ভাষা দিবস সংখ্যা, ১৪৩২

আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস
দিনটি একুশে ফেব্রুয়ারী নত মস্তকে প্রাণের আবেগে আজ তাদের স্মরি করি বাঁচাতে সেদিন বাংলা ভাষার মান অকাতরে যারা সঁপে দিয়েছিল প্রাণ

শূন্যের স্থাপত্য
তুমি যেখানে আছো, ক্রমশ হাড়ের দিক থেকে ক্রমশ জলের— মাংস-প্রতি প্রণাম। সসাগরা হাওয়ার বাইরে জিভের মতো কৌতূহল অথবা কৌশল ভিজে গেছে।

মানুষের বন্ধন
আজ পূর্ণিমাI আকাশের বুক থেকে নেমে আসছে রূপোলি জ্যোৎস্নার স্রোতI সমগ্র প্রকৃতি যেন সেই উজাড় করা জ্যোৎস্না মেখে পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে। কলঙ্কহীন নিঝুম রাতের আকাশে কোথাও এতটুকু মেঘের চিহ্ন নেইI শুধু দু-একটা নিশাচর পাখি মধ্যরাতের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে মাঝে মাঝে ডেকে উঠছে।

আলিউজ্জামান মুদ্রার তিনটি কবিতা
বাতাসে ফাতেহা শুনি রিনিঝিনি কাঁপে খাদেজার ঢেউটিন রোদের ভিতর অপার হয়ে বসে আছে সুরেলা আয়াতখানি।

পাপজন্ম
নদী থেকে বয়ে আনি দুঃখ নিঃসঙ্গ স্মার্টজীবন অনুশাসনে জড় করে দ্বিতীয় শৈশব

নাজমুল হোসেন রিফাতের ৪টি কবিতা
ফেসবুকের মেমোরিসের তাড়নায়, আমার নরম-কোমল ঘুম ভেঙে যায়। আজকের দিনটা বিগত দিনে কেটেছে কীভাবে, তাই দ্যাখি যা দ্যাখার অভ্যাস করেছে এ মস্তিষ্ক স্মৃতির অভাবে। স্মৃতির অভাব! আয় হায়! আমার তো ঘুমই ভেঙে যায়— স্মৃতির তাড়নায়।

শিশির আজমের ৫টি কবিতা
শস্যের বাজারে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসি চাটবো শুকনো ঠোঁট তার আগে ঘরের দেয়াল ঘেসে তেতো সূর্য খিকখিক হাসে

খরস্রোতা
বৃষ্টি চেয়েছিলাম কুকুরটা জিভ বের করে বসেছিল শুকনো জিভে তারপর অনেকগুলো হেমন্তের রাত কুকুরটা ভেসে কোনরকম নদী পেরোল

লোকশিক্ষা প্রসারে লোকসাহিত্যের ভূমিকা
এই প্রসঙ্গে আলোচনা সূত্রে বলা প্রয়োজন যে লোকসাহিত্য কাকে বলে। ১৮৪৬ খ্রীষ্টাব্দে অ্যাথেনিয়াম পত্রিকায় এই শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন জন থমস। জার্মান শব্দ 'VOLKSKUNDE' থেকে 'FOLKLORE' শব্দটি এসেছে। যার মানে হল লোকজ্ঞান। সভ্যতার ধারাবাহিকতা হল folklore।

আর্টিকেল, বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠায় নারীর অবদান
সাম্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন, ' বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী,অর্ধেক তার নর।' বিশ্বজুড়ে সব মহৎ কাজে নারী-পুরুষ উভয়ের অবদান আছে। ভাষা আন্দোলনেও আছে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সমৃদ্ধ ইতিহাস।

গোসল
‘ও সলেমান দাদা, এ্যাটা সিঙ্গারা খায়ে যাও’ – ডাক দিলো কানু। ‘এখন কিছু খামো না রে, বাড়িত যায়ে আগে গোসল করমো। তারপর তোর খাওয়ার চিন্তে।’ - বৃদ্ধ বয়সের সলেমান বললো।

দূরে যেতে পারিনি
দূরে যেতে পারিনি, তাই এই মানুষ আমি, কতো সহজে নীরবতা হেসে উড়িয়েছি একাই, বুঝে ওঠার বেশ আগে। আর এভাবে দিন-রাত শুধু আড্ডাতে কাটলো,

শিশিরে ভেজা বর্ণমালা
রাজপথ এখনো সম্পূর্ণ শুকোয়নি— ফাগুন তার দহনময় কপালে কৃষ্ণচূড়ার লাল অক্ষর এঁকে শহরের ধমনিতে ছড়িয়ে দেয় রক্তিম স্পন্দন।

সঙ্গীতা মাইতির দুটি কবিতা
অকালসন্ধ্যা যেন লেগেছে ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে অজস্র নক্ষত্রের চোখ ঝুলে আছে তবু আমরা সেজেছি অন্ধ বাউল

শুধু একটা ভাষার জন্য
শুধু একটা ভাষার জন্য অচিন ওষ্ঠে অধর রাখা যায় শুধু একটা ভাষার জন্য অজ্ঞাত হাত ছুঁয়ে নিঃশঙ্ক থাকা যায়

পিয়াল রায়ের ৫টি কবিতা
রক্তারক্তি অগ্নিকাণ্ড খেলে যারা চলে গেছে আলো পরবর্তী গ্রহে ভালোমনে আজ তাদের ছুটি উদযাপন করো স্মৃতিভঞ্জন হোক

