২৭ জুলাই, ২০২৬
সুজাতা
সুজাতা

(১)

শুধু আমাকেই বলা হল কথা বলতে

শুধু আমাকেই বলা হয় লোনা জলে স্নান করে এসো

আমারই কপালে সিঁদুর গলায় মালা,কাপালিকের কাছে যাও

দেবতার পূজা আমারই অধিকার,শব্দ ধূপ ধূনা নিয়ে বসো

সকাল হলেই সাজি চিৎকার করে আগে ফুল ভরে নাও অপেক্ষায় আছে রাজা ইন্দ্র

মায়ের কপালে ঘাম কাঠ নেই আগুন অভিযান সেই

আমাকেই বলা হল হাড় জিরজিরে স্তন এখনই তোমার ক্ষধা

আমি মরিচিকা নিঙড়ে বার করে আনছি হাজার হাজার বছরের  ভালোবাসা।

 

সব রহস্যময় মাতার অধিকারে যদি এত অশ্রু,মা কেন কোটি বছর বৃক্ষ হয়েও কঙ্কালসার

পিতা মাকে একান্নপিঠ করার আগে ছাইভষ্মে কেন

মাকে জিজ্ঞেস করাই হয়নি তার দিনগুলো ঠিক কি

মায়ের মতো সুজাতাকেও বলা হল অনর্গল মিথ্যা কথা

কান্না না এলেও পিঁয়াজ কেটে যাও,যতক্ষণ না হবে সমুদ্রে সূর্যাস্ত।

 

সব প্রশ্নের উত্তর ছাগ শিশু জানে না

আমারও সমস্ত শরীর জুড়ে মাংস তেল মসলার জোগান

মাংসের ঝোলের সাথে ভাত বেশি

আমাকেও বলা হল আমারই দেহে পচন ধরেছে বলে আগেভাগে রান্না

সুজাতা আমি চিত্রকর এই দেখ এঁকেছি স্পর্ধা ভরে এক সিংহের ছবি

কবচকুণ্ডল চুরি করে নিলেও আমি অর্জুনের থেকে এখনো বেশি শক্তিশালী।

 

(২)

সুজাতা বুদ্ধকে বলল সবার বাড়িতে মৃত্যু আছে শোক আছে আপনাকে কে বলল

কয়েক শতাব্দী যোগাসনে থাকার ফলে মানব চরিত্রের বদল আপনার কাছে নেই

আপনার শরীর কারুকার্যে স্থির

আপনার চোখ অতীত বর্তমানের উদ্ধে

আপনি বাহনের মতো বহন করে চলেছেন পাহাড় জ্ঞান

হনুমানের মতো ভীষণ শক্তি,তবু

হে বুদ্ধ,আজকের মাঠ নদী পর্যবেক্ষণ করলে বলা যাবে না আপনাকে সন্ন্যাসজীবী।

 

বুদ্ধ তখনো নির্বিকার চোখে চোখে হাসি

হাজার হাজার বছর না খেয়ে থাকলেও বিশ্বাসে অটুট

মানব জীবনের ওঠানামা হত্যায় উজ্জ্বল ছিল

দিনগুলো ভয়ঙ্কর,রাতের পরিকল্পনা স্পর্শ করলে এখনো দেহের পতাকা অর্ধনমিত হয়

আমি লক্ষ কোটি ভ্রুণ হত্যা দেখেছি

তাই আমি নীরব হয়ে পড়েছি বজ্র বাতাস হতে পারি নি।

 

তুমি কি ঝড় কোনোদিন ছিলে বুদ্ধ ?

তার আগেই ঋণী হলে প্রতিশ্রুতির কাছে

মৃতের উপর তুমি দাঁড়ালে কালী ভর করল

তুমি শিব,মৃত্যু সত্য এই ভেবেই মৃত্তিকায় ছড়িয়ে দিয়েছ সরসে

নারী পুরুষ তাই মৃত্যুকেই অহরহ ডাকে, করুনার বিন্দু তোমার শরীরে ঝরে।

 

আমি সুজাতা নাটকের এক চরিত্র অনন্তকাল অভিনয় করে যাই

কখনো তো মনেই হয় না মৃত্যু কঠিন শব্দ

কতবার মরে যাওয়ার পরেও ভাত খেলাম

যারা জাগতে পারেনি তারাই বন্ধুহীন

হে বুদ্ধ যারা জাগতে পারে জাগিয়ে রাখে, তাদের কাছেই মৃত্যু নিয়ন্ত্রিত এবং মাত্র কিছুটা সময়।

 

(৩)

আমার বয়স কত,আমার মেরুদন্ড বেয়ে অনেকেই জানতে চাইল

আমার বয়স আমাকেই জানাতে হবে ?

