পুজো সংখ্যা, ১৪৩৩

জন্ম দাগ
তোমাকে ভীষণ হিংসে হয় হ্যাঁ হ্যাঁ তোমাকেই তুমি অবাক হবে ভাববে গোত্র পরিচয়হীন একটা রাস্তার শিশুকে আবার হিংসে

চারটি কবিতা
সব সম্পাদকই কিছু পূর্ব- সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি রাখেন তার ম্যাগাজিনের মহামূল্যবান সম্পাদকীয় পাতায় এই যেমন কবিতায় রাজনৈতিক উশকানি থাকবে না থাকবে না ধর্মীয় বিদ্বেষ অনৈতিক যৌনতা

কবিতা লেখা যায়
বর্ষা নেমে এলে আমাকে ডেকে দিও তোমার উঠোনে। কাদা আর একহাঁটু জলে কবিতা লেখা যায়। অজস্র দারিদ্র্য নিয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত বজায় রেখে বেঁচে থাকা যায় তোমাদের মতো। আসলে ঐশ্বর্য ওদের উন্মাদ করে দিয়েছে। চাহিদার খেপামোতে বিবেকহীন।

"তুমি"হওয়ার একটা লড়াই
নতুন থেকে চির নতুন আগামীতে লেগে থাকা কথা কোনো অদৃশ্য গোপনে একাকী মিশে যায়

সেতু
আপনি কি এখানে কিছুক্ষণ থাকবেন? হয়তো! কলমটা কি একবার... হ্যাঁ,নিশ্চয়ই। বাবার পাশে,এলোকেশে উঁকি দেওয়ার ইচ্ছেটায় বিরতি দিলাম। ফেরার সময়,তোমার অসময় বুঝেও ঢাকনাটাও দিয়ে এলুম। কলমের ঢাকনা কাছে রাখলে নাকি ফেরত আসে।

এমরান হাসান এর কবিতা
ভুলে যাওয়া পথ শেখায় অরণ্য সুদূর... খসে পড়া বিবর্ণতায় চড়ুই— গান এঁকেছেে অঘ্রাণে দিন-রাত্রি— চন্দ্রপুকুর... মৃত ডাহুকের ঘর-গৃহস্থলী

নাম-কাটা ভোটার
এগোতে এগোতে একটি গোলাকার বৃত্ত চোখে পড়ে সদ্য আঁকা সাদাখাতায় তারপর জ্যামিতি বাক্স থেকে তরাক করে দাঁড়ায় বৃত্ত-আঁকা কম্পাস যেন মার্শাল

কালচিনির সুড়ঙ্গ
অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ। ডুয়ার্সে তখন শীত নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিকেল নামলেই চা বাগানের সারি সারি ঝোপের ওপর কুয়াশা জমতে শুরু করে। দূরে বক্সার পাহাড় অন্ধকার হয়ে আসে, আর জঙ্গলের ভেতর থেকে ভেসে আসে অচেনা পাখির ডাক। কালচিনির রাতের একটা নিজস্ব শব্দ আছে। ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা ডাক। পাতার ফাঁকে বাতাসের ঘর্ষণ।

মাতৃরূপেণ
মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গা একুশ শতকে মাতৃরূপেণ সংস্থিতা! আমরাই তাঁকে গড়ে তুলি

কাশ বনে
জলো ঘাসের জমিতে এইমাত্র পা ডুবিয়েছে ধূসর সারস পদ্ম শাপলায় মাখামাখি খেঁজুর কাঁটার বন দিনের রহস্য মাখা কালিসেন স্টেশন শালবনী থেকে বাঁকুড়া যতখানি পথ তারও বেশি আরাম থম ধরে আছে গোটা রেলপথ জুড়ে সরব উদ্বেগ সেতু থেকে সেতু গোলাপি রাখিবন্ধন

Bug out of the bag-Expedition of Mt.Jagatsukh
August 29, 2022 we drove to the Duhangan Weir Site a.k.a Khanaul and started our trek from there. We met the guide, assistant guide and rest of the support team on the previous day, tested the equipment and discussed the further planning. A ride out of Manali is pompy on the street wind,the long site of mountains with pavements soon turning into gravels as views of the Himalayas are ahead coming to foreview.

