১১ অক্টোবর, ২০২৬
সুবাইতা প্রিয়তির পাঁচটি কবিতা
সুবাইতা প্রিয়তির পাঁচটি কবিতা
১.
দান্তের দাহ করা দাঁত থেকে নরকের যে শাখানদী
উধাও করে দিচ্ছে প্রাচীন কবর,
সেখান থেকেও জেগে উঠছে একে একে নাভি।
প্রত্যেকে মুখস্থ শব্দ লিখতে উৎসুক তবে শ্বাপদের মুখে
গড়িয়ে চলেছে, এবং ঘটনাপ্রবাহের অভিলম্বে।
ধীর হয়ে যাচ্ছে আওয়াজের বেগ, শুধু যুদ্ধে বুদ্ধ!
কোটি শব্দ গুণোত্তর সম্ভাবনা নিয়ে আমার ভাবনায়
টেক্সটের সংগ্রাম, যেনবা ডিসকোর্সের আগে।
 
২.
গদারের পাশ দিয়ে যত আয়নার আলো
এখানে ঝলকায়, তার ধারাক্রম বৈষ্ণবী
চোখে ধাঁধা লাগলে করণীয়-
অস্পষ্ট তোমার উপস্থিতি; রোমান ঘ্রাণ। যেন কুস্তরিকা।
চলো বেতাল হাওয়ায় নস্টালজিয়া 
চলো ওড়া ঘুড়ি বনে ফুরফুরে
সিনেমার চোখ থেকে চোখ, দুইজোড়া রিলের ক্রমশ ঘূর্ণন।
বাতাবিলেবুর গন্ধে ভেজা সন্ধ্যায় জড়াজড়ি আলোর মুখোমুখি- যা অবশ্যম্ভাবী করে দিচ্ছে।
 
৩.
আমি আমাদের কথা ভাবছি।
আমার ভেতর সাতটা লোক আর সাতজন মন
একমনের কাছে কাঙালের বেশে
তুমি দাঁড়ালে,
অন্য মন সন্দেহ করে নিঃশ্বাসের।
কোনো মন নির্জন নিয়ে
যৌতুক ভাবে বাকপ্রদাহকে।
বিভিন্ন মন লোকেদের ভাষ্যমতে,
অধিক উথলায়, সমান,
মধুর প্রেম পেলে ঠিকই 
থামার বেলায় যে গোলযোগ 
একেক জনের এক এক মনে আসে।
চিন্তায় জ্বর আসে একজনের,
আমি বিড়বিড়ে বিড়াল বুকে করে
শুধু দেখি কাঁহাতক।
 
৪.
বুদ্ধ না হলে হয় না তবুও 
তপ্ত না হলে হয় না তবুও 
প্রমিতের মিথ্যাতে প্রথিতযশা দরবার তথাপি,
গল্প বলার হয়না কোণ।
 
আশ্বস্তের বাণী রুয়ে নিলো হৃদয় যেহেতু 
লাগামছাড়া উড়ান সস্তা 
দিস্তা দিস্তা কলম বেচে মুরতাদ
মুর্দা হয়ে বোধি গাছ হাতড়ে পুড়ছে।
 
তপ্ত না হলে হয়নি তখনো 
বুদ্ধ না হলে হয়নি তখনো 
মীন ফারাক পাচ্ছে বুকে
আত্মলীন বিবরে মুষড়ে।
 
লায়লার কথা বিভিন্ন রকম বয়
তদ্রুপ করুণ কম্পাসে মোড় ঘুরতেই স্মরণ 
বুদ্ধং শরণাং গচ্ছামি
অগ্গিং শরণাং গচ্ছামি
 
৫.
অধিকাংশ রোদ বাহিরে কোথাও,
অধিকাংশ জলসার বাইরে ঘনঘটায় কাব্য,
যথোপযুক্ত শিয়রের অভাবে
-ভাব মূর্চ্ছায় তথাপি হাতের ওম।
 
ধর্তব্যের বাইরে শর্তাবলী যা
যেন নিকটের পণ করেছে
অধিকাংশ রোদ বাহিরে এবং 
অধিকাংশ বিদায় অবেলায়।
 
প্রত্যয় নিয়ে জন্মে যত তালুক
ভৃত্যের বেশে ঘর মৃত্যুতে ত্যাগ করে; অন্তত পরে
ঘনঘোর হাতটান স্বভাবের ছলে
আগেই বাহিরবাড়ি না সরে।
 
অধিকাংশ রোদ বাহিরে কোথাও পড়ে,
অধিকাংশ মূর্ছনা বাজারফেরত কাঙাল,
উপরন্তু একাধিক হার গুণে প্রমাদের সঙ্গীন
কখনোবা চোখের 'পর রেখে গেছে ছায়া।

সংশ্লিষ্ট পোস্ট

কয়েকটি কবিতা
ওয়াহিদার হোসেন

কয়েকটি কবিতা

সকল দ্বিধা। ফেলে দিয়ে আস্তে আস্তে চলে আসি অন্ধকারে।এভাবেও ফেরা যায়।ফেরা কি সম্ভব?সাধুসঙ্গ টেনে আনে গার্হস্থের তুমুল আলোয়।দড়ি দড়া ছিড়ে ভেঙে পাখিও কি ফিরতে পারে পরিচিত শাখের জঠরে?

কবিতা৭ মে, ২০২৪
দুটি কবিতা
জ্যোতির্ময় বিশ্বাস

দুটি কবিতা

একা যে হাঁটছ যুবক এ বন পছন্দ বুঝি, ক'দিন এসেছ আগে শুনি বসো হেলান দিয়ে এই ফাল্গুনের ধ্বনি আর আগুনের পাশে বসে শুনি তোমার কথা সব

কবিতা৭ মে, ২০২৪
একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......
শ্রী সদ্যোজাত

একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......

ছেড়ে দেওয়ার পরেও কেমন যেন সে নয়ন আপন নয়ন হয়ে থাকে। কাছে থাকলে যদি অখিল স্রোতের বিড়ম্বনা আসে, একসময়ের পরিচিত একান্ত সংকেতগুলো হঠাৎ ঝড়ের মতন আবছা হয়ে আসে, ছেড়ে দেওয়ার পরেও সে কেমন একটা শিউলি শিউলি গন্ধ এই অবেলাতেও সারা গায়ে লেপ্টে রাখে,

কবিতা৭ মে, ২০২৪