ে দিগন্তের দিকে চলে যায়, ভাবি। দিগন্তেই সব আছে জেনে আমি গভীর মন খারাপ করে হাঁটি। রাত ভেঙে, ভোর ভেঙে হাঁটি আর হাঁটি। শহর ফেলে, মাঠ, ঝিলিমিল  ঝিলপাড়ের সূর্যচ্ছায়া, হাঁসপাখিদের গ্রামের স্মৃতি, পুকুর আর পাকুড়ের গন্ধ চিরে যাই বনে, নিমফুলের দিকে।

নিমফুল ছুঁতে গিয়ে দেখি, এই ফুল আমার ঘরের দেওয়ালে ছবি হয়ে ঝুলে আছে। কবে কোন সুতীব্র একলা রাতের রং গুলে এই ছবি এঁকে রেখেছি! মনে নেই। আমার চোখ ফুল থেকে প্রতারক পথের পায়ে নামে। দেখি, বাহিরের রাস্তা থেকে কুড়িয়ে এনে যেই পথ ঘরে বিছিয়েছি, সেই পথ বৃত্ত হয়ে আছে।

 

২১-১১-২৫

 

 

মধুমালা! তোমার রাত্রি

দীর্ঘ রাত্রির কাঁটায় দীর্ণ তুমি, বুনে চলো অঘুম নদীর দেশ।

মধুমালা! রাত্রি দীর্ঘ হলে নদীও দিঘল হয়, জানো না তুমি। নদীর তলায় পাথর আর কাদা মিলে খোঁড়ে চাঁদের কবর। নদীর তলায় জলের তৃষ্ণায় ডুবে যায় যন্ত্রণাকাতর মাছ, ছায়ার ভারে। 

মাঘের কুয়াশা গিলে খাচ্ছে তোমার রুমালের ভাঁজে লুকিয়ে রাখা ঐরাবতের ডানা ও যাতনা। কোথাও পঞ্চবটীর পাতায় লীন কবেকার গোপন হাহাকার! তোমার আঙুলে বিঁধে আছে গা-ীব সূঁচ। প্রতারক কালের মুখোশে হাসছে তোমার নদীর দেশ।

মধুমালা! তোমার রাত্রি যেমন দীর্ঘ, আমার তেমনই হ্রস্ব যদি জানো, কিছুই জানো না তুমি।

 

২০-০১-২৪

সংশ্লিষ্ট পোস্ট

কয়েকটি কবিতা
ওয়াহিদার হোসেন

কয়েকটি কবিতা

সকল দ্বিধা। ফেলে দিয়ে আস্তে আস্তে চলে আসি অন্ধকারে।এভাবেও ফেরা যায়।ফেরা কি সম্ভব?সাধুসঙ্গ টেনে আনে গার্হস্থের তুমুল আলোয়।দড়ি দড়া ছিড়ে ভেঙে পাখিও কি ফিরতে পারে পরিচিত শাখের জঠরে?

কবিতা৭ মে, ২০২৪
দুটি কবিতা
জ্যোতির্ময় বিশ্বাস

দুটি কবিতা

একা যে হাঁটছ যুবক এ বন পছন্দ বুঝি, ক'দিন এসেছ আগে শুনি বসো হেলান দিয়ে এই ফাল্গুনের ধ্বনি আর আগুনের পাশে বসে শুনি তোমার কথা সব

কবিতা৭ মে, ২০২৪
একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......
শ্রী সদ্যোজাত

একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......

ছেড়ে দেওয়ার পরেও কেমন যেন সে নয়ন আপন নয়ন হয়ে থাকে। কাছে থাকলে যদি অখিল স্রোতের বিড়ম্বনা আসে, একসময়ের পরিচিত একান্ত সংকেতগুলো হঠাৎ ঝড়ের মতন আবছা হয়ে আসে, ছেড়ে দেওয়ার পরেও সে কেমন একটা শিউলি শিউলি গন্ধ এই অবেলাতেও সারা গায়ে লেপ্টে রাখে,

কবিতা৭ মে, ২০২৪