কয়েকটি কবিতা
ডিনার *** টলতে টলতে দরজায় কড়া নাড়ে পুরুষ। ড্রয়িংরুমে খিস্তির ঢেউ।

ঢাল বেয়ে বেয়ে
সকাল থেকে অফিসে নানা ঝামেলা যাচ্ছিল। প্রোডাকশনের ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডাউন, কোন থার্ড পার্টি সার্ভিসের সাথে যুক্ত হওয়া যাচ্ছে না। হাউকাউ লেগে গেছে কাস্টোমারদের মাঝে। বাসা থেকে রিমোট কাজ করি। তাই একের পর এক কল আর মিটিং-এ যোগ দিতে হচ্ছে। এদিকে বাচ্চাটা জ্বরের কারণে আজকে ইশকুলে যায়নি বলে পাশের ঘরে খেলছে। একটু পর পর কোন একটা কারণে বারবার চিৎকার চেচামেচি করছে। প্রচণ্ড বিশৃংখল একটা পরিস্থিতি। এপার্টমেন্টের নিচে রাস্তায়ও বেশ হৈহল্লা শোনা যাচ্ছে।

এক সূত্রে বাঁধা
সন্ধ্যেবেলা রাস্তায় পা রাখতেই একটি খরগোশ ছুটে পালিয়ে গেল— ভ্যাট থেকে মুখ তুলে তাকায় কুকুর ছানা, পাগলের হাতে ঢিল, রেল কামরায় গাদাগাদি, চুমকির ঘরে বাবু, ফোয়ারা, চুড়িদার ভাসে হাঁটু জলে, পড়াশুনা করে এগারো বছর,

সৃষ্টিসুখের উল্লাসে
এবার পাঁজরে রেখেছি তুরুপের তাস; তোমার সঙ্গে দাবা, খেলবো বারোমাস শীতার্ত দুপুরে; ইঁদারার পাশে ঘাস সবুজ থেকে সবুজতর; অন্য কোথাও চাষ

রাদ আহমদের তিনটি কবিতা
বিচিত্রতার মধ্যে দিলাম ছোট্ট লাউ পাতা আঁশযুক্ত সে নবীন এবং প্রবল ব্যঞ্জনায় তিরতির করে সাদা রোদে কাঁপা সাজানো শহরে একটু জ্যামিতি করতে পারলে সম্ভাবনা ফোটে মনে হয় চুলের চিকন ছোট্ট গুচ্ছ যা কপালের গায়ে লতানো লতায় ছোট পাতা হয়ে ফোটে এই যে দেখ কী সহজেই তুমি রূপকথা দিয়ে আবিষ্ট মহসিন রোড রূপবান নিয়ে রাস্তায় এসে পড়ে

সুবাইতা প্রিয়তির পাঁচটি কবিতা
দান্তের দাহ করা দাঁত থেকে নরকের যে শাখানদী উধাও করে দিচ্ছে প্রাচীন কবর, সেখান থেকেও জেগে উঠছে একে একে নাভি। প্রত্যেকে মুখস্থ শব্দ লিখতে উৎসুক তবে শ্বাপদের মুখে গড়িয়ে চলেছে, এবং ঘটনাপ্রবাহের অভিলম্বে। ধীর হয়ে যাচ্ছে আওয়াজের বেগ, শুধু যুদ্ধে বুদ্ধ! কোটি শব্দ গুণোত্তর সম্ভাবনা নিয়ে আমার ভাবনায় টেক্সটের সংগ্রাম, যেনবা ডিসকোর্সের আগে।

অনৈতিহাসিক
ফেনিয়ে ওঠা অনেক কথার প্রতিরোধে ছিনতাই হয়ে গেল–রূপকথা সংকলন!

সময় আমাকে শেখায়
বিষের বালি ভিতরে নিয়ে, মুখ বুজে নিরবে সহে যাওয়া শিখে নেয় আবুল হাসান ঝিনুকের কাছে। রাজা যায় রাজা আসে,পৃথক পালংক একা অন্ধকারে। নির্জন হাতে জীবনানন্দ, ছুঁয়ে দেয় মহাপৃথিবী,রুপসী বাংলার হৃদয়,