নদীর বয়স জানা খুব সহজ,কুমিরের মতো চওড়া নদী এখন কেঁচো হয়ে বইছে

যে বাঘের ভয়ে জঙ্গলে যেত না কেউ সরতে সরতে বাঘই জঙ্গলের বাহিরে আছে

আমার পদচিহ্ন ছিল ভৃগুর বুকে,এখন ঋষিদের বুকে লোম বেশি

তবু সভ্যতা না পড়েই বলে দিলাম,আমার বয়স জন্ম কাহিনীর থেকেও লম্বা।

 

মায়ের আয়ু নব্বই,ক্ষীণ এক চেহারার কঙ্কালকে আগুনে তোলা হল

শ্মশান যাত্রী সূর্য সাঙ্গ হওয়ার আগেই বাড়ি

এক কেজি মাত্র কয়লা পড়ে ছিল

পাঁচ দিন পর সেই শ্মনানেই গিয়ে দেখেছি রাষ্ট্রে সেই কলয়াকেও ব্যবহার করার ভিড়

হে কন্যা,মৃত্যু কি আজীবন শুধুই অনুভব ?

 

মায়ের একমুঠো ছাই এই আমি,ভয়শূন্য হয়ে পৃথিবী পরিক্রমা করছি

মায়ের সন্তান কখনো হারিয়ে যায় না

আমি নদী হলে জল বালিতে উল্লাস

আমি ঈশ্বর হলে দেবতার বর দেবো

আমাকে বধ করলে তোমার গলায় নরমুণ্ড

সুজাতা,আমি শিব জল ঢাললে স্নান হয়

অযত্নে ফেলে রাখলে লতাপাতা গজিয়ে ওঠে

বিশ্বাস এই,যতদিন না তিনভাগ জল পানের উপযুক্ত হবে,ততদিন ধরিত্রী আগুনে জ্বলে পুড়েও মানব জাতির সাহায্য চাইবে।

 

(৪) স্মৃতি

স্মৃতি মরে গেলে মৃত্যুর মতোই দেহের বংশলতিকাও অদৃশ্য

আমি কার বাড়ি যাব !

একদল পাখি উড়ছে ডাক শোনা পাখি চেনা অসম্ভব

নদীর গহ্বরে কত অস্থি জমা,কোনটা মায়ের আর লেখা নেই

স্মৃতি হল ফলক,শেষ ফলক কবে জলে ফেলেছি ?

হাতড়ে বেড়ালে অনেক অস্থি পাব

স্মৃতি হারিয়ে গেলে আমার নিজের নাম ধাম লিপি ও স্বজন তো পরিচয়হীন।

 

মন্দিরে মন্দিরে দেওয়াল ও মেঝেতে অগ্নি এড়িয়ে রাখা থাকে কত পিতা মাতা

নর নারীও যেন পৃথিবীর শেষে পৃথিবী

কেউ দেখে কেউ হেঁটে চলে অবসাদ ঝরে

পায়ের তলা অফুরান শক্তি পাথরের মতো ক্ষয়ে ক্ষয়ে নাম গান পরিশ্রম চাপা পড়ে।

 

একসাথে প্রেম ও উদ্বেগ দেওয়ালে দেওয়ালে ছায়া মায়ার মরুভূমি

প্রেমও নেই উদ্বেগও নেই

আমি পড়ে আছি ডুমুর ফুল

কেউ দেখে না শোনে না পায়ের শব্দ

কে পিতা কে মাতা আমিই বা কে কোথায় ছিলাম

সুজাতা ক্যামেরা বন্দী হয়ে যা ছিল,ঘুমিয়ে পড়ার পর খোঁপা থেকে ঝরেছে শিমুল।

 

(৫)

