শীত সংখ্যা, ১৪৩২

প্যারাডক্স
দরজা বন্ধ করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে হঠাৎ মনে পড়ল কিছুটা আগুন বুকপকেটে নিয়ে বেরোনো উচিত ছিল, এখন তবে থাক পেছনে ফিরে খুব একটা লাভবান কেউ কখনো হয়নি, খোলা হয়নি মশারির দড়ি,

অক্ষরেরা ফিরে এসেছে
একসময় বঙ্গগাঁও বলে এই শহরটি জুড়ে ছড়িয়ে ছিল বাংলা হরফের মেলা, সাহিত্যের সম্ভার। কত বড় বড় গুণীজনেরা দূর দূর থেকে আসতেন বই ছাপাতে। বইয়ের দোকানে ভিড় জমাতেন, দেওয়ালে আঁকা থাকতো কবিদের নাম ও কবিতা।

নীলাব্জ: অসমাপ্ত কবিতার মতো বিদায়
নীলাব্জ চক্রবর্তীর সেই পোস্ট— “হাসপাতাল চললাম। সম্ভবতঃ সামান্য কয়েক রাত। জীবনে এই প্রথম। ফলতঃ একটু নার্ভাস। প্রসঙ্গ, লিভার। জানানো হল। বেশী উদ্বিগ্ন হবেন না। আবার হতেও পারেন। যা ইচ্ছা।” (২০-০৯-২৫)

কোচবিহারের রাজ আমলের তাজিয়া এবং উত্তর প্রজন্মের শিল্পী এসরাফ হোসেন
কোচবিহারে রাজ আমল থেকে হিন্দু ধর্মের রাসযাত্রা উপলক্ষে যেমন রাসচক্র ব্যবহৃত হয়ে আসছে, ঠিক তেমনি ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষদের মহরমে তাজিয়া তৈরির রীতিও রাজ আমল থেকেই পালিত হচ্ছে। মহরমের তাজিয়ার সৃষ্টি রাসচক্রেরও পূর্বে।

অনলাইন আসক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মানবতার সংকট
২১শ শতাব্দীর মানুষ যেন এক অদ্ভুত দ্বৈতজগতে বাস করছে- একদিকে প্রযুক্তির বিস্ময়, অন্যদিকে মানবতার নিঃশব্দ মৃত্যু। আমরা আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত, তবুও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি একা। চোখে স্ক্রিনের আলো, কানে নোটিফিকেশনের শব্দ, কিন্তু মনে নিঃসঙ্গতার অন্ধকার।

রেড রেইন ১
ওই যে দূরে ওই জায়গাটা যা দেখাও যাচ্ছে না ভালো মত আমি ওখানেই যাচ্ছি আমার সামনে একটা পাহাড় একটা কৌতুহলী গুহা

অর্ঘ্য রায় চৌধুরীর দুটি কবিতা
বিকেলের আলো পড়ে এলে আমাকে পাবে না আর বালকের দল যেখানে খেলতে গেছে সেইসব মাঠে আমিও তাদের সঙ্গে সামিল হবো

ফয়জল অমির তিনটি কবিতা
সূর্যের ফাঁসির পর সব বিদঘুটে অন্ধকার। চেয়ে থাকি জানালার প্রতিটা ভাঁজে কখন পুড়ছে সকাল কখন পুড়ছে রাত

প্রস্থান
বিকেল হয়ে এলে সন্ধ্যার আগে আগে একদিন— বাসনা নিয়ে, অনন্ত উপেক্ষা নিয়ে হাসতে হাসতে ঘুমিয়ে যাবো। সারা রাত জেগে থাকবো দুঃস্বপ্নের ভেতর।

মিরাতুন নিসা ও কালনবিশ
কেউ গেয়ে ওঠে না হৃদয়ের গান। বৃষ্টি থামে, ছাতা নিয়ে বাড়ি ফেরে চরম সুবিধা ও জননেতা

তখন গোধূলি
আমি ও দেবদূত দেবদূত ও আমি হরতন,রুইতন খেলি আমাদের মধ্যে কখনোই আসেন না 'ঈশ্বর' নামের ব্রান্ড

