
দরজা বন্ধ করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে হঠাৎ মনে পড়ল কিছুটা আগুন বুকপকেটে নিয়ে বেরোনো উচিত ছিল, এখন তবে থাক পেছনে ফিরে খুব একটা লাভবান কেউ কখনো হয়নি, খোলা হয়নি মশারির দড়ি, পাশের ঘরের বুড়োটা মরে পড়ে আছে তার দেখাশুনা করার দায়িত্বে যে মেয়েটা ছিল তার পেটের বাচ্চাটা আমারই কাছ থেকে হটস্পট নিয়ে কোরিয়ান না জাপানি কী যেন গান শোনে, সিঁড়ির ধাপ যতক্ষণে শেষ হবে বাচ্চাটা ভূমিষ্ঠ হয়ে যাবে, তারপর তাকে পড়তে হবে কীভাবে চুরি হয়েছিল কোহিনূর, অফিসে রোজ এক তৈলাক্ত আর একঘেয়ে আলুভাজা আর রুটি। মাঝেমধ্যে মনে হয় পরের জন্মে আলুভাজা আর রুটি হয়ে জন্মাবো, তবে স্বপ্নাদেশ আছে তামাক বিক্রেতা অথবা খৈনিওয়ালা হয়ে জন্মাবার, এইসব পরিচয় মানুষকে দিলে মানুষ আর মনে রাখে না, এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দেয়, মানুষের এক কান থেকে অন্য কানে নিয়ে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়ার মাঝখানে বসে থাকে ঘিলু, ঘিলুর ভেতরে ঘুরে আসার কোনও ট্রেন বা তৎকাল বা এসি কামরা কোনোটাই খুঁজে পাওয়া যায় না। রাজ্য পরিবহন বা পর্যটন দপ্তরের কোনও নথিপত্রে, আগেরবার সুন্দরবনে যাওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছিল কিন্তু বাঘের পেটে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা বা ইচ্ছে আমার নেই, তবে সুন্দরবন মানেই শুধু সুন্দরী গাছ, বাঘ আর বিধবাপল্লী নয়, ঠিক যেরকম নৌকা মানেই বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ নয়,
ইজরায়েল মানেই যেরকম দজ্জাল বা ডেভিডের স্টার নয়, হতে পারে ইজিপ্ট মানেও শুধু পিরামিড আর মমি নয়, হতে পারে আমার প্রেমিকা অন্য কারো সাথে গোপনে কথা বলে, হতে পারে সেই কথা অতটাও গোপন কিছু নয়, হতে পারে যার সাথে কথা বলে সে আসলে পুরুষই না, এই যে আমি পাশের ঘরের বুড়োটার সাথে কথা বলি না, এই যে আমি আজকাল সচরাচর নিজের সাথেও কথা বলি না, অসঙ্গতি যা কিছু শুধু রাতের বেলাতেই খোলা চোখে ধরা পড়ে তাদেরকে কী নামে ডাকতে হয় ইউটিউব বলে দেবে, হাতের খুব কাছে পৌঁছে দেবে অন্ধবিশ্বাস, ভীষণ রেগে উঠবেন আসিফ মইনুদ্দিন, আর তখনই পাশের বাড়ির বুড়োটার আয়ার হাত ধরে পালিয়ে যাবে খবরের কাগজওয়ালা ছেলেটি যে মাধ্যমিকের পর শুধু গাঁজা সিগারেট-গাঁজা সিগারেট করে সময় কাটিয়েছে,তারা বাড়ি ভাড়া নেবে নিউ আলিপুরে? আপনি জানেন নিউ আলিপুরে কত ভাড়া? অবশ্যই তারা চলে যাবে পৈলান থেকে আরও অনেক দূরে যেখানে এখনো খুব অল্প টাকায় শান্তিতে মাথা গোঁজা যায়,বাচ্চার ভেজা কাঁথা তারে মেলে দেওয়া যায়, চায়ের দোকানে বসে গল্প করা যায়-সস্তা বিস্কুট কুকুরের দিকে ছুড়ে দেওয়া যায়, হলদি নদীর কথা একান্তে ভাবা যায়, ওখানে কালশিটে তুলোর বালিশে মাথা যন্ত্রণার বাম লেগে থাকে, ন্যাপথলিন প্যাকেট থেকে গড়াতে থাকে খাটের তলায়,পুরনো ক্যালেন্ডার বলে ১৯৯৫ সালের গ্রীষ্ম-বর্ষার খবর, পেটের বাচ্চাটা তখনো ভূমিষ্ঠ হচ্ছে বা হয়ে গেছে এরকম একটা অবস্থা, তার মাথার কাছে রাখা আছে শহরের সব নামকরা স্কুলে ভর্তি হতে কত টাকা লাগে তার একটা সামান্য হিসেব, ওর মা দেহ ভেঙে ভেঙে ওকে শিক্ষিত করবে, শিক্ষিত হয়ে ও নিজের দেহ ভেঙে ভেঙে আরো অনেক গাছ হত্যা করে প্রচুর নাম যশ কিনে নেবে। একদিন স্বর্গরথ, অ্যাম্বুলেন্স এবং পুলিশের গাড়ি আমার বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াবে, একসাথে ডেথ সার্টিফিকেট এবং দেশদ্রোহী হওয়ার সার্টিফিকেট আমার শ্বশুরমশাইয়ের প্লাস পাওয়ারের চশমার মধ্যে দিয়ে নামজাদা উকিলের টেবিলের উপর আছড়ে পড়বে,
"তুমি কিছু করোনি তো এমনি এমনি তোমার বাড়িতে পুলিশ এসেছিল", এই ধরনের ফিসফিস...বিড়বিড় কানাঘুষো প্রতিধ্বনিত হবে দমদম গোরাবাজার থেকে
পিয়ংইয়ং পর্যন্ত এবং একটি ইঁদুর জুতোর এক টুকরো মুখে নিয়ে ছুট দেবে ল্যান্ডমাইন পোঁতা জনমানবহীন প্রান্তরের মধ্যে দিয়ে, চারিদিকে তখন ছাইয়ের বৃষ্টি হচ্ছে, গোটা সূর্যটা ঘুমিয়ে পড়তে চাইছে, সে ঈর্ষা করছে মানুষের বীভৎস্যতা দেখে, সে প্রত্যেকটা তারার কাছে গল্প করে নিষ্ঠুরতায় মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ হয়েছে এবং তৈরি করেছে এক সিঁড়ি-প্যারাডক্স ...