এক বিপ্লবী একদিন গ্ৰামে এসে তার পদবী চাইল

রাজা রাজত্ব সকাল বেলায় যা ছিল এখন তো মধ্যাহ্ন

রাধার নুপূর নেই কৃষ্ণের বাঁশিও নেই

সাক্ষী দেওয়ার জন্য সেই যমুনা সরেছে কয়েক মাইল

সবার ঘর ভাঙা,যারা প্রেমের বিরোধী তারাও প্রেম দিতে ব্যস্ত ছিল

কে কোন সম্রাট এগিয়ে এসে পিছু হটে গেল, পাঁচ হাজার বছর পর উত্তরে সকলেই নবীন।

 

শ্মশানের ধোঁয়া ঘর অবধি আসে,খুঁজেও কুয়াশার মতো আবছায়া

আকাশের তারার দিক বদল

অন্ধকার ? তারও অহংকার নেই

পৃথিবী শান্ত দুটি তারার মাঝে পার্থক্য নেই

শোক ভেঙে সুখ চলেছে রক্তের ভিতর

যাও বন্ধু,এখানে কোনো বিপ্লবী থাকে না।

 

নীল সাগরে ঝাঁপ দিয়েছে অনেক সমুদ্রপ্রেমী

কেউ ফিরেছে কেউ ফিরে নি

নারী এতবার গর্ভ পরিবর্তন করল,তাকে জিজ্ঞেস করেও ব্যাথার পরিমাপ অজ্ঞাত

আজকের দিন আর পরদিন ভূমিকম্প না হয়েও কেউ কথা রাখে নি

তুমি কি জেগে আছো,এ প্রশ্নে সমস্ত গ্ৰাম শহর আশ্চর্য নিরুত্তর।

 

নিজেকে নিজে বলছি দরজার খিল খুলে দাও পৃথিবী ধোয়াতে কেউ এসেছে্

একমাত্র আমার শরীর চমকে উঠল বিপ্লবী না জেনে না দেখে

অগ্নি না থাকতে পারে ছাই তো আছে

এখন মধ্যাহ্ন সূর্যাস্ত আর কতক্ষণ

পৃথিবীর যা পরিবর্তন হয়েছে সবটাই কাম তাড়নায়

বিজ্ঞাপনের পাখি নদীটির লোনা জল খায়

ওঠো সুঠাম পুরুষের সন্ধান পাওয়া গেছে।

 

সুজাতা এই সময় আমাকে কথা দাও,এই বিপ্লবী যেন অভুক্ত থেকে ফিরে না যায় !

সংশ্লিষ্ট পোস্ট

কয়েকটি কবিতা
ওয়াহিদার হোসেন

কয়েকটি কবিতা

সকল দ্বিধা। ফেলে দিয়ে আস্তে আস্তে চলে আসি অন্ধকারে।এভাবেও ফেরা যায়।ফেরা কি সম্ভব?সাধুসঙ্গ টেনে আনে গার্হস্থের তুমুল আলোয়।দড়ি দড়া ছিড়ে ভেঙে পাখিও কি ফিরতে পারে পরিচিত শাখের জঠরে?

কবিতা৭ মে, ২০২৪
দুটি কবিতা
জ্যোতির্ময় বিশ্বাস

দুটি কবিতা

একা যে হাঁটছ যুবক এ বন পছন্দ বুঝি, ক'দিন এসেছ আগে শুনি বসো হেলান দিয়ে এই ফাল্গুনের ধ্বনি আর আগুনের পাশে বসে শুনি তোমার কথা সব

কবিতা৭ মে, ২০২৪
একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......
শ্রী সদ্যোজাত

একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......

ছেড়ে দেওয়ার পরেও কেমন যেন সে নয়ন আপন নয়ন হয়ে থাকে। কাছে থাকলে যদি অখিল স্রোতের বিড়ম্বনা আসে, একসময়ের পরিচিত একান্ত সংকেতগুলো হঠাৎ ঝড়ের মতন আবছা হয়ে আসে, ছেড়ে দেওয়ার পরেও সে কেমন একটা শিউলি শিউলি গন্ধ এই অবেলাতেও সারা গায়ে লেপ্টে রাখে,

কবিতা৭ মে, ২০২৪