শৌভিক দত্তের দুটি কবিতা
ইদানীং রঙ থেকে চিলতে সাবানখোদাই। ভাবনাকে পুষতে পুষতে জামদানী কাঠের চেয়ার। এলো। ছয় ছয়কারী গুলিয়ে ফেলছি অনেকদিন।

স্মৃতি রায়ের দুটি কবিতা
ঘুরছি এক ভ্রমে হলদে সাদার কদম হবো বলে । হাওয়ার খিলখিল থেকে নরকের বন্ধ দরজার কাছাকাছি গিয়েও তুমি ফিরে এলে ঈশ্বর হাতে ।

অভিজিৎ সরকারের কবিতা
দূর থেকে তাকিয়ে আছো প্রিয় মানুষেরা হেসে যাচ্ছো দীর্ঘ প্রহর হেসে যাও, হাসতে হাসতে উপহাস করো আমায় নিয়ে,

আড়াল
প্রেম তবু প্রেম নয়। আড়ালের কাব্য নিয়ে নিজেই লিখেছি কতগুলো মেঘদূত বসন্তদূতের কাছে।

দেবাশীষ সাহার চারটি কবিতা
প্রতিদিন সকাল-বিকাল ঝাড়পোঁছ ছাই দিয়ে ভিমসাবান দিয়ে ঘস্টে ঘস্টে ঝকঝকে তকতকে রাখতে হয় কাঁচ

শীতের সকালে
এই যেমন মাগরিব আর কলমিলতারা একই রেখায় নক করে জানালায়, সেই সাথে কাটা মুণ্ডঅলা ষাড়ের তড়পড়ানি চোখ মনে জাগে কারো, এমনই সমাজ গড়েছো মানুষ বিশ্বাস করে না আর নিজেদেরই বুক ধড়ফড়;

এমাঙ্গ আস
জ্বলন্ত জিরাফ আর নাই বিদায়, বিদায় তাকে কালো তুষারের প্রহরা ভেদ করে স্যান্টার স্লেজগাড়ি এদিকেই আসছে এবার মুঠোভরা ক্যান্ডি তার

যারা শুধু দিয়ে গেল
ঘন অন্ধকারে মা-ছেলে মুখোমুখি বসে৷ মা... সুমনা, ছেলে…. ঋজু৷ হঠাৎ ঋজু প্রশ্ন করে... আচ্ছা মা, মিলি পিসি মারা যাওয়ার পর বাবা এত কাঁদছিলেন কেন!

শাহিদ আনোয়ারের দুটি কবিতা
পূর্ণিমার আলোয় ঝলমল এক রহস্য, আকাশ যেন নুয়ে পড়েছে তার কাছে। নক্ষত্ররা কাঁপছে অদ্ভুত উত্তেজনায়, গভীর রাত পুড়ে যাচ্ছে তার তাপে।

কাঠবিড়ালী জীবন
ফটক পেরিয়ে একটা কাঠবিড়ালী দারুন কৌশলী ঝুলে থাকে সময়ের দড়িতে, তার নিচে ছায়া—

ঘূর্ণিবাতাসের কোরাস
নাভির ওপর দিয়ে হেঁটে যায় অদৃশ্য ঘূর্ণিবাতাস— তার পায়ের শব্দে হঠাৎ পিপীলিকার বুক উজাড় হয়, দু’একটা অণু হিম হয়ে পড়ে।

আবছায়া, যে শহর
যে ধীবর আমাকে পরিশ্রম শিখিয়েছিল, পাথরের খাঁজ থেকে তুলে এনেছিল স্ফীত ও কম্পিত শরীর, তার নগ্নতার প্রতি কোনো অভিযোগ নেই।

ভুল দিনের কাব্য
এখন কি ফিরে যাব? কোর্ট মোড় পর্যন্ত এসেছি এদিকে আজ রবিবার, পাখি নেই দীনবন্ধুতে নাটক আছে কিনা খতিয়ে দেখা হল না

অভিযোগ
তারপর কি হয়? দু'কদম লজ্জা পায় ইতস্তত রাস্তা খোঁজে বেপাড়ারার এতিম বাচ্চারা