বাঘিনীর ডানা
এই জ্বলন্ত ঘরে আমি আর থাকতে চাই না, অথচ যারা ভালোবাসে আমায়, তারা এই আগুন দেখতে চাইছে না। পথের ধারে একটা বেঞ্চ, ওখানেই সবাই বিশ্রাম করে।

নসিব
অঙ্ক কষে মানুষ পাওয়া যায় না, তবু মানুষ কিন্তু অঙ্কই কষে যায়। সকালবেলা জানালার ধারে বসে সম্ভাবনার অঙ্কগুলো কষতে কষতে ভাবছিল শুভ। এম এস সি পাশ করল দুবছর হল। চাকরি বাকরি এখনো পায় নি, চেষ্টা করে যাচ্ছে। চেষ্টার চক্করে অনেক বন্ধু বান্ধবী দূরে চলে গেছে। একটা সময় পর "চেষ্টা করছি" এই শব্দটা কাঁটার মত বিঁধে। শুভ ও সেই কাঁটা নিয়ে বেঁচে আছে।

বাস্তব
মনে পড়ছে তোমাকে। ভূমিকম্পের শেষে ধ্বংসস্তূপ থেকে --- যে হাত টা বাড়িয়ে ছিলে। সেটা চাপা পড়ে গেছে , জরাজীর্ণ পুরোনো সভ্যতার অবশেষে।

নুরুল হাসানের তিনটি কবিতা
চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতেই পারি রাজা তুমি বেইমান, রাজা তুমি মিথ্যেবাদী। কিন্তু বলব না, কারণ আমি সংসারী। সংসারের জন্য বাঁচতে হবে আরো কয়েক কুড়ি বছর

সম্পাদকীয়
দৃশ্য তৈরী হচ্ছে।মোমবাতির মিছিল ক্রমে পরিণত হচ্ছে বড় প্রতিবাদে।ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে।

শ্রীমন্ত দাসের দুটি কবিতা
একমাত্র তুমিই সেদিন বলেছিলে, এতটা শয়তান আমি কাউকে দেখিনি। আমি বলেছিলাম সত্যি!! মাসখানেক পর তোমার কথা রেখে, ফিরে এলাম যখন তুমি বললে- তুমি এতটা ভয়ঙ্কর?

ওয়াহিদার হোসেনের দুটি কবিতা
গতজন্মের কথা মনে পড়ে বালতি থেকে জল তুলে বাবা গায়ে ঢালছেন মা দূরে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ তাকিয়ে আছে। আমি স্বপ্নে যতবার এরকম দৃশ্য আঁকি

ইদন গুঙ্গি
নাচোল স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে নেমে উত্তর দিকের হাঁটা পথ ধরলেই পিঁপড়াডাঙার রাস্তাটা পাওয়া যাবে৷ সেই রাস্তা ধরে কিছুদূর এগিয়ে গেলে পড়বে অত্র এলাকার সবচেয়ে পুরাতন গোরস্তান। যারা শর্টকার্ট রাস্তার ভুখা তারা দুপ্পহার কী—তেপ্পহার কী গোরস্তানের পাখি ডাকা নিঝুম রাতেও এই রাস্তা ব্যবহার করে

শুষ্কতার ক্লান্তি
শীত গিয়ে বসন্তের আগমন -এ যেন ঋতুর শ্বাসবদলের সময়। রাতের কুয়াশার চাদর ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়, তবে রোদে এখনো উষ্ণতার পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শীতের প্রাবল্য কমে এলেও, শুষ্কতা এখনো অজেয়। তার রাজত্ব প্রকৃতির প্রতিটি স্পর্শে পরিলক্ষিত হয়। শুষ্কতার প্রাবল্যে প্রতিটি গাছ তার প্রাণশক্তিদায়ী পাতা ত্যাগ করতে বাধ্য।

শৌভিক দত্তের দুটি কবিতা
মুঠো ছবি খুলছে। পর্দার নানা ব্যবহার। শিকারীরা এখনও স্বচ্ছ নয়। জেনে আমাদের ক্ষমা থেমে আসে। এক লুপ্তপ্রায় ভাষা তোমায় আগুন শেখায়। আকাশে উঠোনরঙা চাঁদ অথচ মাটির কোনও স্বেচ্ছাসেবক নেই।

নষ্ট প্রলাপ
আসলে যে কোন কেস গুবলেট করে দিতে গেলে যে কৌশল প্রয়োজন বুক চিতিয়ে বলবো না সব আমার ডিকশেনারিতে ডিজাইন করা ব্যাপার হলো ঝুপ করে মাঝ বরাবর চালকুমড়ো বলি দিয়ে দুফাঁক করার কায়দা যেমন রপ্ত হতে অপেক্ষারা চাদর বুনে ফ্যালে তেমন বিনা চষে আপন করতে পারাটা একটা আর্ট

নাফিসা মিদ্যার দুটি কবিতা
যে ভাষায় পাহাড় চোখ মেলে তাকিয়ে থাকে মেঘাচ্ছন্ন আকাশের দিকে যে ভাষায় জননীর গর্ভে শিশু প্রথম নাড়ীর টান চেনে যে ভাষায় নগ্ন মনের সব অন্ধকার উন্মুক্ত হয় ঈশ্বরের আগে