প্রকৃতির টান ও শহুরে জীবন
পথ চলেছে পথের মতো ।পথিক হাঁটছে ,পথেই কি তবে পাবে পথিক দুদন্ড শান্তি।এমনি এক বিকেলে সূদূরের উদ্দেশ্য ভ্রাম্যমাণ পথিক দাঁড়িয়ে দেখে অসীম রহস্যময় অনন্ত বিস্তারিত জলরাশির মধ্যে আলো আঁধারি খেলা।গঙ্গাবক্ষের এমন সৌন্দর্য মুহূর্তের মধ্যে শহুরে জীবনে ক্লান্ত, ক্ষয়িষ্ণু চলমান পথিক কে টেনে নেয় তার কাছে। শেষ বিকেলের আলোয় ঢাকা সূর্যাস্ত, নদীর কলতান, ভাসমান নৌকা,ছায়া নিবিড় সুশীতল স্নিগ্ধ প্রকৃতির রুপ,বিগত অনাগত কত ভাবনার মধ্যে মনকে গ্ৰাস করে।কি চাইলাম ,কি চেয়েছি কোথায় যাচ্ছি মুহূর্তের মধ্যে নিজের মনের মানুষের সন্ধানে খুঁজে ফেরে পথিক।

ল্যাংস্টন হিউজ (আমেরিকান কবি-লেখক ও সমাজকর্মী)
ল্যাংস্টন হিউজ লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়, পেন্সিল্ভেনিয়ায় পড়শুনা করেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্লেম রেনেসাঁসের অন্যতম একজন নেতা। তাঁর কর্মকাল ছিল ১৯২৬ সাল থেকে–১৯৬৪ সাল পর্যন্ত।

শৌভিক দত্তের তিনটি কবিতা
যখন বাকস্মৃতি নেই প্রতিমা আলোয় তোমার উজ্জ্বলতা পাঠাগার হয়ে ভেসে আছে সালোক সংশ্লেষের শেষে বন্ধু দাঁড়িয়েছে কোথাও চিরহরিৎ পাঠশালায় ফুটফুটে শিশুরা এসেছে, আর ক্ষমাকষ্টে তুমি

চিরকুট
অনেক দিন পর রীয়াংশুর সাথে মৈনাকের দেখা হলো। রীয়াংশু মৈনাকের ছেলে বেলার বন্ধু।একসাথে স্কুল, কলেজ আড্ডার আসর,এভাবেই দুজনের বেড়ে ওঠা। রীয়াংশু ভালো স্টুডেন্ট হওয়ায় বর্তমানে ভারতীয় রেলে কর্মরত। মৈনাক বাপের ব্যবসা নিয়েই পড়ে রইলো ধ্যারধ্যারে গোবিন্দপুরে। অল্প বয়সে পেকে যাওয়ায় বিয়েটা অনেক আগেই সেরে ফেলেছে সে। রীয়াংশু সিঙ্গেল, এখনও তার চার হাত এক করার সুযোগ হয়নি।মাঝে মাঝে হাওয়া বদলের জন্য মৈনাক ,অল্প সময়ে ব্যস্ততার ফাঁকে রীয়াংশুর কাছে থেকে সপরিবারে ঘুরে আসে। এবারও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। লোটাকম্বল বগলদাবা করে গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি হাজির হলো রীয়াংশুর বাসায়।

যখন রাত্রি নামলো
হাতের পাতায় রাত ঘনালো, বারান্দাতে একা উঠে যে যাবো অন্যকোথাও এমনটা কেউ নেই বসে আছি তারা খসা দেখছি উঠোন জুড়ে পায়ের নিচে শিকড় জন্মালো ডাকলো না কেউ এমন বহু রাতে। স্বপ্ন কোথাও নেই বলে আজ হাঁটতে গেছি ভুলে। হাঁটতে গেছি ভুলে?

আত্মপ্রজ্ঞার প্রহর
আমাদের জীবন রাস্তায় সারি বাঁধা লাইটপোস্টের মতন—কখনো বোধগম্যতার আলোকে উদ্ভাসিত সুস্পষ্ট জীবনপথ, আবার কখনো দুই আলোর মধ্যবর্তী এক অনিশ্চিত অন্ধকার; যেখানে পথ হারানোর ভয় আর নিজের অস্তিত্বের মুখোমুখি দাঁড়াবার নীরব স্তব্ধতা।

ক্ষয়
মাটি ক্ষয়ে যায় শরীর হয়ে খসে পড়ে তেজপাতা গাছেদের ছাল

ওয়াহিদার হোসেনের দুটি কবিতা
আগুন জ্বালানোর মতো বিস্ময় নিয়ে তোমাকে দেখি তারপর দৃশ্যান্তরে ক্রমে হাত পা