রাস্তায় নেমে দেখতে পাওয়া যাবে পাগলীর মাথার ফুল,
রাগ ভাঙা মেঘ গায়ে প্রচুর সুগন্ধি মেখে এক অজানা দম্ভে
এগিয়ে যাবে, সযত্নে লুকিয়ে রাখবে একান্ত নিজস্ব মানসিক অনিশ্চয়তা, আমি তাকেও চিনতাম বহু বহু দিন আগে, তখন আমি মহাকাশের দিকে নাক উঁচু করে চলতাম, আমার চারপাশ তখন পাঠাগারের মতো অচেনা অজানা, সব বৃক্ষ দিয়ে ঘেরা। রাজশাহী থেকে একটি মেয়ে এখানে পড়তে এসে আমার সাথে পরিচয়, আমাদের মধ্যে কী কথা হতো আজ খুব জানতে ইচ্ছে হয়, কোন দেশের গর্ভে সে চিরকালের মতো ডুবে গেছে, তার ঘর কীভাবে পুড়ে গেছে, তার উপাসনালয়ের থেকে গলে পড়ছে অসহিষ্ণুতা, পাঁচ পেয়ালা হৃৎকমল, চাপা আর্তনাদ পরিণত হচ্ছে এক একটা কারাগারে, কতটা উশৃঙ্খল
হতে পারে সময় যত বয়স বেড়েছে চাক্ষুষ দেখেছি-সাক্ষী থেকেছি, তবে এখন আর কেউ বলতে পারবে না এই যুগসন্ধিক্ষণ কোনও উল্লেখযোগ্য মরমিয়া
তৃষ্ণার্ত অপদেবীর জন্ম দিতে পারে না, আমি বলি খুব পারে, যৌনতার পরে রক্ত শুষে নিতে সক্ষম এই কামপাগলি সময়, মাথা ঘুরিয়ে ফেলে রাখতে পারে নিথর দেহ, উগ্র গন্ধে ভরিয়ে দিতে পারে সিংহাসন, সেই সিংহাসনের তলায় লুকিয়ে থাকা দুটি বেজি কুতকুতে চোখ নিয়ে মুখ তুলে তাকালে তাদেরকে দেখিয়ে দেব
কীভাবে পার করেছি যৌবন ও তার সবটাই খালি পেটে, আসলে তো শান্তির খোঁজে গেছিলাম জলাশয়ের কাছে আমরা দুটিতে স্বামী-স্ত্রী, আমরা দুটিতে পরনারী- পরশ্রী-পরপুরুষ-প্রতারক, ভাঙা সাইন বোর্ডের উপর
কথা হয়তো এখনো লেখা আছে, যার উপর তুমি এখন অ্যাসট্রে উল্টে দাও, দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে ফেলো বাদামের প্যাকেট, আত্মপ্রচারে সশব্দে বেজে বেজে ওঠে এক অভিমানী বাদ্যযন্ত্র যার গায়ে লেগে আছে মানুষের প্রাচীনতম বিষ, মায়ের মন্দিরের বার্ষিক চাঁদা, সারা দিনের ময়লার কালো পলিব্যাগ, গৃহস্থের সকালবেলার তাড়াহুড়ো, সেফটিপিন ও থুতু দিয়ে জোড়া তালি দেওয়া বিশেষ বিশেষ সব অভিযোগ, বাগানে বাগানে সব বিদেশি ফুল অবহেলিত, লাঞ্ছনা নামের এক নীহারিকা তছরুপ হয়ে যায় তার ইজ্জত, টুপ টুপ ডুব দিয়ে ওঠে মাছ, ভারী পায়ে এগিয়ে আসে সকাল, আয়নায় যে সমস্ত জলের দাগ এবং তার লবণাক্ত কৈফিয়ৎ, এইসব বুঝিয়ে দিতে চায় রাস্তার চাউমিনের দোকান, সামান্য অভিনেতাদের দল নেমে আসে রাস্তায় শিকারের সন্ধানে,
এখন আর কারুর মুখ দেখাতে লজ্জা নেই, কারণ মুখ ছাড়া এইসব মানুষ বাসে-ট্রেনে চলে ফিরে বেড়াচ্ছে,
আসলে তারা কেউই একে অপরকে চিনতে চায় না, চিনে ফেলার মধ্যে এক অদ্ভুত ক্ষয় লুকিয়ে আছে, ভোগ বিলাসিতার মধ্যে আরেক ক্ষয় ঘুড়ির সুতোর মতো টেনে নিচ্ছে-জড়িয়ে ফেলছে, তাই তো এই এড়িয়ে চলা, এমন স্বভাব গড়ে তুলবার নির্দেশ আছে উপর মহল থেকে, সমস্ত কলকাঠি নাড়ার মধ্যে যে দারুণ ক্ষমতা প্রদর্শন লুকিয়ে থাকে তার চর্বি দিয়ে তেলের প্রদীপ জ্বালায়
তারাই যাদের আপাত দৃষ্টিতে খুব সাধারণ মনে হয়,
অবশ্যই তারা বঞ্চনার শিকার, নিজেরাই নিজেদের প্রতারণা করে চলে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত, বাকি সময়টা তারা দিয়ে এসেছে রেলখালে, বেশ্যার খাটে, ব্যাংকের সুতোয় বেঁধে রাখা পেনে, মুদির দোকানের সামনের সারি সারি দাঁড় করানো সাইকেলগুলোর
নির্ভরতা হারানো টায়ারের উদ্দেশ্যে,
ইটের পাঁজায় লুকিয়ে থাকতে তারা পছন্দ করে, কাঁচামালের অঙ্গভঙ্গি করে চলে যায় তাদের, তাদের শুধু ঘেন্না অবাঞ্ছিত ময়লা মুখগুলো দেখলেই, অদ্ভুত এক ঘেন্না তাদের সারা জীবন তাড়া করে, তারা অনেক সাবান ডোলেও তা তুলতে পারেনা,
সংগঠিত অপরাধের মতো অটোস্ট্যান্ডে লাইন, পেট্রোল ডিজেলের গন্ধ নাকে নিয়ে চলে যায় যেখানে প্রাচীনকাল থেকে মূর্তি গড়া হচ্ছে, যার তলায় খুজে পাওয়া গেছে কয়লা আর এজরা পাউন্ডের দুঃস্বপ্নের জীবাশ্ম
সংশ্লিষ্ট পোস্ট

আমার রবীন্দ্রনাথ
রবীন্দ্রনাথ হলেন জ্ঞান ও বোধ। তোমাদের আঁচলে কি ? কি বাঁধা আছে ? জ্ঞান ও বোধ বেঁধে রেখেছো কেন ? আঁচলে চাবি গোছা।তার সাথে রবীন্দ্রনাথ।সকল মায়ের আঁচলে বাঁধা।সন্তান ছুটতে ছুটতে চলে এল।চোখে ঘাম।মুখে ঘাম।পায়ে ধুলা।ছেলে মেয়ের পৃথক গামছা।গামছায় ছেলে মেয়ে পরিস্কার হল। মা ওদের তো রবীন্দ্রনাথ দিলে না ? রবীন্দ্রনাথ গামছায় নেই।রবী আছেন আঁচলে।

রঞ্জিত কথা - শঙ্খ ঘোষ
রবীন্দ্রনাথের ‘জীবনস্মৃতি-র সেই কথা মনে পড়ে –‘আমাদের ভিতরের এই চিত্রপটের দিকে ভালো করিয়া তাকাইবার আমাদের অবসর থাকে না। ক্ষণে ক্ষণে ইহার এক-একটা অংশের দিকে আমরা দৃষ্টিপাত করি। কিন্তু ইহার অধিকাংশই অন্ধকারে অগোচরে পড়িয়া থাকে’। সেই অন্ধকারে এঁকে রাখা ছবিগুলো যা রঞ্জিত সিংহ’র ভেতরে একান্ত ব্যক্তিগত হয়ে থেকে গিয়েছিলো, আমি সেগুলোকেই আলোয় আনতে চেয়েছি। ‘রঞ্জিতকথা’ তাই।

গাছ
চুপ করে বসে থাক আর শোন। গাছেরাও কথা বলে জানলাম কাল। সকালে হাই তোলার মত করে গাছেরাও শব্দ করে শুকনো,ভেজা পাতাগুলোকে ঝেড়ে ফ্যালে সকালের প্রথম হাওয়ায়। তারপর একটু হাত পা নাড়িয়ে ব্যায়াম করে, সকালের রোদে। শুকনো ডালগুলোর মড়মড় আওয়াজ শুনলে বুঝবি।